আজ
|| ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শ্বশুর ভক্ত নিষ্ঠুর ছেলে!
প্রকাশের তারিখঃ ২৪ আগস্ট, ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক :
ছেলে ইমুতে মেসেজ পাঠিয়েছে- “বাবা, আপনার নামে ২০ হাজার টাকা ছেড়েছি। এ টাকা দিয়ে আপনি ডাক্তার দেখাবেন। ফল কিনে খাবেন। গোপন নাম্বারে পাঠিয়েছি। আপনি আইডি কার্ড নিয়ে জনতা ব্যাংকে গেলেই টাকা পেয়ে যাবেন”।
(গোপনীয়তার স্বার্থে পিন নাম্বারটি দিলাম না)।
ছেলের কথা মতো বাবা জনতা ব্যাংক, গৌরীপুর শাখা, ময়মনসিংহ-এ এসেছেন টাকা তোলার জন্য। বেশ অসুস্থ শরীর তাঁর। কোনমতে লাঠিতে ভর করে চলাফেরা করেন। বললাম- এই শরীর নিয়ে একা একা আসা ঠিক হয়নি আপনার।
তিনি জানালেন- সাথে আসার মতো কাউকে পাননি। তাই কষ্ট করে একাই এসেছেন। টাকা তুলে ডাক্তার দেখিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন।
মুরুব্বিকে আমার রুমে বসিয়ে সহকর্মীকে বললাম, উনার টাকাটা পে-আউট করে দেয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর আমার সহকর্মী জানালো, এই টাকার বেনিফিসিয়ারী তিনি নন। অন্য আরেকজন। পরবর্তীতে গোপন পিন নাম্বারটি আমি নিজে কয়েকবার মিলিয়ে দেখলাম, সহকর্মীর কথাই সত্যি। পরে ভদ্রলোকের কাছে জানতে চাইলাম, উল্লেখিত ব্যক্তিকে আপনি চিনেন কিনা। নাম শোনতেই তাঁর দু’চোখে জলের তান্ডব দেখলাম!
অভাগা বাবা কাঁদতে কাঁদতে লাঠিতে ভর দিয়ে চলে গেলেন।
তখন নায়ক রাজ্জাকের “বাবা কেনো চাকর” সিনেমাটির কথা মনে পড়ে গেল। হৃদয়ে বাজতে লাগলো- আমার মতো এমন সুখী নেইতো কারো জীবন…..
বুঝতে পারলাম, ছেলে তার শ্বশুরকে পাঠানো মেসেজটি ভুলক্রমে বাবার মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঘন্টা দেড়েক পর একজন তরতাজা ভদ্রলোক এসে সে টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। তারঁ সাথেও কথা হল। জানতে চাইলাম, কে টাকা পাঠিয়েছেন?
মাঝ বয়োসী ভদ্রলোক বললেন, - “আমার জামাই। নবীর দেশে থাকে। খুব ভালো ছেলে। কয়েক মাস পর পর শরীর চেকআপের জন্য টাকা পাঠায়। পাগল একটা জামাই! দোয়া করবেন, স্যার।
আমি কিছুক্ষণের জন্য স্তব্দ হয়ে গেলাম। ভাবলাম, বাবা ছেলেকে বড় করে নবীর দেশে পাঠিয়েছিলেন ঠিকই, এখন সে আবু জাহেলের দেশে বাস করে……
--- মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন
ব্যবস্থাপক, জনতা ব্যাংক পিএলসি.গৌরীপুর শাখা।
* অনলাইন থেকে সংগৃহীত।
* রূপক ছবি।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.