মো. আব্দুল মান্নান :
আমল পুরা না করলে এর ফজিলত পাওয়া যায় না। রোজানা তেলাওয়াত যাতে না ছুটে। ইজতিমায়ী আমলের পাশাপাশি ইনফেরাদী আমলও করতে হবে। ২৪ ঘন্টার জোড় উপলক্ষে ময়মনসিংহ মার্কাজ মসজিদে আজ শুক্রবার দিনব্যাপী বেশ কয়েকজন বুজুর্গ বয়ান করেছেন। তাদের নাম আমার জানা নেই। সংক্ষেপে কিছু নোট করেছি। ওখান থেকে এখানে কিছু তুলে ধরা হলো।
মুরুব্বি বলেন, বা-তলব বা-নসীব। বে-তলব বে-নসীব। তিনি বলেন, তলব থাকলে অনেক কিছু নসীব হয় আর তলব না থাকলে অনেক কিছুই নসীব হয় না।
বলা হয়, والذين جاهدوا فينا لنهدينهم سبلنا অর্থাৎ যারা চেষ্টা সাধনা করে আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য পথ খুলে দেন। সাহাবিদের ইসলাহ হয়েছে দাওয়াতের মাধ্যমে। এরকমভাবে আল্লাহ তায়ালা মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর মাধ্যমে দাওয়াতের কাজকে আবারও চালু করে দিয়েছেন।
মুরুব্বি বলেন, এক বুজুর্গের জ্বর। গাশতের দিন বিছানা নিয়ে তিনি মসজিদে গিয়ে শুয়ে রয়েছেন। জিজ্ঞাসা করা হলো- আপনি নাকি অসুস্থ? বললেন, হ্যাঁ। তাহলে মসজিদে এসে শুয়ে আছেন কেন? তিনি বললেন, শুয়েই যেহেতু থাকবো তাহলে মসজিদে গিয়েই শুয়ে থাকি। তাতেও তো শুয়ে শুয়ে কিছু বয়ান শোনা যাবে।

মেহমান বলেন, কোন কাজের বরকত হাসিলের জন্য উহা পুরা করা শর্ত। উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে তিনি বলেন, এক মিনিট আগে যদি কেহ ইফতার করে ফেলেন তাতে কি রোজা হবে? হবে না। একজন নামাজ সবটুকুই প্রায় পড়েছেন কিন্তু ইমামের আগে সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। তাতে উনার নামাজ হবে কি? হবে না। এরকমভাবে আমল পুরা না করলে এর ফজিলত পাওয়া যায় না।
এসময় তিনি আরও বলেন, মসজিদের ৫ কাজ পুরা করতে হবে। ৫ কাজ পুরা হলে সব তাকাজা পুরা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, একেকটা মসজিদ একেকটা খনি। এর পেছনে মেহনত করলে হীরা মানিক্য বের হয়ে আসবে। ৫ কাজ যে করবে সে নিজে শক্তিশালী হবে এমনকি তার ভেতরে এমন এক শক্তি পয়দা হবে যে, এর আকর্ষণে অন্যরা তার কাছে চলে আসবে। অন্যদেরকে সে টানবে। চুম্বক যেভাবে টানে। দাওয়াতের আমল এক নম্বরে আমি নিজে করবো। কেউ না থাকলেও আমিই করবো। কেউ না থাকলে ২টা হাঁটুর সাথে মাশওয়ারাহ করবো।
কারগুজারী শুনিয়ে মেহমান বলেন, এক ব্যক্তি এরকমভাবে ৬ মাস একা একা মাশওয়ারাহ করার পর আল্লাহ তায়ালা তার কাম চালু কইরা দিছেন। লোকেরা বলে দেখি ত সে একা একা কি করে? এভাবে লোকজন এ কামে জুড়তে থাকে। যেসব মসজিদে ৩ কাজ, ৪ কাজ চালু আছে ওইগুলোকে টার্গেট বানাতে হবে। বানিয়ে ওখানে ৫ কাজ চালু করতে হবে।
তিনি বলেন, ২য় গাশত হলো ক্ষেতের বেড়া স্বরূপ। ২য় গাশতে নতুন নতুন সাথী নিয়ে যেতে হবে। ওখান থেকে তাশকিল করে ৩দিনের জন্য পাঠাতে হবে। পরে উনারাই ১ চিল্লা, ৩ চিল্লার জন্য তৈরি হবেন। ঘরে তালীম করতে হবে। ঘরের তালীমের দ্বারা বদদীনী ঘর থেকে দূর হয়ে যাবে।
মেহমান বলেন যে, দাওয়াতের কাজের লাভ যদি মানুষ দেখতো তাহলে কইলজা ফাইট্যা মইরা যাইতো। তিনি বলেন, মানুষের ভুল ধরা পড়ে ২ জায়গায়। এরকম ওয়াজ মাহফিলে ও মরার পর কবরে। পরে আর সংশোধন হওয়ার আর কোন সুযোগ থাকবে না।

এর আগে আরেকজন মুরুব্বি বয়ানে বলেন, দুনিয়াদাররা যেভাবে শরীরের ঘাম ঝরিয়ে কাম করেন, দীনের জন্যেও সেভাবে ঘাম ঝরিয়ে কাম করতে হবে। কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী সাহাবী আসবেন না। তবে দীনের মেহনত কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। তাবলীগের এই মেহনতের উদ্দেশ্য হলো- হেদায়াত পাওয়া। হেদায়াত মেহনত ছাড়া আসে না। পশুর মধ্যে মওতের ভয় নেই। পশুর মধ্যে যদি মওতের ভয় থাকতো, তাহলে এত মোটাতাজা পশু পাওয়া যেতো না।
মুরুব্বি বলেন, এই মেহনতের চোখ হলো উলামায়ে কেরাম। দেখা যায়, দুনিয়ার কোন দায়িত্ব পেলে আমরা খুশি হই। চেয়ারম্যান, মেম্বার পদ বা কোন প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ পেলে আমরা খুশি হই। কিন্তু দীনী কোন পদ পেলে বা কাম পেলে আমরা খুশি হই না। ওটা নিতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা আখেরাত বানাইবার জন্য আমাদেরকে সময় দান করেছেন। তারাই কামিয়াব যারা নবীর কথামত তাদের জিন্দেগীকে বানাইছে। যেসব আমল দ্বারা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক হয় এর মধ্যে একটি হলো- আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া। এজন্য ভাই দোস্ত ও বুজুর্গ আমরা বেশি থেকে বেশি সময় আল্লাহর রাস্তায় দেওয়ার চেষ্টা করবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফীক দান করুক।