মো. আব্দুল মান্নান
১৪৬, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সাবেক এমপি ধারা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের কার্যকরী কমিটির সভাপতি সাবেক প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এমদাদুল হক মুকুল তার একমাত্র পুত্র একই আসনের বর্তমান এমপি মাহমুদুল হক সায়েমকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, বাবা, তুমি তোমার এই হাত এমনে করো না, হাতটা এমনেই রাইখো। হাতের তালু উপরের দিকে করে মানুষ মানুষের কাছে যেভাবে চায় সেই দৃশ্য দেখিয়ে তা না করতে ও হাতের তালু নিচ দিকে করে অর্থাৎ মানুষ মানুষকে কিছু দিলে বা দান করলে হাতের যে দৃশ্য হয় তা দেখিয়ে বেশি বেশি দান করতে নিজপুত্র নবনির্বাচিত এমপি সায়েমকে উপদেশ দেন সাবেক এমপি এমদাদুল হক মুকুল। ১৩ ফেব্রুয়ারি হালুয়াঘাটের ধারা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন ও নবনির্বাচিত এমপিকে সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সাবেক এমপি এমদাদুল হক মুকুল তার একমাত্র সন্তান বর্তমান এমপির প্রতি ইশারা করে বলেন, এমপি সাহেব জন্ম অধিকারের ক্ষেত্রে হবেন হোস্ট। তিনি গেস্ট না। তিনি হোস্ট। আমি এলাকার একজন ভোটার হিসেবে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। তুমি তোমার যে মানবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছ তা চালিয়ে যাও।
এসময় পুত্রকে আসলে কি বানাতে চেয়েছিলেন তা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি চেয়েছিলাম যে, তুমি একজন আইন বিশারদ হবে, আইনজ্ঞ হও। আইনজীবী পদে যোগদান কর কিন্তু তোমার আইন শিক্ষা গেলো মানুষের কাতারে। যা হোক, তুমি এখানেই সার্থক হও। আমার পরিবার, আমার বাবা, এছাড়া আরও আগে যারা ছিলেন তারাও এই গণমানুষের কাতারেই ছিলেন। তাদের থেকে আমি, আমার থেকে মাহমুদুল হক সায়েম।
এরপর উপস্থিত জনগণের প্রতি লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আপনারা তাকে সহযোগিতা করেছেন। আরও করবেন। এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তার প্রতি আমার পরামর্শ থাকলো, উপদেশ থাকলো : তোমাকে তো আল্লাহ তায়ালা কম দেয়নি। তোমাকে আল্লাহ তায়ালা অনেক দিয়েছেন। তোমার তো কারো কাছে হাত পেতে খাওয়া দাওয়ার দরকার নাই। তোমার হাত তো এইভাবে (হাতের তালু উপর দিক করে দেখিয়ে) বাড়াবে না। তোমার হাত থাকবে এইভাবে। (হাতের তালু নিচ দিক করে অর্থাৎ দান করার প্রতি ইঙ্গিত করেন) এই হাত দিবে; এই হাত নিবে না। যে হাত কখনো নেয় নাই, যে হাত শুধু দিয়েছে, তুমি সেই ভূমিকা রাখবা৷ তুমি একা একশ একরের বেশি জমির মালিক। ময়মনসিংহ শহরে অনেক বড় দালানের মালিক। গ্রামের বাড়িতে ৫-৭ একর জমিওয়ালা বাড়ির মালিক। তোমার তো হাত এইভাবে (উপরের দিকে চাওয়ার দৃশ্য দেখিয়ে বলেন) করার দরকার নাই। তোমার হাত এইভাবে (দান করার দৃশ্য দেখিয়ে) থাকবে।
তুমি ৫-১০ হাজার মণ ধান বিক্রি কর বছরে। ৫-১০ হাজার মণ ধান ওই যে একটা গাড় বাড়ি ছাড়া এই অঞ্চলে কার আছে বলেন? -নাই। এজন্য হাত এমনে (উপরমুখি) করো না। হাতটা এমনেই (নিচমুখি) রাইখো। এই আমার উপদেশ থাকলো।
এসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ তাসারফ হোসেন ফরাজী, হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কবিরুল ইসলাম বেগ, ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তুষ চন্দ্র বিশ্বাস বাবুল, ধোবাউড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।