• মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন জাতীয় ইমাম সমিতি ফুলপুর উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন

কোরআনের শ্রেষ্ঠত্ব

Reporter Name / ২৯ Time View
Update : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

মুফতি আবরারুল হক :

কোরআন একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহিমান্বিত ঐশী গ্রন্থ। যা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে জিব্রাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। যা মানবজাতির জন্য মুক্তির পথের দিশারী। কোরআন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সামাজিক, রাজনৈতিক, মানবিক ইত্যাদি সকল বিষয়ে কোরআনের অবদান ও বৈশিষ্ট্য এত ব্যাপক, যা কয়েক বাক্যে শেষ করা অসম্ভব।
১. সাহিত্যগত শ্রেষ্ঠত্ব:
বিশ্বের সব সংস্কৃতিতে সাহিত্য রচনা মানুষের ভাব প্রকাশ ও সৃজনশীলতার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আল-কোরআন সৌন্দর্য, বচনভঙ্গি ও মর্মার্থ গভীরতায় এক সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। কোরআন শব্দচয়নের উৎকৃষ্টতায়, বাক্য বিন্যাসের মাধুর্যতায়, মর্মার্থের গভীরতায়, রহস্যের সূক্ষ্মতায় ও কাব্যিক বাগ্মিতায় অভিনব সাহিত্যের অলংকারে অলংকৃত হয়েছে।
সেই সাহিত্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণস্বরূপ আল্লাহ তা’আলা মানব জাতিকে আল কোরআনের মতো অনুরূপ কোন সূরা রচনা করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহ পাক বলেন, “আমি আমার বান্দা (রাসূল সা.) এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তা সম্পর্কে তোমাদের যদি কোন সন্দেহ থাকে তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে আসো। এক্ষেত্রে তোমরা এক আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে আহ্বান করো।” (সূরা বাকারা ২৩-২৪)
যে চ্যালেঞ্জে বিগত ১৪ শত বছরের মধ্যে অদ্যাবধি কেউ সফল হতে পারেনি। অনেক কাফের, মুশরিক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে কোরআনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

৩. বিধর্মী সাহিত্যিকদের স্বীকারোক্তি:
আল্লাহ তায়ালা কোরআনের সাহিত্যের মতো অনুরূপ সূরা তৈরি করতে তৎকালীন মুশরিকদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। দলবদ্ধ হয়ে তারা বারংবার চেষ্টার পরও ব্যর্থতা স্বীকার করেছিল ও সূরা কাউসারকে তাদের কাব্যিক ভাষায় বর্ণনা করেছিল এভাবে,
‘انا اعطيناك الكوثر. ليس هذا كلام البشر’
অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে হাউজে কাউসার দিয়েছি, এটা নয়তো কোন মানুষের বাণী।’ তাদের ব্যর্থতার ফলে কোরআনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

৩. অপরিবর্তনশীল ও নির্ভুল গ্রন্থ:
কোরআন সর্বপ্রথম যেভাবে, যেরূপভাবে নাযিল হয়েছিল, ১৪ শত বছর পর আজও সেভাবেই অপরিবর্তিত রয়েছে। যুগ-কাল ভেদে সকল যুগের সকল মানুষের জন্য কোরআনের হুকুম-নির্দেশনা প্রযোজ্য এবং এটি একটি নির্ভুল গ্রন্থ, যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। সাধারণত যেকোনো গ্রন্থ সময় সাপেক্ষে নতুনদের মতো করে সংস্কৃত হলে সকলের নিকট পছন্দনীয় হয়, কিন্তু কোরআন এমন এক গ্রন্থ, যা কোন রকম সংস্কার ব্যতিরেকেই প্রথম রূপেই সর্বকালের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য ও সকলের নিকট পছন্দনীয়।
এমন বৈশিষ্ট্য কোরআন ব্যতীত পৃথিবীর অন্য কোন গ্রন্থের ক্ষেত্রে আজও পরিলক্ষিত হয়নি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “এটি এমন কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই।” (সূরা বাকারা-২) “নিশ্চয় আমিই (আল্লাহ) কোরআনের হেফাজতকারী।” (সূরা হিজর-৯) “আমি আপনার প্রতি এমন কিতাব নাযিল করেছি, যা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।” (সূরা নাহল-৮৯) এমন মহৎ বৈশিষ্ট্য কোরআনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত করে।

