মো. আব্দুল মান্নান
নিজ পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত ছায়া হয়ে এতিম ফারিয়ার পাশে দাঁড়ালেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম। মা-বাবাহীন ৭ বছর বয়সী এতিম ও অসহায় ফারিয়ার দায়িত্ব নিলেন তিনি এবং তাকে একটি ঘর ও লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রীসহ সার্বিকভাবে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
জানা যায়, চার দিন আগে তার বাবা ফয়েজ উদ্দিন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। তিনি বালিয়া ইউনিয়নের উত্তরকান্দা গ্রামের মৃত তাহির উদ্দিনের পুত্র ছিলেন। ফয়েজ এক সময় জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইজ্জতপুর এলাকায় বসবাস করতেন। এর আগে তার স্বার্থপর মা তাকে রেখে তার বাবাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান অন্যের ঘরে। পরে লালন পালনের ভার পুরোটাই পড়ে বাবা ফয়েজের উপর। ফয়েজ তাকে মা ও বাবা উভয়ের ভালবাসাই দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার বাবা মারা যাওয়ার পর একেবারে একাকী ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে ফারিয়া এবং অঝর ধারায় কাঁদতে থাকে বাবার লাশের পাশে বসে। দুনিয়াতে যেন তার আর কেউ রইলো না। তাই ফারিয়ার বাবার মৃত্যু সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা তার আইডিতে লেখেন ‘ফারিয়ার আর কেউ রইলো না’। এমন শিরোনামে একটি মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস দেন মোস্তফা। যা ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তার হৃদয়কে স্পর্শ করে। এরপর ফারিয়াকে নিয়ে তার অফিসে দেখা করতে বলেন ইউএনও। কথামত দেখা করার পর ইউএনও ফারিয়াকে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া পড়াশোনার বই পুস্তক দেওয়ারও আশ্বস্ত করেন ইউএনও। এলাকাবাসীর ধারণা, নিজ পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত ছায়া হয়ে সবসময় ফারিয়ার পাশে থাকবেন ইউএনও।
এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান, সিনিয়র সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন, ক্বারী সুলতান আহামেদ, গোলাম মোস্তফা, ফারিয়ার চাচা ওয়াইজ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।