• শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি

বিশ্ব ইজতেমার টুকিটাকি

Reporter Name / ১৯২ Time View
Update : বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান

২০২৪ সন :
২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাদ জুমা ২টা ৩ মিনিটের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বয়ান শুরু হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ৯টায় মুনাজাত শুরু হয়ে ৯টা ২৩ মিনিটের সময় শেষ হয়। বাংলায় মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়ের আহমদ দামাত বারাকাতুহুম।

ইজতেমার উদ্দেশ্য :
ইজতেমার উদ্দেশ্য হলো দাওয়াতকে জিন্দা করা। দাওয়াত যখন জিন্দা ছিল তখন সব মুসলমানের হাতে ছিল। দাওয়াত একটা সময় আস্তে আস্তে সবাই ছেড়ে দেয়। এমনকি দাওয়াত ছেড়ে দেওয়ার পর আস্তে আস্তে ইবাদতও ছেড়ে দিল মুসলমান। এরপর তাদের যা ছিল আস্তে আস্তে সবই হাতছাড়া হয়ে যায়। বান্দার সাথে আর মাওলার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এখন এ দূরত্ব দূর করে মাওলার সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে ও আমাদের হারানো ইজ্জত ফিরিয়ে আনতে দাওয়াতকে জিন্দা করতে হবে। দাওয়াতকে জিন্দা করাই ইজতেমার উদ্দেশ্য। এজন্য সবাইকে মেহনত করতে হবে।

১৯২৬ সন :
১৯২৬ সনে ভারতের উত্তর প্রদেশের মেওয়াতে মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাবলীগ জামাত প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ব বিখ্যাত ক্বওমী মাদরাসা দারুল উলূম দেওবন্দ এ কাজকে সমর্থন করে। এখনো সেভাবেই চলে আসছে। তবে মাঝখানে মাওলানা সা’দ কান্ধলভি ও উলামায়ে কেরামের সাথে একটু মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটে।
তাবলীগ জামাতের প্রথম আমীর ছিলেন মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি। এরপর তৃতীয় আমীর মাওলানা এনামুল হাসানের মৃত্যুর পর একটু সমস্যা হয়। এর আগে ১৯৯২ সনে ১০ সদস্যের একটি শূরা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন মাওলানা সা’দ কান্ধলভী। সিনিয়র সদস্যরা সবাই ইন্তেকাল করার পর তিনি আমীর হন। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যন্ত তিনি নতুন কোন শূরা গঠন করেননি। এরপর বিভক্তি দেখা দেয় এবং সহিংস ঘটনা ঘটে। একদল হয় সা’দ পন্থী আর আরেকদল হয় আলমী শূরাপন্থী। আলমী শূরাপন্থীদের মতে, সা’দ কান্ধলভী ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন। যে কারণে তিনি এর আমীরের আর যোগ্যতা রাখেন না বলে তারা মনে করেন। একটি সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৫ সনে পাকিস্তানের লাহুরের রায়বেন্ডের ইজতেমায় ১৩ সদস্যের একটি আলমী শূরা গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন পাকিস্তানের তাবলীগ নেতৃবৃন্দ। কিন্তু সা’দ কান্ধলভী তা আমলে নেননি। তারপরও ইজতেমাশেষে রায়বেন্ড থেকে শূরা বোর্ড গঠনের একটি চিঠি বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। এরপর একপক্ষ সা’দের সিদ্ধান্তের পক্ষে ও আরেক পক্ষ আলমী শূরা গঠনের পক্ষে অবস্থান নেয়। এর বাইরেও সা’দ বিভিন্ন সময় এমন কিছু কথা বলেছেন যা ধর্মীয়ভাবে বেশ বিতর্কিত হয়েছে। তিনি একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ ব্যভিচারের চেয়েও খারাপ কাজ। এছাড়া নবী মূসা (আ.)-এর দীনের দাওয়াত নিয়ে সমালোচনা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও পরে তিনি তার এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন মসজিদের বাইরে গিয়ে দীন প্রচার করা সুন্নাতের পরিপন্থী। এছাড়া ক্যামেরা সংযুক্ত মোবাইল নিয়ে নামাজ পড়া ও মোবাইল থেকে কুরআন তিলাওয়াত করা নামাজ ও কুরআনের অবমাননা। তার এসব মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে দারুল উলূম দেওবন্দ। তারা তাকে এসব বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ত্যাগ করার ও শোধরানোর আহ্বান জানান। দেওবন্দের উলামায়ে কেরামের এসব মতামতের সাথে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামও ঐক্যমত পোষণ করেন এবং তারা সা’দের পদত্যাগ দাবি করেন। এদিকে সা’দের পক্ষেও একটি সম্প্রদায় অবস্থান নেয়। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়। একবার সা’দ বাংলাদেশে এসেও ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি। সা’দ ও আলমী শূরাপন্থীদের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্বের কারণে ইজতেমা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সাদপন্থীদের ইজতেমা ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। এই যে দূরত্ব তা দূর করতে সা’দকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিশ্ব ইজতেমা মাঠে জমির পরিমাণ :
১৬০ একর জমি নিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ। উহা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত। মরহুম প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ জায়গার বরাদ্দ দেন।

ইজতেমায় যাতায়াত :
ছোটবেলা থেকেই ইজতেমায় যাই। এবারো আল্লাহর রহমতে ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে গিয়েছিলাম। আগে যেতাম আমাদের হালুয়াঘাটের নড়াইল গ্রাম থেকে। এখন ইমামতি ও ফুলপুরে বসবাসের সুবাদে আমাদের শেরপুর রোডের বাইতুন নূর জামে মসজিদের মুসল্লীসহ আশপাশের সবাই আমরা ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে সমবেত হয়েছিলাম। ওখান থেকে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামাতবন্দি হয়ে আমাদের আমির ইমরান ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা রওনা করি। পৌঁছি গিয়ে রাত সোয়া ২টায়।
আমাদের খিত্তা নাম্বার ছিল ৫৩। খুঁটি নম্বর ১২৫৯। বাটা কোম্পানির ২ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকেছিলাম। ২২ ও ২১ নম্বর টয়লেট বিল্ডিংয়ের সামনে দিয়ে পশ্চিম দিকে ক্যান্সার হাসপাতাল বরাবর যে রাস্তাটি গেছে উহা হলো ৪ নম্বর রাস্তা। ওই রাস্তা দিয়ে অল্প গেলেই আমাদের ১২৫৯ নম্বর খুঁটি। যাতায়াত, পেশাব পায়খানা বা অজুতে তেমন কোন সমস্যা আমাদের হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ।

বৃষ্টি :
৩১ জানুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। সাথীরা সবাই কাঁচা ঘুম থেকে উঠে বিছানাপত্র গুছিয়ে বসে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেকে ত্রিপল থেকে বালতিতে পড়া বৃষ্টির পানি দূরে নিয়ে ফেলে আসেন। আবার অনেকে কান্নাকাটি শুরু করেন। চোখ থেকে বুক বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। আধা ঘণ্টা পর আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি থেমে যায়। সাথীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
* পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি ভালই কাটছিল কিন্তু সন্ধায় মাগরিবের পর ৬টা ৪১ মিনিটের সময় আবারো বৃষ্টি! বয়ান শুরু হয়েছিল কিন্তু বেশি সময় বয়ান শোনা যায়নি। প্রথমে বৃষ্টি পড়া শুরু হলেও বয়ান চলছিল কিন্তু একটা সময় এত ভারি বৃষ্টি পড়তে থাকে যে সাথীদের জন্য বয়ান শোনা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। পরে বয়ান বন্ধ হয়ে যায় এবং ঘন্টাখানেক পর বৃষ্টিও বন্ধ হয়ে যায়। আলহামদুলিল্লাহ, পরে শেষ পর্যন্ত আর বৃষ্টি হয়নি। যতটুকু হয়েছে তাতে কাদাও হয়নি বরং ধূলা মজেছে। মুরুব্বিরা বলেন যে, আমরা আতংকিত ছিলাম। মূলতঃ ওই বৃষ্টিটা ছিল আমাদের জন্য রহমতস্বরূপ।

