মো. আব্দুল মান্নান :
আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ লিটন বলেছেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দল হিসেবে তার প্রতি অবিচার করেছে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সাবেক সদস্য ও ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা মরহুম জহিরুল ইসলাম সম্বন্ধে বলতে গিয়ে জানাজাপূর্ব সমাবেশে তিনি একথা বলেন। ব্যারিস্টার লিটন বলেন, তার সাথে আমি অনেক সময় রাজনৈতিক সময় কাটিয়েছি। তিনি আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে মোটরসাইকেলে করে তিনি আমাকে নিয়ে ঘুরেছেন। আমি লক্ষ্য করেছি, সাধারণ মানুষের জন্য তার যে আকুতি ছিল তা খুবই বিরল ও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দল হিসেবে তার প্রতি অবিচার করেছে।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, (বক্তব্যের সিরিয়াল অনুযায়ী) শাহীন, রকিবুল হাসান সোহেল, সানোয়ার হোসেন খান, এমদাদ হোসেন খান, হেলাল উদ্দিন হেলু, আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, বালিয়া মাদরাসার পক্ষ থেকে একজন, ঢাকুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, এড. সৈয়দ এনায়েত উর রহমান, এমরান হাসান পল্লব, মরহুমে সম্বন্ধি শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ, মরহুমের বড়ছেলে জাকির হোসেন, মরহুমের ভাতিজা মাহবুব প্রমুখ।
মাওলানা মতিউর রহমান শেখের সঞ্চালনায় রকিবুল হাসান সোহেল বলেন, উনার কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। সানোয়ার হোসেন খান বলেন, জহিরুল ভাই আমার আত্মীয়। তিনি অত্যন্ত ভাল মানুষ ছিলেন। এমদাদ হোসেন খান বলেন, জহিরুল ভাই আমারও আত্মীয়। তার সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে অনেক সময় লাগবে। ত্যাগী নেতা ছিলেন। দল তাকে সুবিধা দেয়নি। শেষ বয়সে হয়তো বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরেছেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করুক। হেলাল উদ্দিন হেলু বলেন, জহিরুল আমাদের ক্লাসমেট ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। বড় নেতা ছিলেন। তিনি কারো কোন ক্ষতি করেছেন কি না আমার জানা নেই। আমার জানা মতে, তিনি কারো কোন ক্ষতি করেননি। আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ফুলপুর পাইলট স্কুলে আমরা যখন ৭ম শ্রেণিতে পড়তাম, তখন থেকেই তার নেতৃত্ব আমরা লক্ষ্য করেছি। ভালো নেতা ছিলেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন বলেন, কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার জন্য আন্তরিক দোয়া রইলো। সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন। বালিয়া মাদরাসার পক্ষ থেকে একজন বলেন, বালিয়া মাদরাসার উন্নয়নে তিনি সবসময় জড়িত থাকতেন। এর শোকরিয়া আদায় করতে আমরা এসেছি। আল্লাহ তায়ালা উনাকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করুক। ঢাকুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, তার সম্বন্ধে বলতে গেলে শেষ হবে না। এড. সৈয়দ এনায়েত উর রহমান বলেন, কিছু না পেয়ে যিনি তার জীবনটা শেষ করে গেছেন তিনি হলেন জহিরুল ইসলাম। তার কোন লোভ লালসা ছিল না। এমরান হাসান পল্লব বলেন, উনি সারাজীবন আমার চাচা আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের সাথে ব্যয় করেছেন। গরিব দুঃখী মানুষের জন্য জীবন ব্যয় করে গেছেন। শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, মরহুম আমার বোনজামাই। তিনি এমন একজন নেতা ছিলেন সবসময় তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। মাওলানা ভাসানীর মত কাজ করতেন। বড়ছেলে জাকির হোসেন বলেন, আমার বাবার প্রতি আপনারা মনে কোন কষ্ট রাখবেন না। বাবাকে মাফ করে দিয়েন। আমার মাকেও মাফ করে দিয়েন। মা’র ইচ্ছে বেহেশতে বাবার সাথে থাকবেন। আল্লাহ যেন তাদের ইচ্ছাকে কবুল করেন সবাই আমার মা-বাবার জন্য দোয়া করবেন।
সবশেষে জানাজার নামাজে ইমামতি করেন আলহাজ্ব তোজাম্মেল হোসেন। জানাজাশেষে উনাকে আঞ্জুমানে হেমায়েতে ইসলাম কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।