মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পয়ারী গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পয়ারী আমজাদ চেয়ারম্যান বাড়ির মরহুম ইউনুস আলীর দ্বিতীয় পুত্র আয়ুব আলী খোকন স্যারের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় পয়ারী গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মরহুমের মামা মোশাররফ হোসেন।
জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফুলপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আবুল বাসার আকন্দ, চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার, ১১ দলীয় ঐক্য জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ, ফুলপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরমুজ আলী চৌধুরী, পরিবারের বড়ভাই এড. শামছুল হক, জেঠাতো ভাই পয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, মরহুমের বড়ভাই ইকবাল হোসেন, মাওলানা আবুল বাসার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আয়ুব আলী খোকন একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে যতগুলো গুণ থাকা দরকার তার মধ্যে সবই ছিল।
হরমুজ আলী চৌধুরী বলেন, আয়ুব আলী খোকন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতা ছিলেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও ভালো মানুষ ছিলেন।
পয়ারী স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী এড. আবুল বাসার আকন্দ বলেন, আয়ুব আলী খোকন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। বিনয়ী ছিলেন। আদর্শ শিক্ষক ছিলেন।
শাহ শহীদ সারোয়ার বলেন, মাইয়াত আমাদের ছোট ভাই। দুনিয়াতে আসার সিরিয়াল আছে কিন্তু যাওয়ার সিরিয়াল নেই। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। হেড মাস্টার হয়ে আমার সাথে দেখা করেছেন। জানিয়েছেন। এত পপুলার ছাত্রছাত্রীবান্ধব হেড মাস্টার হয়! এটা বিশ্বাস করা কঠিন।
এড. শামছুল হক বলেন, সত্যিই তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। তিনি শুধু স্কুলের নয় বরং তিনি সমাজেরও শিক্ষক ছিলেন। একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে যতগুলো গুণ থাকা দরকার এর সবগুলোই তার মধ্যে ছিল। মফিজুল ইসলাম বলেন, আয়ুব আলী খোকন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি আদর্শ ও দক্ষতার সাথে এই স্কুল পরিচালনা করেছেন। আশপাশের মানুষ তাকে সহযোগিতা করেছেন। দোয়া করি, তার মেয়ে দুটি যেন তার মত হয়।
মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, তিনি একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। বিনয়ী মানুষ ছিলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

বড়ভাই ইকবাল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মরহুম আমার ছোট ভাই। তার চলাফেরায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তাকে মাফ করে দিবেন। লেনদেন থাকলে আমার সাথে বলবেন আমি পরিশোধ করে দিব, ইনশাআল্লাহ।
মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, প্রিয় মুসল্লী ভাইয়েরা, দুনিয়ার নিয়ম- আমরা যে যেভাবে চলি, আল্লাহর বিধান সেভাবে চলে না। কখন কার ডাক আসবে কেউ জানে না। আমরা যারা আজকে লাইনে দাঁড়িয়েছি নামাজ পড়ার জন্য, কালকে আমি বা আপনি এরকম লাশ হয়ে লাইনে থাকবো। অন্যরা আমাদের জানাজা পড়বে। এই জানাজা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এই চোখ বন্ধ করলে দুনিয়ার জিন্দেগী কিছু থাকে না। আমাদের কাজকর্ম যেন পরকালের জিন্দেগীর জন্য হয়, পরকালমুখি হয়, পরকালের সুখ-শান্তির জন্য হয়; আমরা যেন আমল করে যেতে পারি। মরহুম যিনি মারা গেছেন আমরা তার জন্য দোয়া করি। তিনি মানুষ গড়ার কারিগর ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা যেন উনার কাজকর্ম দ্বারা উনাকে মাফ করে দেন। এর আগে আরও বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন। সকলেই মরহুমের ভুয়সী প্রশংসা করেন। জানাজাশেষে তাকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, আয়ুব আলী খোকন স্যার সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চুরখাই কমিউনিটি বেজড্ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুর সময় স্ত্রী, ২ মেয়ে, ছাত্রছাত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করুক।