৩১ জানুয়ারি :
৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ইজতেমা উপলক্ষে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন বিদেশি মেহমান। তরজমা করেন মাওলানা আব্দুল মতিন দামাত বারাকাতুহুম। বলেন যে, আমরা আল্লাহর হুকুম পুরা করবো। এ কাজ করতে গিয়ে যদি মাল সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যায় তবু আমাদেরকে তা পুরা করতে হবে। আল্লাহর হুকুম পুরা করার মধ্যেই কামিয়াবি। আমরা যে পরিমাণ কাম করবো আল্লাহর পক্ষ থেকে সে পরিমাণ মদদ আসবে। যেসব সাথী ভাই ইজতেমায় আসতেছেন তাদের মেহমানদারি করবো। তাদের বসার জায়গা করে দিব।

১ ফেব্রুয়ারি :
১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২৭ মিনিটের সময় বয়ান শুরু হয় এবং শেষ হয় ৭টা ৩৬ মিনিটের সময়। পরে দুপুরে আবার ১টা ৫০ মিনিটের সময় বয়ান শুরু হয়। এছাড়া বাদ আসর ৪টা ৫২ মিনিটের সময় বয়ান শুরু হয়। বাদ মাগরিব বয়ান শুরু হলে কিছুক্ষণ বয়ানের পর ৬টা ৪১-এ বৃষ্টি হয়। পরে বেশিক্ষণ আর বয়ান চলেনি।

২ ফেব্রুয়ারি :
২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ২২ মিনিটের সময় বয়ান শুরু হয়েছে। মোটামুটি লম্বা বয়ান হয়েছে। তারপর জুমার নামাজের পর ২টা ৩ মিনিটের সময় পুনরায় বয়ান শুরু হয়। এরপর আসর ও মাগরিবের নামাজের পর আহাম বয়ান হয়েছে।

কুড়িগ্রামের এক সাথীর দুঃস্বপ্ন ও বিকট চিৎকার :
সাদিক (২৫) নামে আমাদের পাশের খোপের এক সাথী ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখে শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বিকট চিৎকার করে ওঠে। তার চিৎকারে আশপাশের খোপের প্রায় সবাই কাঁচা ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে লাফিয়ে ওঠে। সাদিকের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলা সদরে। সে একটি রাইস মিলে ফোর ম্যান হিসেবে কাজ করে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তার চিৎকারের কারণে তার নিজেরই বুকের ডানপাশে ব্যথা হয়ে গেছে। কিন্তু কেন সে এত জোরে বিকটভাবে চিৎকার করলো জানতে চাইলে জানায় যে, একটি দুঃস্বপ্ন দেখে সে এভাবে চিৎকার করেছে। ওখানের স্থানীয় কারো চোখে আমার এ লেখা দৃষ্টিগোচর হলে অসহায় সাদিককে ভাল চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন রইলো। তার মোবাইল নাম্বার ০১৭১৮৪০৯৪২৭।

৩ ফেব্রুয়ারি :
৩ ফেব্রুয়ারি বাদ ফজর লম্বা বয়ান হয়েছে। এরপর সকাল সোয়া ১০টায় নামাজের মঞ্চে ছাত্রদের জন্য ও বয়ানের মঞ্চে উলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে ভারতের আহমাদ লাট দামাত বারাকাতুহুম গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন। এরপর বাদ যুহর, বাদ আসর ও বাদ মাগরিব আহাম বয়ান হয়। মাগরিবের পর বয়ান করেন ভারতের ইবরাহীম দেওলা দামাত বারাকাতুহুম।

৪ ফেব্রুয়ারি :
৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ২০-এ বয়ান শুরু হয়। বয়ান করেন মাওলানা জিয়াউল হক ও মাওলানা ইবরাহীম দেওলা।

মুনাজাত :
এরপর সকাল ৯টায় মুনাজাত শুরু হয়। ২৩ মিনিট মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের জিম্মাদার মাওলানা জুবায়ের আহমদ দামাত বারাকাতুহুম।

