মো. আব্দুল মান্নান
ইজতেমায় লোক নিতে মাইকিং করছেন সা’দপন্থীরা। উলামায়ে কেরামের ইজতেমা ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু তারা সেখানে যাননি। সা’দপন্থীরা কি তাহলে আলেম বিদ্বেষী? এটা সাধারণ মানুষের একটি প্রশ্ন। আলেমদের সাথে তারা থাকেন না কেন? আলেমদের সাথে থাকলে সমস্যা কি? আলেম ছাড়া আপনি দীন বুঝবেন কেমনে? আপনি যে সূরাটা শিখেছেন এটা কার কাছ থেকে শিখেছেন? তাহলে তাদের মানতে সমস্যা কোথায়?
ক্বওমী বা দেওবন্দপন্থী কোন আলেমের সাথে সা’দপন্থীদেরকে দেখা যায় না। দেশের সেরা সেরা মাদরাসার সাথে, উলামায়ে কেরামের সাথে তারা নেই। হাটহাজারী মাদরাসার সাথে তারা নেই। জামিয়া পটিয়া, জুরি মাদরাসা, ময়মনসিংহের জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলূম বালিয়া, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম গোদারিয়া, তিলাটিয়া ও বাশুয়া কবিরপুরসহ কোন মাদরাসার উলামায়ে কেরামের সাথে তাদেরকে দেখা যায় না।
তাহলে তারা আছেন কার সাথে? ২-৪ ফেব্রুয়ারিতে উলামাপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা হয়ে গেছে। তখন তারা যাননি। এখন ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সা’দপন্থীদের ইজতেমা শুরু হচ্ছে কিন্তু তাদের সাথে উলামায়ে কেরাম বা উলামায়ে কেরামের সমর্থন না থাকায় তাদের ইজতেমায় নেওয়ার মুসল্লী পাচ্ছেন না তারা। যারা মূর্খ, দীন বুঝে না, সূরা কেরাত সহীহ নেই এমন কিছু মানুষকে নিয়ে তারা দল করছেন।
মানুষ আসলে এখনো উলামায়ে কেরামের দিক নির্দেশনা মেনে চলেন। তাদের নিকট থেকে পরামর্শ নেন। কুরআন সুন্নাহভিত্তিক তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেন তারা। সচেতনরা যখন দেখছেন যে, এ দলটার সাথে উলামায়ে কেরাম নেই তাই তারা এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন মাইকিং করেও লোক পাচ্ছে না। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সা’দপন্থী এক ভাই মাইকিং করছেন। এজতেমা, এজতেমা। মুসলমান ভাইদের এজতেমা। যুবকদের এজতেমা। মুসলমানের এজতেমায় শরীক হোন। এরকম বলে বলে মাইকিং করছেন। একবারও বলেননি যে উলামায়ে কেরামের এজতেমা। কারণ তারা উলামায়ে কেরামের সাথে নেই।
ওই ভাইকে বলবো, ভাই, এখনো সময় আছে, চলে আসুন। উলামায়ে কেরামের ছাতার নিচে চলে আসুন। জিন্দেগীতে শুনিনি তাবলীগ জামাতের লোকেরা মাইকিং করে। আপনারা এখন ওই জায়গাতে নামছেন। যতই নিচে নামেন না কেন লোক আর পাবেন না। মানুষ এখন বুঝে। বুঝে শুনেই তারা পা বাড়ান। যুবকদের ডাকতেছেন। তারা কি বুঝে না যে তাবলীগে গেলে তাদের সূরা কেরাত মাশক করাবেন কে? সূরা সহীহ করাবেন কে? আলেম লাগবে না কি? বয়ান করলে কুরআন হাদীস বলতে হবে না কি? রেফারেন্স দিতে হবে না কি? আলেম ছাড়া তা কিভাবে সম্ভব? কাজেই সচেতন ভাইদের বলবো, আপনারা উনাদের খপপরে পড়বেন না। যাচাই বাছাই করে পরে পা বাড়াবেন।
কেহ মামলায় পড়লে বা অসুস্থ হলে যেভাবে ভাল উকিল বা ভাল অভিজ্ঞ আইনজীবী খুঁজে বের করে নেন ঠিক সেভাবে সা’দপন্থীদের সাথে তাবলীগ করলে ভাল হবে নাকি উলামায়ে কেরামের সাথে তাবলীগ করলে ভাল হবে তা যাচাই বাছাই করে করবেন।