মো. আব্দুল মান্নান :
অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এরপর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাইকৃত ১৭৭২টি অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে ফুলপুরের এ.কে.এম ফজলুল হক (দুদু মিয়া) অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দসহ জেলার সকল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুছ ছালাম, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, উপদেষ্টা মো. মাহফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. নূরে আলম বাবলু, বিভাগীয় সমন্বয়ক এম. এ সালাম, সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ময়মনসিংহ বার ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েত উর রহমান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব আলী হোসেন, এ. কে. এম ফজলুল হক (দুদু মিয়া) অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এ. কে. এম আশিকুল হক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে অটিজম ও বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ২,৭৪১টি আবেদন যাচাই-বাছাই করে ১,৭৭২টি প্রতিষ্ঠানকে ক, খ ও গ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও আজও পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি কোনো দাবি। আমরা আর আশ্বাসে বিশ্বাস করি না, এখন চাই বাস্তব পদক্ষেপ। অবিলম্বে বিদ্যালয়গুলোকে স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির আওতায় আনতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সবশেষে শিক্ষক-কর্মচারীরা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।