মো. আব্দুল মান্নান
বিয়ের মাধ্যমে মো. মহিদুল ইসলাম ওরফে মইদুল (২৭)-এর প্রতারণার শিকার হয়েছেন গ্রাম গঞ্জের সরলমনা ১৩ নারী। আজ শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার উদ্যোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।
পুলিশ জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এমএলএসএস পদে চাকরি করতো মইদুল। ২ বছর চাকরির পর বিধি বহির্ভূতভাবে বাল্যবিবাহ করার অপরাধে সে চাকরিচ্যুত হয়। এরপর সে প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে বিবাহকেই বেছে নেয়। এক এক করে করে ১৩ বিবাহ। মানিকগঞ্জে ৩ জন, টাঙ্গাইলে ৩ জন, কিশোরগঞ্জে ১ জন ও ময়মনসিংহে ৬ জনকে সে বিবাহ করে। বিজিবি থেকে চাকরিচ্যুত এক সদস্য এ কাজে তাকে সরাসরি সহযোগিতা করে বলে জানায় পুলিশ। এসব বিবাহের মাধ্যমে সে শুধু তার কুপ্রবৃত্তিই মেটায়নি বরং অর্ধ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক। এ চক্রের মূলহোতা মইদুলসহ ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তাদের নিকট থেকে ভূয়া আইডি কার্ড, বাহিনীর ব্যবহার্য ট্রাকস্যুট ও ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৫ জনকে আসামি করে জনৈকা ভিকটিম ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সুপার বিষয়টি আমলে নেন এবং তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন। তার নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতা মহিদুল ইসলাম ওরফে মইদুল ও তার সহযোগী কুদ্দুস আলী (৩৫)-কে গ্রেফতার করে। মইদুল মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার চরকাটারী (আহেদালী পাড়া)র মোহাম্মদ আলীর পুত্র আর কুদ্দুস আলী ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার নগুয়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তারাকান্দা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি কুদ্দুছসহ অন্যান্যরা কখনও ঘটক বা কখনও মহিদুলের নিকট আত্মীয় হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে অভিভাবকদের বিশ্বাস অর্জন করাতো এবং প্রতারণার অপকৌশল বাস্তবায়নে সংঘবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করতো। পুলিশ জানায় মহিদুলের এ প্রতারণার ফাঁদ থেকে রেহাই পায়নি প্রতিবন্ধী নারীও। জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ফারুক হোসেন জানান, আসামি মহিদুল ও অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে জামালপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান।