মো. আব্দুল মান্নান
পীর মানে আল্লাহ তায়ালাকে পাওয়ার পথ দেখানেওয়ালা। পীর সাহেব বলতে বুঝা যায় যে, তিনি খুবই আল্লাহওয়ালা মানুষ। উনাকে অনুসরণ করলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানে কামিয়াব হওয়া যাবে বা নাজাত পাওয়া যাবে। তিনি প্রতিনিয়ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো বটেই বরং সুন্নাতী সব আমল করবেন। যিকিরআযকারসহ দীনি নানা কাজে সদা নিজেকে ব্যপৃত রাখেন। দীনি কাজ আঞ্জাম দিতে দিতে আল্লাহ তায়ালার সাথে তার গভীর সম্পর্ক হয়ে গেছে। আল্লাহ তায়ালাকে কিভাবে পাওয়া যায় এসব পথ তার জানা হয়ে গেছে। এখন তিনি অন্যদেরকেও আল্লাহ তায়ালাকে পাওয়ার পথ দেখাতে পারেন এমন ব্যক্তিকেই সাধারণত: পীর বলা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে এমন কিছু লোক পীর দাবি করেন যারা পাঁচ ওয়াক্ত পর্যন্ত সহীহ ও সঠিকভাবে পড়তে পারেন না এবং তাদের ভক্তদেরকেও সেভাবে পড়তে দেখা যায় না। অথচ তারা কিন্তু সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে যারা প্রকৃত দীন ধর্ম বিষয়ে অজ্ঞ তাদেরকে ধোকা দিয়ে পীর দাবি করে যাচ্ছেন। তারা সমাজে দীন প্রতিষ্ঠায় কোন ভূমিকা না রেখে মানুষকে নামাজ, পর্দা পুশিদা ইত্যাদির দাওয়াত না দিয়ে বরং ওরছের নামে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছেন। বেগানা নারীদের দিয়ে গান বাজনা করাচ্ছেন। এসব বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উলামায়ে কেরাম। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাদ মাগরিব ফুলপুর উলামাদের পক্ষে ৫ সদস্যের একটি টিম ওই রকম ওরছ করনেওয়ালা একটি দরবারের খলিফা ও খাদেমকে দাওয়াত দেন। ৫ সদস্য বিশিষ্ট উলামাদের মধ্যে জিম্মাদার ছিলেন আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মেরাজুল হক দামাত বারাকাতুহুম, ছনকান্দা বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন, বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মাইন উদ্দিন, উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মুফতী আতাউল্লাহ ফকির ও শেরপুর রোডের বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান। এসময় শায়খে বালিয়ার খলিফা পীরে কামিল শায়খুল হাদীস মুফতী আজিমুদ্দীন শাহ জামালী, বাইতুল কুরআন হাফিজিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মুফতী ইখলাস উদ্দিন, মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাসুক, হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা ইলিয়াস আহমদ, বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সানি ইমাম হাফেজ মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, থানা মসজিদের ইমাম সাহেবের নাতিসহ অনেক উলামায়ে কেরাম বাসস্ট্যান্ড মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। দরবারের খাদেমদের নিকট গিয়ে উলামাদের পক্ষ থেকে আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মেরাজুল হক দামাত বারাকাতুহুম সালাম ও কুশল বিনিময়ের পর বলেন, শুনলাম আপনারা প্রতি বছর একটা অনুষ্ঠান করেন। তো এটাতে আমাদেরকে দাওয়াত দিলেন না তো! জবাবে দরবারের খাদেম বলেন, এটাতে দাওয়াত দিলে ভেজাল আছে। ইমাম সাহেব বলেন, কেন? আপনারা আমাদের পিছনে নামাজ পড়েন, আপনারা আমাদের সমাজের লোক আমাদের সাথেই সবসময় চলাফেরা, তাহলে ভেজাল কি? তিনি বলেন, এটাতে দাওয়াত দিলে আপনারা আসবেন না। এখানে