অনলাইন ডেস্ক :
পিআর পদ্ধতি বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি আসলে কি? এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কি হবে? আসুন, জেনে নেই।
১.নমিনেশন বানিজ্য বন্ধ।
২.মোট ৩০০ আসন হলে, ১০০% ভোটে এ ৩০০ আসন।
৩.১% এ ৩ আসন,২% এ ৬ আসন,৩% এ ৯ আসন, এই হিসেবে একটি দল যত % ভোট পাবে, সেই হিসাবেই সংখ্যানুপাতিকে আসন পাবে।
৪.পিআর পদ্ধতি বা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনে প্রতিটি দল এবং ভোটারের ভোটের মূল্যায়ন হবে।
৫.প্রতিটা দল আগেই পার্থী তালিকা দিবে নির্বাচন কমিশন কে!
৬.ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বক্স ছিনতাই করেও কেউ জিতে যেতে পারবে না। কারণ তার আসন নির্ভর করবে দলের মোট ভোটের উপর।
বিশ্বের প্রায় ৮০ টিরও বেশি দেশে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে অনেক দেশ পিআর পদ্ধতির দিকে ঝুকে যাচ্ছে। আপনি যত পার্সেন্ট ভোট পাবেন তার আলোকে এমপি পাবেন। বাংলাদেশের জনগনকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করায় আওয়ামীলীগকে ২-৩ টার্ম নির্বাচন থেকে দূরে রেখে এই সিস্টেম চালু করতে পারলে দেশের রাজনীতি অনেক বেশি ব্যালেন্স হবে৷ বিএনপির মহাসচিব বলেছেন আমরাতো এই নতুন সিস্টেমে অভ্যস্ত নই। বাস্তবতা হলো আমরাতো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদেও অভ্যস্ত নই। উচ্চকক্ষ যদি পিআর সিস্টেমে হতে পারে তাহলে নিম্নকক্ষ পিআর সিস্টেমে হতে সমস্যা কোথায়। মুল বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের বিদ্যমান সিস্টেমে যেখানে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি ৩০-৪০% ভোট পেয়ে ২৫০+ আসন পেয়ে থাকে, সেখানে পিআর সিস্টেমে তাদের আসন চলে আসবে ১০০-১২০ এর মধ্য।
অনেকের যুক্তি এই সিস্টেমে সংসদ অনেক দূর্বল হবে। সম্প্রতি প্রথম আলোতে একজন মতামতে বলেছেন পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নেপাল কিংবা ইরাকের মত সংসদ দূর্বল হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে ৯৯% প্লাস জনগন এক জাতির। নেপাল কিংবা ইরাকের মত আমাদের দেশে গোত্রীয় কিংবা এথনিক প্রভাব নাই, যার কারনে অর্ধ শতাধিক আঞ্চলিক, ব্যক্তি কিংবা গোত্র প্রভাবিত ছোট ছোট দল এমপি হওয়ার ফলে ঝুলন্ত সংসদ হওয়ার সম্ভাবনা নাই। তাছাড়া অতিতে বাংলাদেশের সকল বড় দলই ছোট দলদের সাথে কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন সিস্টেম দাড় করানোর মাধ্যমে রাষ্ট্র ভালভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।
ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বিএনপির উচ্চকক্ষ প্রস্তাবনা এবং জামায়াত, জাতীয় পার্টি, শাসনতন্ত্র, সিভিল সোসাইটিসহ অনেকের প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিও বাংলাদেশের নতুন ধারার রাজনীতির জন্য জরুরি।
বাংলাদেশেও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ভোটের অপচয় ঘটে না। যে দল যত পার্সেন্ট ভোট পাবে সংসদে সে তত পার্সেন্ট অনুসারেই আসন পাবে। যেকারণে প্রতিটি নাগরিকের ভোটই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বক্স ছিনতাই করেও কেউ জিতে যেতে পারবে না। কারণ তার আসন নির্ভর করবে দলের মোট ভোটের উপর।
সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনে সবচেয়ে উপকারটা যেখানে হয় সেটা হচ্ছে, টাকা দিয়ে ভাড়া করে লোক নিয়ে আসা কাগে না, কতো বড় সমাবেশ করলাম সেটার গুরুত্ব থাকে না। রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল মিটিং করতে হয় না। রাজনীতিটা চোর, বাটপার, ভবঘুরে, ধান্দাবাজদের জন্য কঠিন হয়ে পরে।
প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতি একটা চরম ভাওতাবাজি। ধরুন, আপনার দেশে মোট ১০০ জন ভোটার আছে। তাদের মধ্যে—
বিএনপিকে ভোট দিলো- ৩০ জন
জামায়াত কে দিলো- ২৫ জন
গন অধিকার কে দিলো – ২০ জন
ইসলামি আন্দোলন কে দিলো – ১৫ জন
অন্যান্যকে- ১০ জন।
তাহলে জিতবে কে? জিতবে বিএনপি। মানে, দেশের ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ৩০ জন লোক বিএনপিকে ভোট দিয়েছে, ৭০ জন লোক বিএনপিকে ভোটই দেয় নাই, তবুও বিএনপি পাস! বেশির ভাগ লোক বিএনপিকে ভোট না দেওয়ার পরও বিএনপি পাস।
কেন পাস?
এটাই ভাওতাবাজি। গণতন্ত্রের ভাওতাবাজি।
এই ভাওতাবাজির একটা সংস্কার দরকার।
এজন্যই আনুপাতিকভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব এসেছে। একটি দল যত শতাংশ মোট ভোট পাবে, তারা সেই অনুপাতে সংসদীয় আসন পাবে
প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার অর্থাৎ যে দল যত পার্সেন্ট ভোট পাবে সে অনুযায়ী প্রতিনিধি দিয়ে সরকার গঠন করবে।
দেশে আনুপাতিক পদ্ধতির (PR) নির্বাচন হলে কিছু immediate পরিবর্তন/সমাধান পরিলক্ষিত হতে পারে –
আনুপাতিক পদ্ধতিতে(PR) নির্বাচন হলে বার বার সীমানা নির্ধারণের কোন প্রয়োজন নেই, সারাদেশই একটি constituency!
আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন হলে এমপিদের স্থানীয় ভাবে কোন কাজ থাকেনা, ফলে উপজেলা পরিষদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে তথা স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে!! এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান এর দ্বন্দ্বও চুকে যাবে !!!
আনুপাতিক পদ্ধতিতে ৩০০ আসনে ৩ লাখ ভোট চুরিতে ১ জন এমপির পরিবর্তন হতে পারে।
আর চলমান এফপিটিপি পদ্ধতিতে মাত্র ১টি ভোট চুরিতে ১ জন এমপি পরিবর্তন হতে পারে! তাই এই ভোট চোর/ডাকাতদের দেশে আনুপাতিক পদ্ধতিই উপযুক্ত হতে পারে !
প্রবাসীরাও সহজে ভোট দিতে পারবে !
যেহেতু ১ টিই constituency, তাই সহজে অগ্রিম ভোটও গ্রহন করা যেতে পারে!
আর অগ্রিম ভোট হলে ভোটের দিনের ভোটারের অতিরিক্ত চাপও কমবে!
কোন সাংসদ মৃত্যুবরণ করলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন নেই, রাজনৈতিক দল থেকে সরবরাহকৃত তালিকার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী ব্যক্তি সাংসদ হতে পারেন!
পি.আর পদ্ধতিতে ভোটাররা যেহেতু কোন ব্যক্তিকে বরং দলকে ভোট দেন, সেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তির প্রভাব নিয়ে মারামারি, হানাহানির পরিমানও কমিয়ে আনা যেতে পারে!
* তথ্যসূত্র : দৈনিক যুগান্তর।