মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর শামীম হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ মূল আসামি রাকিবুল ইসলাম (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞার দিক নির্দেশনায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম যৌথ অভিযান চালিয়ে ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টার দিকে ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে তার নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, ২০ জানুয়ারি সকাল সোয়া ৯টার দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ -এর মাধ্যমে জনৈক ব্যক্তি জানায় যে, মুক্তাগাছা থানার তারাটি ইউনিয়নের বিরাশী গ্রামে মাদ্রাসার পিছনে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের লাশ পাওয়া গেছে। এমন সংবাদ পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা শামীম মিয়া (১৬) -এর লাশ উদ্ধার করে। শামীম তারাটি (চরপাড়া) গ্রামের সিরাজ মিয়া ও অজুয়া বেগমের পুত্র বলে তারা সনাক্ত করতে সক্ষম হন। ভিকটিম শামীম মিয়া পেশায় একজন অটোচালক। এ ব্যাপারে মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। এরপর অভিযানে নেমে ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনসহ মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞার দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ-এর নেতৃত্বে এসআই শাহ্ মিনহাজ উদ্দিন ও এসআই পরিমল চন্দ্র সরকার, পিপিএম তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত করে এর রহস্য উদ্ঘাটন করেন। গ্রেফতারকৃত আসামি রাকিবুল ইসলাম তারাটি (চরপাড়া) গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও শামছুন্নাহারের পুত্র। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামি রাকিবুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। বিগত কয়েকদিন যাবত তার কিছু অর্থের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। গত প্রায় দুই মাস আগে সে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা লোন নিয়েছে। যা প্রতি সপ্তাহে তিন হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করে আসছে। ঋণগ্রস্থ অবস্থায় আসামি কিস্তির টাকা পরিশোধে অপারগ হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশী অটোচালক ভিকটিম শামীমের সাথে ভাড়া নেওয়া অটো গাড়ীটি বিক্রি করবে মর্মে পরামর্শ করে এবং হত্যার পরিকল্পনা করে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, আসামি রাকিবুল ইসলামকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।