মিলাদ কিয়াম হয়। গান বাজনা হয়। এটাতে আপনাদেরকে দাওয়াত দেওয়া যাবে না। ইমাম সাহেব বলেন, যে কাজটাতে আলেম উলামাদের দাওয়াত দেওয়া যায় না এরকম কাজ আপনারা করেন কেন? তখন তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে এসব হয় তা তুলে ধরেন এবং বলেন যে, আমরা কাওয়ালী গাই। আপনারা তো এটা গাইবেন না। এসময় ইমাম সাহেব বলেন, কাওয়ালী যেভাবে গাওয়া জায়েজ সেভাবে তো আপনারা গান না। খাজা মুঈন উদ্দিন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার কিতাবে লিখে গেছেন যে, বাদ্যযন্ত্রসহ কোন কাওয়ালী গাওয়া যাবে না। কাওয়ালীতে থাকবে আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রশংসা। যারা গাইবেন তাদের দাঁড়ি থাকতে হবে। নর্তকী নাচিয়ে নয়। এছাড়া এটাতে কোন প্রবঞ্চনামূলক কথা বার্তা থাকবে না। যা বলা হবে সব সত্য হতে হবে। এসব কথা বলার পর দরবারের খলিফা বলেন, গানটা আমরা করতেছি না। লোকালি কিছু লোক এটা করতেছে। আমরাও গানের পক্ষে না। আমরা এটাতে জড়িত না। আমরা চেষ্টা করবো আগামী বছর যাতে এটা আর না হয়। এসময় খাদেম বলেন, এটা আমরা কথা দিবার পাইতাম না যে আগামী বছর আর হবে না। আমরা মারফত অনুযায়ী চলি। তখন ইমাম সাহেব বলেন, মারফত অনুযায়ী তো আমরাও চলি। এটা কি আলাদা নাকি? খাদেম বলেন, হ্যাঁ, এটা আলাদা। এটা আপনাদের সাথে মিলবে না।
এর আগে দরবারের খলিফা খুব ভাল কথা বলেছেন যে, গান বাজনাটা আমরা করি না। অন্যরা করে। তখন আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, কিন্তু তারা তো আপনাদের নাম ব্যবহার করতেছে। এই ফাঁকে বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান দরবারের খলিফাকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনারা এটা সাপোর্ট না করলেই হয়। তখন খলিফা বলেন, আমি সাপোর্ট করলে আপনার সমস্যা কি? কালকে গান অইছে ফিরালেন না কেন? পরশু প্রোগ্রাম অইছে বন্ধ করলেন না কেন? তখন তিনি বলেন, আপনি যেহেতু পীর সাহেব, এজন্য বলছি। এটা তো আপনার সাথে যায় না। হ্যাঁ, বুঝছি আপনি কি জন্য কি কইতাছুইন। এটা আপনার কাছে জওয়াব দেওন লাগদোনা। আল্লাহর কাছে দিমু। একথা আপনি বলার কে? আপনি পারলে প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেন। যাইন দেহি। যাইন, আপনি বন্ধ করুন। চ্যালেঞ্জ। লিখিত আমার দলিল আছে।
এরপর বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম বলেন, আপনি আমার প্রতি রাগ করতেছেন কেন? আমি বলছি, যে কাজটা আপনারা করেন না, অন্যরা আপনাদের নাম ব্যবহার করছে। সেটা সমর্থন না করলেই হয়। এরপর আমুয়াকান্দা বাজার জামে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, আমরা আপনাদের সাথে ঝগড়া করতে আসিনি। আপনাদেরকে দাওয়াত দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এখন আপনারা মানতেও পারেন, নাও মানতে পারেন। আপনার কবরে আপনি যাবেন আর আমার কবরে আমি যাবো। এসময় ইশার নামাজের আযান চলতেছিল। পরে বিষয়টি অসম্পন্ন অবস্থায় অর্থাৎ খলিফা বললেন, আমরা চেষ্টা করবো যাতে আগামী বছর থেকে এটা না হয় আর খাদেম বলেন, একথা আমরা দিতে পারি না যে, আর হবে না। আমাদের খানকার পারমিশন আছে। তারপরও উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে তাদেরকে এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং সালাম মুসাফাহা করে বিদায় নেওয়া হয়। বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
* ছবি অনলাইন থেকে নেওয়া।