• বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি বাশুয়া কবিরপুর মাদরাসার সভা ৮ জানুয়ারি, আল্লামা মামুনুল হকসহ আসছেন দেশি-বিদেশি শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় হিফজুল কুরআন ও আজান প্রতিযোগিতা ফুলপুরে জামিয়া দারুল আরকাম মহিলা মাদরাসায় খতমে বুখারী উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল

বিশ্ব ইজতেমায় আনেওয়ালাদের জন্য করণীয় বিষয়ে বড়দের ফায়সালা

Reporter Name / ২০৮ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

মো. আব্দুল মান্নান
এবার ২০২৪ সনের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে। এতে যারা শরীক হবেন তাদের জন্য কিছু করণীয় রয়েছে। কিছু নিয়ম কানূন অনুসরণ করতে হবে। আজ সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ বিষয়ে ময়মনসিংহের ফুলপুর মার্কাজ মসজিদে আয়োজিত জোড়ে আলোচনা করা হয়েছে। জানা যায়, বিশ্ব ইজতেমায় ময়মনসিংহের ৩টা খিত্তা থাকবে। ১নং খিত্তার জিম্মাদার প্রফেসর শামীম স্যার, ২নং খিত্তার (হালুয়াঘাট, ফুলপুর, গৌরীপুর ও মুক্তাগাছা) জিম্মাদার ড. হাবিবুর রহমান ও ৩নং খিত্তার জিম্মাদার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম স্যার। আজ সোমবার ফুলপুর মার্কাজে আয়োজিত জোড়ে বয়ান করেন মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, ময়মনসিংহের মুরুব্বি মাওলানা আব্দুল ওয়াদূদ ও ড. হাবিবুর রহমান। এসময় জানানো হয় যে, আমাদের ফুলপুরের খিত্তা নং ৩৬, খুটি ৮৫৫, ৮৫৭, ১০৫৫ ও ১০৫৭। এ জোড়ে ড. হাবিবুর রহমান লিখিত নিয়মাবলি পাঠ করে শোনান।

তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গী ময়দানে পাহাড়ার নজম ২৮ জানুয়ারি পৌঁছবেন এবং ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকবেন। আর খিত্তা ও জুড়নেওয়ালী জামাত ৩০ জানুয়ারি রাতে ময়দানে পৌঁছবেন। সকল নজমের সাথে মুজাকারা ৩১ জানুয়ারি ফজরের পর থেকে শুরু হবে। ময়দানে উমূমি মজমা আসবে ১ ফেব্রুয়ারি।
খুসূসী প্রোগ্রাম :
উলামা হজরত, খাওয়াস, ইংরেজি শিক্ষক, ইংরেজি ছাত্র, আরবী ছাত্র ও বধির ভাইদের জন্য পৃথক পৃথক বয়ান হবে।
উলামা হজরতদের প্রোগ্রাম হবে বয়ানের মিম্বরে। ইংরেজি ছাত্রদের প্রোগ্রাম হবে নামাজের মিম্বরে। ইংরেজি শিক্ষকদের প্রোগ্রাম হবে নামাজের মিম্বরে। আরবী ছাত্রদের প্রোগ্রাম হবে বয়ানের মিম্বরে। খাওয়াসদের অবস্থান ও প্রোগ্রাম হবে টিন শেডে।
বধির ভাইদের অবস্থান ও বিশেষ প্রোগ্রাম হবে পশ্চিম পাড়ে বেলাল মসজিদে। নিজ জেলার বধির ভাইদের তরজমানসহ ইজতেমার শুরুতেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিলে ভাল হয়।
খিত্তার জামাত, মসজিদওয়ালী পয়েন্ট ও জুড়নেওয়ালী পয়েন্টের জামাতসমূহ ময়দানে আসার পূর্বে পূর্ণাঙ্গ জামাত বানিয়ে কাজসমূহ বুঝিয়ে ময়দানে নিয়ে আসলে ভাল হয়।
ঢাকা খিত্তার ন্যায় যে সকল জেলা সামিয়ানা নিয়ে আসবেন উনারা সামিয়ানা টানানোর সময় সতর্কতার সাথে সামিয়ানা টানাবেন। যাতে মাইক ও ইলেক্ট্রিক তার ঠিকমত থাকে।
প্যান্ডেলের মধ্যে কোনভাবেই রান্না করা যাবে না। অন্য কেউ করলে একরাম ও মহব্বতের সাথে বুঝিয়ে তাকেও বিরত রাখতে হবে।
ভিতরে বর্জ্য রাখার জন্য আলাদা আলাদা ব্যাগ থাকবে সেখানে রাখবো। এত্তেসালের জন্য প্রত্যেক খিত্তায় উলামা হজরতদের দিয়ে জামাত বানিয়ে আনা যাতে মিম্বর থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয় সে অনুযায়ী জামাত কাজ করতে পারে। প্রত্যেক খিত্তায় মুকাব্বির থাকবে। এখন থেকে ৫-৭ জনের জামাত বানিয়ে ইজতেমার মেহনত চালু করতে হবে। ইজতেমার ৫-৭ পূর্ব হতে নিজ মসজিদে বিছানা ফেলে নগদ জামাত উসূলের চেষ্টা করা।
হেদায়াত:
উমূমী ইজতেমার দ্বারা মানুষের ভেতর হক কবুলের এস্তেদাদ পয়দা হয়। এজন্য নিজ এলাকায় আমরা এমনভাবে মেহনত করবো যাতে প্রত্যেক তবকার নারী-পুরুষ এমনকি বাচ্চারাও ইজতেমা বিষয়ে সম্পর্কযুক্ত থাকে। এ ব্যাপারে নিচের বিষয়গুলো মুজাকারা করা দরকার :
ইজতেমায় আসার পূর্বে সমস্ত পুরনো সাথীদেরকে ফিকিরবন্দ করা দরকার। যাতে ইজতেমা আমলী ইজতেমায় পরিণত হয়।
প্রত্যেক মসজিদওয়ালী জামাতের আওতায় খিত্তার ভেতরে আনুমানিক ১৬টি খোপ থাকে। প্রত্যেক খোপে ৩০-৪০ জন সাথী থাকবেন। এর মধ্যে আনুমানিক ১০-১২ জন পুরান সাথী পাওয়া যাবে। উনারা নতুন সাথীদের উপর মেহনত করবেন। যাতে নতুন সাথীরা ধ্যানের সাথে বয়ান শোনেন ও নিয়ম মেনে চলেন।
বয়ানের পর প্রত্যেক খোপ থেকে যেসব সাথীরা নগদ ওয়াক্তের জন্য এরাদা করেন সাথে সাথে উনাদের বিছানা এক জায়গায় জমা করা ও তাশকিলের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা। বিদেশের জন্য যারা তৈরি হন উনাদের বিদেশি তাশকিলের কামরায় পৌঁছানো।
যারা বয়ানের পর নাম দিলেন না পুরান সাথীরা তাদের নিয়ে মুজাকারার হালকায় বসবেন। বয়ানে যেসব কথা আলোচনা হয়েছে ওইগুলো পুনরায় ভেঙে ভেঙে বুঝাতে হবে। যাতে নতুনরা আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার জন্য তৈরি হন।
যারা জানতোর মেহনতের পরও আল্লাহর রাস্তায় যাবে না তারা যাতে এলাকায় গিয়ে মসজিদওয়ারী জামাতের আওতায় মেহনত করে এজন্য মোকামী মেহনতের গুরুত্ব ও ফায়দা মুজাকারা করা।
প্রত্যেক পুরানা সাথীর এই নিয়তে মেহনত করা দরকার যাতে ইজতেমায় আনেওয়ালা জামাতের আকছারিয়াত নগদ ওয়াক্ত নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যায়। আর বাকিরা যাতে কমছে কম এই কাজ বুঝে ও কাম করার নিয়তে এলাকায় ফিরে যায়।
প্রতি খোপের ভেতর যেসব উলামা হজরত, খাওয়াস ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আসেন উনাদের পুরাপুরি ইজ্জত একরামের ব্যবস্থা করা এবং থাকা খাওয়ার সুবিধা করে দেওয়ার জন্য মুনাসেব এবং জিম্মাদার কিসিমের সাথীদের জামাতে জুড়ে দেওয়া ও মাঝে মাঝে উনাদের খবর নেওয়া।
বেশি বেশি দোয়ার আমল করা। খুসূসী মজমার সময় ওই তবকার মুনাসেব সাথীদেরকে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানোর জন্য মাকুল এন্তেজাম করা।
মসজিদওয়ালী জামাতের জিম্মাদারি :
নিজে জায়গা কম নিয়ে আনেওয়ালা সাথীদের একরামের সাথে বসানোর কোশেশ করা। প্রত্যেকের নিজস্ব এলাকার পুরনো সাথীদের খোঁজ করে নিজেদের সাথে জুড়ে নেওয়া ও কাজ বুঝিয়ে দেওয়া। প্রত্যেককে আজমত ও ধ্যানের সাথে আমলে মগ্ন রাখা। নির্দিষ্ট এলাকার মজমাকে বয়ান, তালীম ইত্যাদি এস্তেমায়ী আমলে জুড়িয়ে রাখার কোশেশ করা। কেহ যেন ওজর ব্যতীত শুয়ে না থাকে তা খেয়াল রাখা। এস্তেমায়ী আমল ও বয়ানের পর তাশকিল করা, নাম লিখে নেওয়া ও লোক মারফত নিজ খিত্তার তাশকিলের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছিয়ে দেওয়া অথবা পূর্ণাঙ্গ জামাত নিজেদের জায়গায় রাখা।
ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক সাথীর পিছনে মেহনত করা। নামাজের সময় কাতার সোজা করা। মিম্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী নামাজের সংযোগ স্থাপন করা। মজমায় নির্দিষ্ট এলাকায় তালীম করা। সময়মত মুসাব্বিররা তাদের জায়গায় পৌঁছেছেন কি না তা খবর রাখা। প্রত্যেক সাথীর পকেটে খুটির নাম্বার লিখে দেওয়া। নির্দিষ্ট এলাকায় খাওয়াসদের তালাশ করা এবং তাবলীগের মেহনত বুঝানো। এছাড়া তাশকিল করা। উলামা হজরত, খাওয়াস, ইংরেজি ছাত্র, ইংরেজি শিক্ষকদের প্রোগ্রামের সময় নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাকুল এন্তেজাম করা।
সবশেষে মুনাজাতের আগে মাওলানা আব্দুল ওয়াদূদ বলেন, এবার সামিয়ানা নিজেদের নিয়ে যেতে হবে। প্রতি খোপের জন্য ১৮ ফুট বাই ১৮ ফুট ত্রিপাল ২টি করে নিতে হবে। একটি উপরে ও আরেকটি নিচে বিছানোর জন্য। খানা যুহরের আগে খেয়ে নিতে হবে। ফরজ গোসল ছাড়া ওখানে গোসল করা যাবে না। পানি শুধু অজু, ইস্তিঞ্জা ও খাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে। উপরে বর্ণিত সব নিয়ম আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে মেনে চলার তাওফীক দান করুক।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা