আজ
|| ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
”বেগম খালেদা জিয়া رحمها الله কে যেমন দেখেছি” (পর্ব-৪)
প্রকাশের তারিখঃ ২২ মার্চ, ২০২৬
মো. মুখলেছুর রহমান :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র নেতৃত্বাধনী চার দলীয় জোট সরকারের (২০০১–২০০৬) সময়কালে কয়েকটি চরমপন্থী দলের উন্মেষ ঘটে। এ সময়কালে “বাংলা ভাই” নামে পরিচিত এক চরমপন্থী নেতার কার্যক্রম দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই সিদ্দিকুল ইসলাম উরফে বাংলা ভাই ছিলেন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর একজন শীর্ষ নেতা। তার নেতৃত্বে উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় (বিশেষ করে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ) চরমপন্থী কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে।
২০০৪-২০০৫ সালের দিকে তারা “অপারেশন ক্লীন হার্ট বা এ ধরণের নামে অভিযানের মাধ্যমে বে আইনি ভাবে দেশের সাধারণ নাগরিকদেরকে প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেয়া, মারধর করে এমনকি নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকে।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একই সময়ে দেশের ৬৩ টি জেলায় প্রায় ৫০০ টি পটকা ফুটিয়ে তাদের শক্তিমত্তার জানান দেয়।উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এবং সরকারও ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে।
এই ঘটনার পর সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। জেএমবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করে। সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই এবং আব্দুর রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
আমি বেগম খালেদা জিয়ার কাছে বিনীতভাবে আমার মতামত উপস্থাপন করলাম, “এই চরমপন্থার বিকাশ কেবল প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নাও হতে পারে। এর বিরুদ্ধে ধর্ম বর্ন, জাতি ও পেশা নির্বিশেষে সবাইকে সচেতন করে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশেষত ধর্মীয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কারণ, চরমপন্থীরা ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমেই তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আমার কনসেপ্টকে যুক্তিযুক্ত মনে করে সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শুরু করতে নির্দেশ দিলেন।
আমি প্রথমে ‘মিছবাহ ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে দেশের সকল স্কুল অব থট এর আলিমদের নিয়ে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক উলামা ও মাশায়েখ সম্মেলনের আয়োজন করলাম ঢাকার উসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। সকলের সম্মতিক্রমে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী (Dhaka Declaretion) ঢাকা ঘোষণা প্রকাশ করলাম।
বাইতুল মোকাররম মাসজিদের তৎকালীন খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক রহ: -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মিলনে উলামায়ে কেরাম চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কুরআন হাদিসের আলোকে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেন। চরমপন্থীদের আদর্শিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে উঠে।
ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আব্দুর রহমান রহ: এর পৃষ্ঠপোষকতায় বগুড়ার জামিল মাদরাসায় আরেকটি ঐতিহাসিক সম্মেলনের আয়োজন করি। উত্তরবঙ্গের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ সম্মিলনে অংশ নিয়ে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন। এভাবে সারাদেশে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ওরা নিষ্ক্রিয় হতে থাকে।
সে দিনগুলোতে বাংলাদেশ আহলে হাদীস আন্দোলনের আমীর জনাব ডক্টর আসাদুল্লাহ আল গালিবকে এসব ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে লাগাতার কলাম লিখতে থাকে “দৈনিক প্রথম আলো”। যা ছিলো সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট।
প্রথম আলো পত্রিকার প্রোপাগান্ডা ও বিভিন্ন চাপে ২০০৫ সালে ডক্টর আসাদুল্লাহ আল গালিবকে সরকার বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে।
দীর্ঘদিন জেল খেটে, আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে তিনি জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন। এতে ডক্টর আসাদুল্লাহ গালিব তৎকালীন সরকারের প্রতি ভীষণ অসন্তুষ্ট ছিলেন যা তিনি রাখঢাক না করেই আমার কাছে প্রকাশ করেছেন। পরবর্তী পর্বে হয়তো বিষয়টি আলোচনায় আসবে।
সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে যদি কোন নিরপরাধ ব্যক্তি বা ভিন্নমতাবলম্বী বিনা অপরাধে টার্গেট হয়ে থাকেন তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
লেখক :
ইসলামিক অর্থনীতিবিদ ও সমাজ চিন্তক।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.