মো. মুখলেছুর রহমান :
বেগম খালেদা জিয়া রাহ:। ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী। আপোষহীন এক মহিয়সী নারী। স্বামীর মৃত্যুর পর ২ ছেলেকে নিয়ে অভাব অনটন ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংসার সামলেছেন, স্বামীর গড়া রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন সফলভাবে।
দেশের জনগণের প্রকৃত স্বাধীনতা প্রদান ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য সারাটি জীবন সংগ্রাম করেছেন অবিরাম। কখনও কোন রক্তচক্ষুকে ভয় পাননি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বৈরাচার তাড়ানোর নেতৃত্ব দিয়েছেন সফলভাবে।

বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী এই নারী বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একজন বিরল, দেশপ্রেমিক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে গণ্য হয়েছেন।
ছাত্রাবস্থায় আমি তাঁকে দেখি সংসদের দর্শক গ্যালারিতে বসে। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের মাঝে কোন একদিন। তখন তিনি সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ হয় তখনই। গভীর শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হতে থাকে তাঁর প্রতি।
২০০৬ সাল। তার সাথে কাজ করার বিরল সুযোগ লাভ করি। সরকারিভাবে নয়; নেপথ্যে থেকে। অল্প কিছু দিনেই তার স্নেহধন্য হয়ে উঠি। সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। বিশ্বাসও করতেন গভীর ভাবে।
প্রয়োজন বোধ করলেই ডেকে পাঠাতেন তার অফিসে। আমি নগন্যের পরামর্শও চাইতেন কিছু কিছু বিষয়ে। আমি নির্মোহ ভাবে আমার মতামত পেশ করতাম। আমার পরামর্শের সিংহভাগই তিনি গ্রহণ করতেন।
আমি যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলাম না, এমনকি বিএনপিরও। দলের লোকদের অনেকের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল ছিলো আমাকে নিয়ে।
অপরিচিত একজন সাধারণ মানুষ আসছেন। প্রবেশ করছেন বেগম জিয়ার অফিসে, মিটিং করছেন একান্তে, কৌতূহল সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তার সাথে মিটিং শেষে দ্রুত বেরিয়ে যেতাম। বাইরে অপেক্ষমান নেতৃবৃন্দ এক রাশ কৌতূহল নিয়ে দেখতেন কিন্তু কোন কিছু জিজ্ঞেস করতেন না।
তিনি দয়া করে আমাকে ডাকতেন। কতবার এই শ্রদ্ধেয় মহিয়সী নারীর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে তা সঠিকভাবে বলতে পারবনা। তবে অর্ধ শত বারের কম হবে বলে মনে হয়না।
তিনি কথা বলতেন কম শুনতেন বেশী। দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিতেন সুচিন্তিত ভাবে। চমৎকার বাংলা ও ইংরেজি বলতেন। ফ্যাশন দুরস্ত ছিলেন। দূরদর্শিতা ছিল অসাধারণ। আমাকে কিছু অমূল্য উপদেশ দিয়েছিলেন, মেনে চলার চেষ্টা করছি।
লেখক :
ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও সমাজ চিন্তক
mukhles1975@gmail.com
(চলবে ধারাবাহিকভাবে)
* অনলাইন থেকে সংগৃহীত।