মো. আব্দুল মান্নান
চলে গেলেন একজন অতিথি পরায়ণ সারোয়ার। হাফেজ সারোয়ার আলম সারু (৪২) মঙ্গলবার রাত ৯টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ বুধবার বাদ যুহর বেলা আড়াইটার দিকে সাহাপুর বড় কুড়েরপাড় মাদরাসা ময়দানে নামাজে জানাজাশেষে তাকে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার চাচা হাফেজ মকবুল হোসেন। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা এনামুল হক বাবুল। তিনি বলেন, সারু হেরেম এলাকায় থাকতো। ২০২২ সালে হজ্জ্বে গেলে সে আমাদেরকে যে আদর আপ্যায়ণ করেছে তা কোনদিন ভুলতে পারবো না। শুধু তাই নয়, হেরেম এলাকায় থেকে সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ মক্কা শরীফে আদায় করতো। যেখানে ১ রাকাত নামাজ পড়লে ১ লক্ষ রাকাত নামাজ আদায় করার সাওয়াব পাওয়া যায়। সাবেক কাউন্সিলর নূরুল আমিন কান্নায় যেন কথা বলতে পারছিলেন না। কেঁদে কেঁদে তিনি বলেন, একটা দিনও সে ফজরের নামাজ কাজা করেনি। অনেক দিন আমি তার আগে মসজিদে যেতে চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। গিয়ে দেখি সে মসজিদে বসে আছে। সারোয়ারের ছোট বোন জামাই টঙ্গী জামিয়া নূরীয়ার উস্তাদ মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, মানুষ দুই প্রকার। একটা হলো জন্মগত মানুষ আরেকটা হলো গুণগত মানুষ। জন্মগত মানুষ আমরা সবাই। তবে গুণগত মানুষ সবাই না। যারা পরের সম্পদ মেরে খায় না। মানুষের ক্ষতি করে না। মানুষকে কষ্ট দেয় না। ঈমান, আমলে থাকে। যিকির আযকার করে। আল্লাহওয়ালা মানুষ যারা, তারা হলেন গুণগত মানুষ। সারোয়ার আলম সারু ভাই ছিলেন সে রকম গুণগত একজন মানুষ। সাহাপুর গ্রামের হাফেজ মাওলানা মুশাররফ হুসাইন বলেন, আমি উমরায় যাওয়ার ৩দিন পর সারু চাচার সাথে দেখা। আমাকে তিনি বললেন, কবে আসছো? বললাম ৩দিন হলো। পরে তিনি বললেন, বেডা! ৩দিন আগে তুমি মক্কায় আসছো; আমাকে একটা ফোন দিবানা? পরে ওইদিন তিনি আমাকে খাওয়া দাওয়া করান। উনার ইচ্ছা ছিল দুম্বার গোশত দিয়ে খাওয়াবেন। কিন্তু দুম্বার গোশত না পেয়ে পরেরদিন আমাকে দুম্বার গোশত দিয়ে আবার দাওয়াত খাওয়ালেন। তিনি এরকম একজন অতিথি পরায়ণ মানুষ ছিলেন। সারুর সহোদর ছোট ভাই বাসস্ট্যান্ডের কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী ফরোয়ার আলম ফরু তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বাসস্ট্যান্ডেই বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। পরে তাকে ফুলপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বক্তব্যে ফরু বলেন, সে সবসময় আমাকে নামাজের জন্য তাগদা দিতো। নামাজ না পড়লে রাগ করতো। বলতো, সারাদিনে ৫ বার নামাজ পড়াতে যদি তোর ৩ ঘন্টা ব্যবসা কম হয়; দেখবে হঠাৎ এমন এক কাস্টমার এসে পড়বে ৩ ঘন্টার লাভ তোর এক কাস্টমার দ্বারাই হয়ে যাবে। মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, ডাক্তার শামীমকে নিয়ে একবার আমরা সৌদিতে উমরায় গিয়েছিলাম। পরে একটা লোক আমাদেরকে তার বাসায় নিয়ে আপ্যায়ণ করেছিলেন। হেরেম শরীফের নিকটেই তিনি থাকতেন। পায়ে হেঁটেই আমরা তার বাসায় গিয়েছিলাম। গতকাল যখন তার ভাই বাসস্ট্যান্ডে বেহুঁশ হয়ে গেলেন এসময় আমি সেখানে