আজ
|| ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
বিশ্ববিখ্যাত ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক :
বিশ্ববিখ্যাত ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা নিম্নে তুলে ধরা হলো :
(১) ভর্তি ফ্রি।
(২) কিতাব ফ্রি।
(৩) খাওয়া ফ্রি।
(৪) পরীক্ষা ফ্রি।
(৫) থাকার সিটের সাথে আলমারির সুব্যবস্থা।
(৬) একদিনের যে কোনো ঔষধ এক রুপি।
(৭) প্রতি মাসে দুইশ রুপি ভাতা।
(৮) প্রতি সপ্তাহে স্পেশাল বিরিয়ানি জনপ্রতি এক কেজি।
(৯) শীত মৌসুমে গরম পানির সুব্যবস্থা।
(১০) শীত মৌসুমে কম্বল-লেপ ফ্রি।
(১১) ছাত্রদের জন্য রয়েছে দারুল উলূম কর্ত্তৃক স্টুডেন্ট কার্ড, যা সর্বত্র প্রয়োজনীয় ও গ্রহণযোগ্য এবং সফর-আসফারে বড় কাজের জিনিস।
(১২) অজু-গোসল ও শৌচাগারের সুব্যবস্থা।
(১৩) বৈদ্যুতিক ব্যবহার ফ্রি।
(১৪) সনদপত্র ফ্রি।
(১৫) রমযানে আরো উন্নত খাবার ও ডাবল ভাতা।
(১৬) প্রতিটি ছাত্রকে বার্ষিক পুরস্কার।
(১৭) মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কিতাবাদি হাদিয়া।
(১৮) ছাত্রদের লিখনী শক্তি অর্জনের জন্য রয়েছে দেয়ালিকার সুব্যবস্থা।
(১৯) কথিত আছে যে, حسن الكتابة نصف العلم তাই ছাত্রদেরকে সুন্দর হাতের লিখা শিখানোর জন্য রয়েছে কিতাবত বিভাগের সুব্যবস্থা।
(২০) ছাত্ররা যেন লেখাপড়ার সাথে সাথে কর্মে অভ্যস্ত হয়ে উঠে, এর জন্য রয়েছে কারিগরি শিক্ষার সুব্যবস্থা।
(২১) ছাত্ররা যেন সুশৃঙ্খলভাবে খানা ওঠাতে পারে, এর জন্য রয়েছে পিতলে নাম্বার অঙ্কিত সকাল-সন্ধ্যার টিকেট।
(২২) ছাত্ররা যেন সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, এর জন্য রয়েছে প্রত্যেক ছাত্রের জন্য আলাদা আলাদা ডেস্ক। চিত্তাকর্ষক বিশাল দারুল ইমতেহান, যাতে এক সাথে প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্র পরীক্ষা দিতে পারে।
(২৩) ছাত্ররা মাসিক ভাতা ওঠানোর জন্য রয়েছে প্রতি মাসের নামসহ অযিফা কার্ড।
(২৪) ছাত্রদের যেন কোন ধরনের অসুবিধা না হয়, এজন্য ছাত্রদের খেদমতের জন্য রয়েছে বিভিন্ন খেদমত বিভাগ। যেমন: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ইত্যাদি।
(২৫) ছাত্র ও দারুল উলূমের রক্ষণাবক্ষেণের জন্য রয়েছেন প্রতিটি গেইটে দারোয়ান।
(২৬) ছাত্রদের বক্তৃতাশক্তি অর্জনের নিমিত্তে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন বিষয়ের উপর সেমিনারের আয়োজন।
(২৭) ছাত্ররা বিরোধীদের সাথে কিভাবে মুনাযারা করবে, তা শিক্ষাদানের জন্য মাঝেমধ্যে বিশাল মুনাযারার আয়োজন।
(২৮) ছাত্ররা ইলম অর্জনের সাথে সাথে আমলে পাবন্দী হওয়ার জন্য সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই আছরের পর কোন না কোন উস্তাদের ইসলাহী মজলিসের আয়োজন।
(২৯) ছাত্রদের চাহিদা অনুযায়ী কিতাব পড়ার জন্য সর্ববিষয়ের উপর দারুল উলূম লাইব্রেরী সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।
(৩০) ভর্তিচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে থাকার সুব্যবস্থা।
(৩১) আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স।
(৩২) দা'ওয়াত ইলাল্লাহ বা সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামের সহীহ আকিদা বিশ্বাস ও আমল পৌঁছে দেওয়ার নিমিত্তে দা'ওয়াত ও তাবলীগের সাপ্তাহিক ও বাৎসরিক বিভিন্ন কার্যক্রম।
(৩৩) এমনকি বহির্বিশ্বে দাওয়াতের কাজকে ব্যাপক করার জন্য বিশেষ কোর্সের মাধ্যমে ইংরেজি শিক্ষার সুব্যবস্থা।
মোটকথা: কেউ যদি দারুল উলূমের হয়ে যায়, দারুল উলূম তাঁর হয়ে যায়।
অর্থাৎ তাঁর লেখাপড়ার পাশাপাশি ধর্মীয় অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়া সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য দারুল উলূম কর্তৃপক্ষ সবসময় তাঁর খেদমতে নিয়োজিত। মহান আল্লাহ পাক এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিখ্যাত প্রাচীনতম বিশ্বমানের এ দ্বীনি ক্বওমী প্রতিষ্ঠানটিকে কেয়ামত পর্যন্ত কায়েম দায়েম রাখুন। আমীন।
সংগ্রহে: Mahmudul Hasan Rashadi
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.