মো. আব্দুল মান্নান
১৪৬, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক সায়েম বলেছেন, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমি অসৎ ব্যক্তির জন্য অসৎ হবো, সৎ ব্যক্তির জন্য সৎ থাকবো। আজ থেকে হালুয়াঘাট পৌরসভা ছাড়া কোন স্ট্যান্ডে কোন চাঁদাবাজি চলবে না। এটা মেয়র সাহেব দেখবেন। এখন থেকে আর কেউ আপনাদেরকে চাঁদা দিবে না। ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করবেন। কোন একজন ব্যক্তিও যদি চাঁদা চায় তাহলে আমাকে জানাবেন। চাঁদাবাজদের হুশিয়ার করে তিনি বলেন, খবরদার, এখন থেকে আর একটি টাকাও চাঁদা নেওয়া যাবে না। আপনারা কোন চাঁদা দিবেন না। আপনাদেরকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। জনগণ এ দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন। হিন্দু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যারা আছেন আপনারা নিরাপদে আপনাদের ধর্ম পালন করবেন। আমরা আপনাদের দারোয়ান। পাহারা দিব। সাথে দাঁড়িয়ে থাকবো। যে কোন সুখে দুখে আপনাদের পাশে থাকবো। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) হালুয়াঘাটে একটি জনসমাবেশে উপস্থিত সুধীমন্ডলীর উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি নিজে গরিব হতে পারি কিন্তু আমার বাপ দাদারা কেউ গরিব ছিল না। তার বিরোধীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনারা উপজেলা পরিষদ থেকে কামাতে এসেছিলেন। আমি ফান্ড করেছি।
হালুয়াঘাটে এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে একটি কাজও নেই। আগে যারা ছিলেন তারা কোন ইউনিয়নে কোন ওয়ার্ডে কাজ করেছেন? একটা কাজ দেখান। দেখাতে পারবেন না।
বহু বাজে আচরণ করেছেন। বাজে আচরণে কিছু যায় আসে না। ভদ্রতা দিয়ে শালীনতা দিয়ে কিছু অর্জন করার চেষ্টা করুন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। ভাত কাপড়ের চিন্তা করতে হয়নি। বাপ-দাদার তালুকদারি ছিল বলে। আর আপনাদের চিন্তা করতে হয় বলেই আপনারা এই মানুষকে চুষেছেন। যে কারণে তারা আপনাদের বিট্রে করেছে।
আপনাদের অতীত ঐতিহ্য আমাদের জানা নেই? আপনারা কোত্থেকে এসেছেন? আমার জমির নাকি কাগজ নেই! আমার জমির যে পরিষ্কার কাগজ আছে এই কাগজ জীবনেও দেখছেন? আমাদেরকে ছোট করার জন্য সমালোচনা করে নিজেরাই ছোট হয়েছেন। আমরা ছোট হইনি। আমার একটা ভোটও নকল হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রতি আঙুল ঘুরিয়ে দেখিয়ে বলেছেন, এইগুলি আমার হীরার টুকরা। আওয়ামী লীগ করে কিছু পেয়েছি। আমি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী।
আমি একজন শিক্ষিত মানুষ। আমার মত একজন শিক্ষিত মানুষ সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। আমি হিন্দু খ্রিস্টান সবাইকে শ্রদ্ধা করি। এটা আমার রাসূলের শিক্ষা।
তার বিরোধীর প্রতি ইঙ্গিত করে নবনির্বাচিত এমপি মাহমুদুল হক সায়েম বলেন, আপনার রাজনীতি টু পাইস কামাইয়ের জন্য হতে পারে। আমার রাজনীতি আদর্শের। আমার রাজনীতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি। আপনার সাথে আমার রাজনীতি মিলবে না।
আপনি আমাকে বলেন, কুলাঙ্গার। কুলাঙ্গার শব্দের বাংলা জানেন? যাক, বাদ দিলাম। ৯৬০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে পাকাকরণ করা হয়েছে মাত্র ১২৫ কিলোমিটার। আরও প্রায় সাড়ে ৮০০ কিলোমিটার বাকি আছে।
প্রিয় উপস্থিতি, আপনারা ভালবেসে আমাকে ভোট দিয়েছেন। এখন আমার মাথার উপর বোঝা। উপজেলা পরিষদে আমি ঠকাইনি আপনাদেরকে। সাড়ে ২৬ কোটি টাকার কাজ করেছি।
যারা তাকে হেয় করে কথা বলেছেন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি মাটির দালানে বড় হইনি। আমাকে উত্তর দক্ষিণ দিয়ে ভাগ করে ফেলবেন না। আমি সবার।
আপনারা আমাকে গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন। দোয়া করবেন যাতে সুষ্ঠুভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে পারি। উজানের নদী খনন করতে হবে। খনন করে কংশে নামিয়ে দিতে হবে। আমাদের কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষি অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রী যে ধান গমের বীজ দেন, সার দেন; এগুলো বিক্রি করে খেয়ে ফেলে। বিগত দিনে উপজেলায় থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় ২০০ টিউবওয়েল বিতরণ করেছি। একটি টাকাও নেইনি। রাজনীতি করলে সততার মধ্যে থেকে করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। আমরা কাজ করে খাই। শান্তিতে ঘুমাই। আমি এগুলোর প্রটেস্ট করলে আপনাদের শান্তি বিনষ্ট হতো। তাই সহ্য করে গেছি।
এখন আমাদের কাজ করতে হবে। রাস্তা ঘাট পাকা করতে হবে। ব্রিজ কালভার্ট করতে হবে। কৃষি ও সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমি অসৎ ব্যক্তির জন্য অসৎ হবো। সৎ মানুষের জন্য সৎ থাকবো।
আমাকে বলে, আমি আওয়ামী লীগের কে? এটা আপনি বলার কেউ না। এটা বলবেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। এখানে যারা বসে আছে তারা আওয়ামী লীগের কে? এ কথা আপনি বলতে পারেন না। আমি ৩০ বছর ধরে ছাত্র লীগ থেকে শুরু করে আজও পর্যন্ত আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছি। আপনি আমাকে এ কথা বলতে পারেন না।
আরেকটি কথা, প্রিয় ভাইয়েরা আমার, গভীর রাতে ‘কেমন আছেন’ জানার জন্য ফোন দেওয়ার দরকার নেই। তবে হ্যাঁ, যে কোন সময় ফোন দিবেন যদি প্রয়োজন পড়ে। আমি নড়াইল গ্রামে আমার বাবার বাড়িতেই থাকি। এখানে সকাল ১০টা থেকে ২টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকি। বিশেষ প্রয়োজনে কোথাও গেলে বা ঢাকা চলে গেলে সেটা ভিন্ন কথা। তাছাড়া এখানেই পাবেন, ইনশাআল্লাহ। সবার জন্য দোয়া রইলো। এখান থেকে ধোবাউড়ায় যেতে হবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।