ছিলাম। পরে জানতে পারলাম, এটা সেই লোক যিনি আমাদেরকে সৌদিতে অনেক আপ্যায়ণ করেছিলেন। আরও একজন বললেন, তিনি শুধু খাওয়াতেন না বরং কাউকে কাউকে খাওয়ানোর পর আরও ফলফলাদি কিনে ব্যাগ ভরে তার সাথে দিয়ে দিতেন। তার একজন চাচা মাওলানা মাকসুদুর রহমানের শ্বশুর হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে বলেন, ছোট মেয়েটা কানতাছে আর বলতাছে, অহন আমারে আম্মা কইয়া কেডা ডাক দিব? আমার আম্মা কই? আমার আম্মা কই? এই ডাক তো আমারে আর কেউ ডাকতো না! আব্বা, আব্বাগো! তুমি আমরারে কই ফালায়া গেলা? এসব রুনাজারিতে সাহাপুরের আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠছিল। মেয়েগুলোকে যেন কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছিল না। তার স্ত্রীর বড়ভাই রহিমগঞ্জের আব্দুস সাত্তার কেঁদে দিয়ে বলেন, আমার ছোট বোন জামাইয়ের যে এত গুণ, এত মানুষ তাকে ভালবাসে, তা কোনদিন ভাবতেও পারিনি। আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করেন। জানা যায়, সারোয়ার সৌদিতে ৫ বছর ছিলেন। হেরেম শরীফের নিকটেই ছিল তার বাসা। গত ৮/১০ মাস আগে ভিসার মেয়াদ চলে যাওয়ায় তিনি দেশে চলে আসেন। তার ৩ জন কন্যা সন্তান রয়েছেন। তারা সবাই মাদরাসায় পড়েন। বড় কন্যার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। আর ছোট জনের বয়স ৭/৮ বছর। তিনি অত্যন্ত অতিথি পরায়ণ, তাহাজ্জুদ গুজার ও আল্লাহওয়ালা লোক ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা যেন উনাকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করেন।চলে গেলেন একজন অতিথি পরায়ণ সারোয়ার
মো. আব্দুল মান্নান
চলে গেলেন একজন অতিথি পরায়ণ সারোয়ার। হাফেজ সারোয়ার আলম সারু (৪২) মঙ্গলবার রাত ৯টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ বুধবার বাদ যুহর বেলা আড়াইটার দিকে সাহাপুর বড় কুড়েরপাড় মাদরাসা ময়দানে নামাজে জানাজাশেষে তাকে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার চাচা হাফেজ মকবুল হোসেন। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা এনামুল হক বাবুল। তিনি বলেন, সারু হেরেম এলাকায় থাকতো। ২০২২ সালে হজ্জ্বে গেলে সে আমাদেরকে যে আদর আপ্যায়ণ করেছে তা কোনদিন ভুলতে পারবো না। শুধু তাই নয়, হেরেম এলাকায় থেকে সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ মক্কা শরীফে আদায় করতো। যেখানে ১ রাকাত নামাজ পড়লে ১ লক্ষ রাকাত নামাজ আদায় করার সাওয়াব পাওয়া যায়। সাবেক কাউন্সিলর নূরুল আমিন কান্নায় যেন কথা বলতে পারছিলেন না। কেঁদে কেঁদে তিনি বলেন, একটা দিনও সে ফজরের নামাজ কাজা করেনি। অনেক দিন আমি তার আগে মসজিদে যেতে চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। গিয়ে দেখি সে মসজিদে বসে আছে। সারোয়ারের ছোট বোন জামাই টঙ্গী জামিয়া নূরীয়ার উস্তাদ মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, মানুষ দুই প্রকার। একটা হলো জন্মগত মানুষ আরেকটা হলো গুণগত মানুষ। জন্মগত মানুষ আমরা সবাই। তবে গুণগত মানুষ সবাই না। যারা পরের সম্পদ মেরে খায় না। মানুষের ক্ষতি করে না। মানুষকে কষ্ট দেয় না। ঈমান, আমলে থাকে। যিকির আযকার করে। আল্লাহওয়ালা মানুষ যারা, তারা