আল্লাহর রাস্তায় গমনকারীদের মুসাফাহা :
যারা আল্লাহর রাস্তায় ১ চিল্লা ৩ চিল্লাসহ বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বের হয়ে গেছেন তাদেরকে মুসাফাহার সাথে বিদায় দেওয়া হয়েছে। তারা পাকিস্তানি একজন মুরুব্বির সাথে মুসাফাহা করেন। তবে মুরুব্বির নাম কি তা জানা যায়নি। ঢাকার কেন্দ্রীয় তাবলীগের মুরুব্বি ফারুক হুজুরসহ অনেকের নিকট জিজ্ঞেস করেও ওই পাকিস্তানির নাম জানা যায়নি।

বাসায় ফেরা :
আমাদের আমির ইমরান ভাইয়ের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি বাদ ইশা রাত সাড়ে ৯টায় আমরা ঢাকা থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করি এবং রাত দেড়টার দিকে এসে বাসায় পৌঁছি। সবমিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ। আমলের সাথেই কেটেছে বিশ্ব ইজতেমা।

ফুলপুর থেকে ইজতেমায় যারা উপস্থিত হয়েছিলেন :

মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, মাওলানা মুহিউদ্দীন, মাওলানা আতাউল্লাহ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মুফতী উবায়দুল্লাহ, আমির ইমরান ভাই, হ্যাংকিয়াং ট্রেড বিডি -এর এমডি ও ফুলপুর জামিয়া ইসলামিয়া জাবালে নূর মদীনা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন, দারুল ইহসান (এক্সিলেন্ট) মাদরাসার পরিচালক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান, চরপাড়ার হাফিজ উদ্দিন, ফুরকান ভাই, নূরু মহাজন, শরীফ,  শিক্ষানবিস এড. সারোয়ার হোসেন সোহাগ, চানু ভাই, মোজাহারুল ইসলাম, হাসান আলী, শাবদুল শেখ, রুস্তম আলী, মোজাম্মেল হক, মদীনা লাইব্রেরির রুবেল প্রমুখ।

জানাজা :

এবারের বিশ্ব ইজতেমায় ১৬ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিবাহ :

এবার মোট ৭৩ জোড়া নব দম্পত্তির শুভ বিবাহ পড়ানো হয়েছে এবং তাদের জন্য স্পেশাল দোয়া করা করেছেন একজন বিদেশি মুরুব্বি।

খুরুজ :
এবার দেশি বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছে। দেশি ৩ চিল্লার জামাত ১৯২টি, ১ চিল্লার জামাত ২১৬৯টি, ৩ দিনের জামাত ১৯৪টি। আর বিদেশি আরবী জামাত ২০টি, জর্দানি জামাত ৩৯টি, লন্ডনি জামাত ৫৫টি, ৫ মাসের জামাত ৫৫টি ও ২ মাসের মাস্তুরাত জামাত বের হয়েছে ২৬টি। এছাড়া ৭ দিন, ১০ দিন ও ২০ দিনের আরো বেশ কিছু জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছে। সবমিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে যে, ৩ হাজার জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছে। এর মধ্যে ভোলা সবচেয়ে এগিয়ে আছে আর আমাদের ময়মনসিংহ থেকে ১৭৭টি জামাত খুরুজ হয়ে আমরা দ্বিতীয় স্থানে আছি। বিশেষ করে ফুলপুর থেকে ১০টি  জামাত বের হয়েছে এবং ফুলপুরে ৬টি জামাত এসেছে।  আলহামদুলিল্লাহ।

তাগাজা :
রমজানকে সামনে রেখে আমাদের আরও বেশি মেহনত করতে হবে। যাতে আমরা আরও বেশি পরিমাণ মানুষ আল্লাহর রাস্তায় বের হতে পারি। যারা আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে গেছেন তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নিব এবং আমাদের ফুলপুরে ৫টি চিল্লার জামাত এসেছে। তাদের নুসরত করবো। আর যারা আমরা যারা আল্লাহর রাস্তায় যেতে পারিনি তারা মসজিদওয়ালী ৫ কাজ করবো এবং এমনভাবে দাওয়াতের মেহনত করবো যাতে বালেগ কোন পুরুষ আমাদের মহল্লায় বেনামাজি না থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কবুল করুক।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা