মো. আব্দুল মান্নান :
জামিয়া শায়খ আবদুল মোমিন (রহ.), মোমেনশাহী-এর মুহতামিম মুফতী মাহবুবুল্লাহ কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, আফগানিস্তানের মানুষ কাগজের পৃষ্ঠা থেকে ইসলামকে তাদের জীবনের পৃষ্ঠায় নিয়ে এসেছেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে তাসবীহের ছড়া। যারা সরকারি চাকরি করেন এমনকি সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হাতেও রয়েছে তাসবীহ। এভাবে অধিক পরিমাণে মাওলা পাকের জিকির করতে করতে একেকজন মানুষ সোনার মানুষে পরিণত হয়েছেন।
তিনি বলেন, নবুয়তের ৫ম বছরে হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজে গেছেন। অতএব, নামাজও তখন ফরজ হয়। রাসূলে কারীম (সা.) মদীনায় গিয়ে রাষ্ট্র গঠনের পর ১৩তম বছরে যাকাত ফরজ হয়। রোজা নবুওয়তের ১৪তম বছরে ফরজ হয়েছে। আর নবুয়তের ২২তম বছরে হজ্ব ফরজ হয়েছে কিন্তু ওই বছর হুজুর (সা.) হজ্ব করতে পারেননি। ২৩তম বছরে তিনি হজ্বব্রত পালন করেন। এরপর মাত্র ২ মাস ১০/১২ দিন পরই তিনি বিদায় নেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।
তিনি বলেন, নামাজ ছাড়া, রোজা ছাড়া এসব ইবাদত ছাড়া একজন মানুষ কখনো মুসলমান হতে পারে না। নামাজ নির্ধারিত, যাকাত নির্ধারিত। নির্ধারিত পরিমাণে ও নির্ধারিত সময়েই তা আদায় করতে হয়। কিন্তু যিকির ব্যতিক্রম। এর কোন সময় সীমা নেই। এসময় তিনি ভক্ত ও মুরিদানদের বিশেষ তরীকায় কতক্ষণ যিকির করান। অন্যান্য আমলের পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ করা থাকলেও যিকির ব্যতিক্রম।
কিন্তু কেন? এসময় তিনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হজরত ওয়াহশী (রা.) ছিলেন হুজুর (সা.)-এর একজন আদনা সাহাবী। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি হুজুরের চাচাজান হজরত হামজা (রা.)-কে শহীদ করেছিলেন। এ ঘটনার পর ওয়াহশী মুসলমান হয়ে যান।
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ওয়াহশী (রা.)-কে বলছিলেন, ‘আজকের পর যেন তোমার মুখ আমার সামনে না থাকে’ বা ‘তোমার চেহারা আমার থেকে দূরে সরিয়ে নাও’, কারণ ওয়াহশী (রা.) রাসূল (সা.)-এর প্রিয় চাচা হযরত হামজা (রা.)-কে হত্যা করেছিলেন, যা রাসূল (সা.)-এর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। এই কথা বলে রাসূল (সা.) ওয়াহশী (রা.)-কে তাঁর চেহারার দিকে তাকাতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে রাসূল (সা.)-এর কষ্টকর স্মৃতি মনে না পড়ে। জানা যায়, ওয়াহশী (রা.) উহুদের যুদ্ধে রাসূল (সা.)-এর চাচা হযরত হামজা (রা.)-কে হত্যা করেছিলেন। এটি ছিল রাসূল (সা.)-এর জন্য একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। রাসূল (সা.) ওয়াহশী (রা.)-কে দেখতে পেলেই তাঁর চাচার শাহাদাতের কথা মনে পড়ত, যা তাঁর জন্য চরম অস্বস্তিকর ছিল। এই কারণে, রাসূল (সা.) ওয়াহশী (রা.)-কে বলছিলেন যেন তিনি তাঁর সামনে না থাকেন বা নিজের মুখ লুকিয়ে রাখেন। এই ঘটনার পর থেকে, ওয়াহশী (রা.) সচেতনভাবে রাসূল (সা.)-এর থেকে দূরে থাকতেন এবং তাঁর সামনে বসতেন না, যতক্ষণ না রাসূল (সা.) ইন্তেকাল করেন। এরপর তিনি ৪টি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস বয়ান করেন এবং আফগানিস্তান সফরের বর্ণনা দিয়ে সবশেষে বলেন, যিকির ছাড়া গতি নেই। হরদম যিকির চালু রাখতে হবে।
জানা যায়, হুজুরের এই আফগানিস্তান সফরে সাথে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, মধুপুরের পীর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল, ময়মনসিংহ বড় মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক, বারিধারা মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ প্রমুখ।