হলেন গুণগত মানুষ। সারোয়ার আলম সারু ভাই ছিলেন সে রকম গুণগত একজন মানুষ। সাহাপুর গ্রামের হাফেজ মাওলানা মুশাররফ হুসাইন বলেন, আমি উমরায় যাওয়ার ৩দিন পর সারু চাচার সাথে দেখা। আমাকে তিনি বললেন, কবে আসছো? বললাম ৩দিন হলো। পরে তিনি বললেন, বেডা! ৩দিন আগে তুমি মক্কায় আসছো; আমাকে একটা ফোন দিবানা? পরে ওইদিন তিনি আমাকে খাওয়া দাওয়া করান। উনার ইচ্ছা ছিল দুম্বার গোশত দিয়ে খাওয়াবেন। কিন্তু দুম্বার গোশত না পেয়ে পরেরদিন আমাকে দুম্বার গোশত দিয়ে আবার দাওয়াত খাওয়ালেন। তিনি এরকম একজন অতিথি পরায়ণ মানুষ ছিলেন। সারুর সহোদর ছোট ভাই বাসস্ট্যান্ডের কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী ফরোয়ার আলম ফরু তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বাসস্ট্যান্ডেই বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। পরে তাকে ফুলপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বক্তব্যে ফরু বলেন, সে সবসময় আমাকে নামাজের জন্য তাগদা দিতো। নামাজ না পড়লে রাগ করতো। বলতো, সারাদিনে ৫ বার নামাজ পড়াতে যদি তোর ৩ ঘন্টা ব্যবসা কম হয়; দেখবে হঠাৎ এমন এক কাস্টমার এসে পড়বে ৩ ঘন্টার লাভ তোর এক কাস্টমার দ্বারাই হয়ে যাবে। মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, ডাক্তার শামীমকে নিয়ে একবার আমরা সৌদিতে উমরায় গিয়েছিলাম। পরে একটা লোক আমাদেরকে তার বাসায় নিয়ে আপ্যায়ণ করেছিলেন। হেরেম শরীফের নিকটেই তিনি থাকতেন। পায়ে হেঁটেই আমরা তার বাসায় গিয়েছিলাম। গতকাল যখন তার ভাই বাসস্ট্যান্ডে বেহুঁশ হয়ে গেলেন এসময় আমি সেখানে ছিলাম। পরে জানতে পারলাম, এটা সেই লোক যিনি আমাদেরকে সৌদিতে অনেক আপ্যায়ণ করেছিলেন। আরও একজন বললেন, তিনি শুধু খাওয়াতেন না বরং কাউকে কাউকে খাওয়ানোর পর আরও ফলফলাদি কিনে ব্যাগ ভরে তার সাথে দিয়ে দিতেন। তার একজন চাচা মাওলানা মাকসুদুর রহমানের শ্বশুর হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে বলেন, ছোট মেয়েটা কানতাছে আর বলতাছে, অহন আমারে আম্মা কইয়া কেডা ডাক দিব? আমার আম্মা কই? আমার আম্মা কই? এই ডাক তো আমারে আর কেউ ডাকতো না! আব্বা, আব্বাগো! তুমি আমরারে কই ফালায়া গেলা? এসব রুনাজারিতে সাহাপুরের আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠছিল। মেয়েগুলোকে যেন কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছিল না। তার স্ত্রীর বড়ভাই রহিমগঞ্জের আব্দুস সাত্তার কেঁদে দিয়ে বলেন, আমার ছোট বোন জামাইয়ের যে এত গুণ, এত মানুষ তাকে ভালবাসে, তা কোনদিন ভাবতেও পারিনি। আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করেন। জানা যায়, সারোয়ার সৌদিতে ৫ বছর ছিলেন। হেরেম শরীফের নিকটেই ছিল তার বাসা। গত ৮/১০ মাস আগে ভিসার মেয়াদ চলে যাওয়ায় তিনি দেশে চলে আসেন। তার ৩ জন কন্যা সন্তান রয়েছেন। তারা সবাই মাদরাসায় পড়েন। বড় কন্যার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। আর ছোট জনের বয়স ৭/৮ বছর। তিনি অত্যন্ত অতিথি পরায়ণ, তাহাজ্জুদ গুজার ও আল্লাহওয়ালা লোক ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা যেন উনাকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করেন।