জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা সাবেক এমপি সারোয়ারসহ ১২৫ জনের নামে মামলা
মো. আব্দুল মান্নান :
গত জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার ঘটনায় শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার বাগিচাপুর কৃষ্ণ দেবপুর গ্রামের অটো রিকশা চালক আবু সাদারের পুত্র আমীর হোসেন (৩১) বাদি হয়ে মামলা করেছেন। ১২ জুলাই ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় উনার মামলা এফআইআরভুক্ত হয়েছে।
জানা যায়, অটোরিক্সাচালক আমীর হোসেন তার পরিবার নিয়ে ঢাকা উত্তরায় বসবাস করেন এবং স্ত্রী বাসা বাড়ীতে ঝি -এর কাজ করেন।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, বাদির পিতা শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ঘটনার কয়েকদিন আগে স্ত্রী সন্তান রেখে বাদি তার অসুস্থ পিতাকে দেখার জন্য বাড়িতে আসেন। পরে ঘটনার দিন ২০২৪ সনের ২০ জুলাই হাসিনা সরকার পতনের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন অব্যাহত থাকায় বাদি ঢাকায় যাওয়ার জন্য নালিতাবাড়ী হতে রওনা হয়ে খন্ড খন্ড যানবাহন দিয়ে ফুলপুর পর্যন্ত আসেন। বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে ব্রিজ পর্যন্ত যেতেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও তার অংগ সংগঠনের উশৃঙ্খল কিছু সন্ত্রাসী পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের উপর হামলা করে। এক পর্যায়ে এলোপাথারি গুলি বর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ করতে থাকে। বাদি আমীর হোসেন পথচারী হিসেবে দৌড়ে জীবন রক্ষা করার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলি তার মাথার পিছনে মাথার ডান পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে লাগে। ছিটাগুলি লেগে তিনি মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হন ও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা ও সাক্ষীগণ তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় বাদি আমীর হোসেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ারসহ ১২৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানাকে বিজ্ঞ আদালত এফআইআর করার নির্দেশ প্রদান করেন। এই নির্দেশের আলোকে ফুলপুর থানার মামলা নং-০৯ তারিখ-১২/০৭/২০২৫খ্রিঃ ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০; রুজু করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার রেকর্ডিং কর্মকর্তা ফুলপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাদি ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শামীম হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।