• শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
১১ দলীয় ঐক্য জোটের অন্যতম নেতা মামুনুল হকের তারাকান্দা ও ধোবাউড়া সফর সাংবাদিক ইমনের বাবার জানাজা সম্পন্ন : দোয়ার দরখাস্ত ‘একই বুথে দুইজনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন না’- ইউএনও, ফুলপুর মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেলেন ফুলপুরের দুই মুরুব্বি ময়মনসিংহে নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা ময়মনসিংহ-২ আসনে কারাগারে আটক পিতার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন কন্যা কাশফী ময়মনসিংহ-২ আসনে হাতপাখার পক্ষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই ময়মনসিংহ-২ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য জোট প্রার্থী মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর রিকশা প্রতীকের পক্ষে বিশাল মিছিল ময়মনসিংহ-২ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য জোট রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে তারাকান্দায় বিশাল মিছিল ফুলপুরে হাফেজ নাজমুল ইসলাম আর নেই

মিশুক রিক্সা চালক হাসেম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, রিক্সা উদ্ধার ও ৪ ঘাতকসহ গ্রেফতার ৭

Reporter Name / ১৪৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান

ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদীন পার্কে মিশুক রিক্সা চালক হাসেম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, লুন্ঠিত মিশুক রিক্সা উদ্ধার ও ৪ ঘাতকসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা এ তথ্য জানায়।

জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে ময়মনসিংহ  কোতোয়ালী মডেল থানাধীন জয়নুল আবেদীন পার্ক সংলগ্ন সিভিল সার্জনের বাসভবনের উত্তর পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের কিনারায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা রক্তাক্ত একটি লাশ পাওয়া যায়। পরে অজ্ঞাতনামা এ লাশের আত্মীয়রা লাশটির পরিচয় সনাক্ত করেন। ভিকটিমের নাম হাসেম মিয়া (২৯)। তিনি কোতোয়ালী থানার দাপুনিয়া কলাপাড়া গ্রামের  মৃত জহির উদ্দিন ওরফে জহুর উদ্দিন ও আম্বিয়া খাতুনের পুত্র; যিনি পেশায় একজন মিশুক রিক্সাচালক। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করলে বিষয়টি  ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞার  দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ঘটনার রহস্য উদ্ঘা্টন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তারা কোতোয়ালী ও গৌরীপুর থানা এলাকা হতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ফুলপুর থানার বাতিকুড়া গ্রামের আইনুদ্দীন ও হাজেরা খাতুনের পুত্র আলমগীর (২০), তারাকান্দা থানার কামারিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ এখলাস উদ্দিন ও রোমেলা খাতুনের পুত্র  রাকিবুল হাসান তপু (৩০), একই থানার হরিপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার ও মৃত খোদেজা ওরফে হামিদা খাতুনের পুত্র রাকিব হাসান ওরফে রাকিবুল ইসলাম (২১) ও টাঙ্গাইল কালিহাতির রামপুর গ্রামের বর্তমানে ময়মনসিংহ মাসকান্দা এলাকার আরিফের বাসার ভাড়াটিয়া জেহার আলী ওরফে মনির ও পারভীন আক্তারের পুত্র আরাফাত হোসেন বাবু (২৭)কে  গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আসামিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ  হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত মর্মে জানিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে ধৃত আলমগীর, রাকিবুল হাসান তপু, রাকিবুল, আরাফাত হোসেন বাবু ও পলাতক অপর একজনসহ মোট ৫ জন একত্রে শম্ভুগঞ্জ ব্রীজ স্মৃতিসৌধের মাঠে বসে একটি অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক রাত আনুমানিক ১২ টার সময় তারা শম্ভুগঞ্জ ব্রীজ হতে ভিকটিম হাসেমের মিশুক রিক্সা ভাড়া করে সার্কিট হাউজ মাঠে নিয়ে যায়। তারপর সার্কিট হাউজ মাঠে দাঁড়িয়ে মিশুক রিক্সা চালক হাসেমের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে তারা এলোপাথাড়ি মারপিট করে বেড়িবাঁধের নিচে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। ধৃত আলমগীরের কোমরে পরিহিত বেল্ট দিয়ে ধৃত রবিন ভিকটিমের পা বাঁধে এবং গেঞ্জি দিয়ে আরাফাত হোসেন বাবু ভিকটিমের হাত বাঁধে। আরাফাত হোসেন বাবু ভিকটিম হাসেমের পরিহিত চাদর দিয়ে তার মুখ বাঁধে এবং সবাই মিলে তাকে মাটিতে চেপে ধরে রাখে। এরপর আরাফাত হোসেন বাবুর পকেটে থাকা চাকু দিয়ে পলাতক রবিন ভিকটিমের বুকে ও পেটে একাধিক আঘাত করে এবং তাকে মাটিতে ফেলে রেখে সবাই দ্রুত ভিকটিমের মিশুক রিক্সাটি নিয়ে শম্ভুগঞ্জ ব্রীজ এলাকায় গিয়ে ধৃত আলমের কাছে নগদ ৩৪ হাজার  টাকায় বিক্রি করেন। পরে মিশুক বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে। এ ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ৪ জনসহ মিশুক ক্রয় বিক্রয়ের সাথে জড়িত আরো ৩ জন যথাক্রমে  ফরহাদ (৩১), সুমন শেখ (৩৫) ও আলম (৪০)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃত আসামী আলমগীরের বিরুদ্ধে ০১টি হত্যা মামলা, রাকিবুল হাসান তপুর বিরুদ্ধে ০১টি হত্যা মামলা, রাকিব হাসান ওরফে রাকিবুল ইসলাম (২১) -এর বিরুদ্ধে ০১টি চুরি মামলা,  আরাফাত হোসেন বাবু (২৭) -এর বিরুদ্ধে ০১টি হত্যা ও ০১ টি চুরি মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাকিবুল ইসলাম তপু চরপাড়া মেডিকেলের সামনে সংঘটিত শরিফ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামী ছিলেন। ওই মামলায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছিলেন এবং ১৯ মাস জেলে থেকে গত ২ মাস আগে জামিনে বের হন। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ফারুক হোসেন বলেন, পলাতক আসামী গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা