বিশ্ব ইজতেমার মাঠ থেকে আব্দুল মান্নান
আমাদের মাল সম্পদ হাতছাড়া হয়ে গেলেও আল্লাহর দীনকে পুরা করতে হবে। আমরা আল্লাহর হুকুম পুরা করবো। আল্লাহর হুকুম পালন করতে গিয়ে যদি আমাদের মাল সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যায় তবু আমাদেরকে তা পুরা করতে হবে।
২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে আজ ৩১ জানুয়ারি টঙ্গী মাঠে আয়োজিত প্যান্ডেলের সামনে থেকে বয়ানে বিদেশি মেহমান একথা বলেন। তরজমা করেন মাওলানা আব্দুল মতিন দামাত বারাকাতুহুম।
মেহমান বলেন, এই কাম করতে গিয়ে কষ্ট আসতে পারে, হালত আসতে পারে আসলে এগুলো বরদাশত করতে হবে। বলেন যে, মাল সম্পদের মধ্যে কামিয়াবি নেই। কামিয়াবি আল্লাহ তায়ালা রেখেছেন দীনের মধ্যে। ঈমান ও আমলের মধ্যে।
আল্লাহ তায়ালা শুরুতে যে হুকুম করেছিলেন, এখনো তা বহাল আছে। তিনি তার হুকুম পরিবর্তন ঘটান না। আল্লাহ তায়ালার হুকুম যে পুরা করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে সফল করে দিবেন। বলেন যে, শরীরের ভিতরে একটা টুকরা আছে। ওটাকে ভাল রাখতে হবে। ওটা ভাল থাকলে পুরা শরীর ভাল থাকে।
তিনি আরও বলেন, সমস্ত মানুষ মিলে যেন একজন মানুষের মত। মানুষের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের একেকটার কাজ একেক রকম থাকলেও উদ্দেশ্য যেমন একই রকম ঠিক তেমনই মানুষ একেকজন একেক রকম হলেও সবার উদ্দেশ্য হতে হবে একরকম। ফিকির হতে হবে একই রকম।
মেহমান বলেন যে, আমাদেরকে যে এই কামে লাগাইছে এটা আমার কোন কামাই নয় বরং এটা আল্লাহ তায়ালার ইহসান বা দয়া। বলেন যে, আমরা যে পরিমাণ কাম করবো আল্লাহর পক্ষ থেকে সে পরিমাণ মদদ আসবে। এজন্য সব ভাই সব আমল পুরা করবো।
যেসব সাথী ভাই ইজতেমায় আসতেছেন তাদের মেহমানদারী করবো। তাদের আসানের সাথে আসার জন্য দোয়া করবো। যারা এখানে এসেছেন এবং যারা আসবেন তাদের সবারই উদ্দেশ্য একটাই; তা হলো- কি করে দীন জিন্দা হয়ে যায়, সেই মেহনত করবো। দাওয়াতের আমল করবো। দাওয়াতের জন্য নিজেকে তৈরি করবো এবং অন্য ভাইদেরকে দাওয়াত দেনেওয়ালা বানাবো।
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের যমানায় এমনকি পরবর্তীতে যখন দাওয়াত জিন্দা ছিল তখন মুসলমানের হাতে ইজ্জত সম্মান সবই ছিল। যখন দাওয়াত আস্তে আস্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তখন আস্তে আস্তে এগুলো বিদায় নিয়েছে। হাতছাড়া হয়ে গেছে। এজন্য ভাই দোস্ত বুজুর্গ, আমাদের দাওয়াতকে জিন্দা করতে হবে।
এসময় বিদেশি আরেকজন মেহমান ও মাওলানা রবিউল ইসলাম বয়ান করেন। তারা বলেন, আমরা যারা আগে এসেছি তারা যেন ঘরওয়ালা, মেজবান। এখন যারা পরে মাঠে আসবেন তাদেরকে আমাদের মেহমানদারী করতে হবে। তাদের জায়গা করে দিতে হবে। খানার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে ইজতেমায়ী আমলের সময় যদি কেহ মাঠে আসেন তাদেরকে বয়ান শোনা বা ইজতেমায়ী আমল ছেড়ে সময় দেওয়া যাবে না। তাদেরকেও ইজতেমায়ী আমলে লাগিয়ে দিতে হবে। কারণ তারাও তো এখানে আমলের জন্যই এসেছেন। সবশেষে ইজতেমা কামিয়াবির জন্য তারা সবাইকে দোয়া করতে বলেন।