৪. ইতিহাসের মানদন্ড:
ইতিহাস মানব সভ্যতার জন্য এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষণীয় বিষয়। ইতিহাস মানুষের জন্য শিক্ষার আলো। তা থেকে মানুষ উত্তম শিক্ষা অর্জন করতে পারে ও চেতনায় উদ্দীপ্ত হতে পারে। মহান আল্লাহ তা’আলা সে উদ্দেশ্যে কোরআনে ইতিহাস মূলক আলোচনাও তুলে ধরেছেন। এমন এক সময়ে প্রাচীন মানব সভ্যতা, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও নবী-রাসূলের ইতিহাস কোরআনে আলোচিত হয়েছে যখন দুর্গম, বৃক্ষলতাহীন মরুভূমির সেই আরব জাজিরায় ইতিহাস শিক্ষার কোন ছিটেফোঁটা আলোও কোথাও নজরে পড়তো না, সেসময় কোরআনে বাস্তবসম্মত শিক্ষণীয় এতো ইতিহাস উল্লেখ করা কোরআনে ইলাহী কিতাব হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। কেবল বুদ্ধিমানরাই উপদেশ, শিক্ষা গ্রহণ করে।”(সূরা ইমরান)

৫. বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য:
বিজ্ঞান সর্বযুগের জন্যই এক ঈর্ষণীয় প্রতীক। বৈজ্ঞানিক আধিপত্য যুগের আরও শত শত বছর পূর্বেই কোরআন অনেক বিজ্ঞান সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা করেছে। পৃথিবীর আকৃতি, বিগ ব্যাং থিওরি, শরীরের চামড়ায় ব্যথা উপলদ্ধিকারী উপকরণ বিদ্যমান, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, ভ্রূণের বিকাশ, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ আরও অনেক বিষয়ে বিজ্ঞানের আবিষ্কার রয়েছে, যেগুলো শত শত বছর পূর্বে মরুভূমিময় আরবে নাজিলকৃত কোরআনের আয়াতাবলির সাথে মিলে যায়।
বিজ্ঞান সম্পর্কে কোরআনের অবদান বা কোরআনের ভুল ধরতে গিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানী অধ্যাপক তাগাতাত তেজাসেন, বিজ্ঞানী গ্যারি মিলার, বিজ্ঞানী ড. আতসুশি কামাল ওকুদা, বিজ্ঞানী ড. হেনরি লায়সন -এর মত বিখ্যাত বিখ্যাত অনেক বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন ধর্মযাজক কোরআনের প্রতি অভিভূত হয়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনশীল আর কোরআন অপরিবর্তনশীল ও নির্ভুল। যা প্রমাণ করে কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও ইলাহী কিতাব।
বিজ্ঞানময় কিছু আয়াত:
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
১. “আল্লাহ পৃথিবীকে ডিম্বাকৃতির ন্যায় (মেরুকান্দ্রিক চ্যাপ্টা) তৈরি করেছেন।” (সূরা নাযিয়াত-৩০)
২. “কাফেররা কি দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল (সৃষ্টির একটা অংশ হিসেবে), অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম।” (সূরা আম্বিয়া-৩০)
৩. “যারা আমার আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে আগুনে দগ্ধ করবো। যখন তাদের গায়ের চামড়া দগ্ধ হবে আমি সেই চামড়াকে নতুন চামড়া দ্বারা বদলে দিব। যেন তারা (শাস্তির পর) শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান।” (সূরা নিসা-৫৬)
৪. “আকাশকে আমি ক্ষমতা দিয়ে বানিয়েছি এবং নিশ্চয় আমি-ই এর সম্প্রসারণকারী।” (সূরা যারিয়াত-৪৭)
৫. “অতঃপর আমি শুক্র বিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে, অতঃপর রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি মাংসপিণ্ডে, অতঃপর মাংসপিণ্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, অতঃপর হাড্ডিকে গোস্ত দিয়ে আবৃত করি, অতঃপর তাকে অন্য এক সৃষ্টি রূপে গড়ে তুলি। অতএব নিপুনতম স্রষ্টা আল্লাহ কতো কল্যাণময়।” (সূরা মুমিনুন-১৪)

কোরআন সকল জ্ঞান ও সার্বিক দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। কোরআন সরাসরি কোন বিজ্ঞান বা ইতিহাস গ্রন্থ নয়; বরং বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসা ইত্যাদি সকল জ্ঞানের ঊর্ধ্বে এক মহান ঐশী গ্রন্থ। কোরআন হলো মানুষকে সঠিক পথের প্রদর্শনকারী ও সতর্ককারী কিতাব। যা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, নবীজির বিশেষ মুজিযা ও হেদায়েতের আলোর মশাল।

লেখক,
অধ্যয়নরত, সাইন্স অফ হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম,
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা