মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে ৫০ জন চাঁদাবাজকে আটক করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ময়মনসিংহ র্যাব-১৪। এটি একটি বিরল ঘটনা। ইতোপূর্বে এ অঞ্চলে এত পরিমাণ চাঁদাবাজকে একসাথে আটক করেছে বলে জানা নেই। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে তারা চাঁদাবাজি করতো। চাঁদাবাজি করার সময় বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হাতেনাতে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের নিকট থেকে নগদ ষাট হাজার আটশত একষট্টি টাকা, লাঠি ও মাদক জব্দ করা হয় বলে জানায় র্যাব। পরে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বুধবার বিকালে ময়মনসিংহ র্যাব ১৪ -এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও র্যাব ১৪ -এর অধিনায়ক মো. মহিবুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, চাঁদা আদায়ের সময় বুধবার সকাল ৮ থেকে বেলা ১১ পর্যন্ত ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের নিকট থেকে ষাট হাজার আটশত একষট্টি টাকা উদ্ধার করা ছাড়াও ৪৩টি মোবাইল ও বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহসহ সারাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল শ্রেণি পেশার মানুষ বাজার করতে গিয়ে দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন। পণ্য উৎপাদনের স্থান হতে পাইকারি বাজারে পরিবহনের সময় দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে তারা চাঁদা আদায় করে। এর ফলে পাইকারি বাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পণ্যবাহী যানবাহন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছানোর সময় এসব চাঁদাবাজরা পথে নামে বে-নামে ভূয়া রশিদ বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ চাঁদাবাজি করে থাকে। আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা ময়মনসিংহের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন থাকে দেড়শ থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান হতে পণ্যবাহী যানবাহন ময়মনসিংহে প্রবেশের সময় তারা এ কাজগুলো করে। শুধু তাই নয়, তারা লেজার লাইট, লাঠি ও বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং চালকদের থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে নেয়। চাঁদা না দিলে তাদের গাড়ি ভাঙচুর, চালক ও তার সহকারিকে মারধর করে থাকে। সংবাদ সম্মেলনের সময় র্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।