আজ
|| ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
বেগম খালেদা জিয়া رحمها الله কে যেমনটি দেখেছি (পর্ব-৫)
প্রকাশের তারিখঃ ২৬ মার্চ, ২০২৬
মোঃ মুখলেছুর রহমান :
সেই একই আমলে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার পথভ্রষ্ট খুবই নগণ্য কিছু ছাত্র চরমপন্থী মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পড়েন। মূল মাদরাসার সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল না বললেই চলে।
স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশও উগ্রবাদ ও চরমপন্থার শিকার হয়ে পড়ে। মজার বিষয় হলো, মিডিয়া ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কওমি মাদরাসার ছাত্রদের বিষয়টি হাইলাইট করতে থাকে এবং একই সময়ে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতে থাকে।
আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সময়ে অসময়ে বিভিন্ন মাদরাসায় তল্লাশির নামে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ফলে বিএনপি আহলে হাদীস ও কওমি আলেম উলামাদের সমর্থন হারাতে থাকে। আমার উপলব্ধি ছিলো এসব কিছু হচ্ছে বিএনপি তথা বেগম খালেদা জিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশবিশেষ।
আমি বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিষয়টি শেয়ার করলে তিনি আমার মতামত জানতে চান। আমি পরামর্শ দেই, যদি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলিমদের সাথে প্রভাবশালী মন্ত্রীবর্গের একটি বৈঠক করা যায় তাহলে উভয় পক্ষের আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে সুন্দর কোন সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসতে পারে।
তিনি আমার মতামত গ্রহণ করলেন এবং আমার পরামর্শের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদেরকে এ আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করলেন।
আমরা ঢাকার শেরাটন হোটেলে (বর্তমানে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল) এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করলাম।
সারাদেশের শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসার মুহতামিমদেরকে দাওয়াত করে ঢাকায় নিয়ে আসলাম। বাইতুল মোকাররম মাসজিদের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ততকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসাইন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী এবং বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
দীর্ঘ আলোচনার পর এ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো, মুহতামিমগণের সাথে আলোচনা না করে হুট করে কোনো মাদরাসায় পুলিশ রাতে বা দিনে কোন অপারেশন পরিচালনা করতে পারবে না। কোন মাদরাসার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে মাদরাসা প্রধানের সাথে যোগাযোগ ও পরামর্শ করে তাকে সাথে নিয়ে অপারেশন চালাতে হবে। কোনো ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকল জেলার পুলিশ সুপারদের ঢাকায় ডেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
সেদিনের সিদ্ধান্তের আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকল জেলার পুলিশ সুপারদের ঢাকায় ডেকে যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আলিম উলামাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
আলিমদের প্রতি খালেদা জিয়ার যে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও আন্তরিক ভালোবাসা ছিল- এটি তার অতিরিক্ত প্রমাণ।
লেখক :
ইসলামিক অর্থনীতিবিদ ও সমাজ চিন্তক।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.