মো. আব্দুল মান্নান :
‘কুরআন সুন্নাহর আলোকে মসজিদভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও যৌতুক, নারী-শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইমামদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচ্য বিষয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ময়মনসিংহ টাউন হলে তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আজ শনিবার (২১ জুন) সকাল ৯টায় ময়মনসিংহ টাউন হলে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ময়মনসিংহ বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা নূরুল আমীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি দিয়েছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ কিন্তু বিশেষ অসুবিধায় তিনি আসতে পারেননি। তবে উনার প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে যোগদান করেন ও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জিয়া আহমেদ সুমন।

সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরাইরা, বিশেষ অতিথি হিসেবে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম ও পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমের দাওয়াত থাকলেও ওই সময় সরকারি প্রোগ্রাম থাকায় তারা আসতে পারেননি। এরপর বক্তব্য রাখেন, সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট, ঢাকা-এর হেড অব কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স কর্ণেল জাকারিয়া হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক হাবেজ আহমেদ, ময়মনসিংহ বড় মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক দামাত বারাকাতুহুমের দাওয়াত থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

সম্মেলনে এসে বক্তব্য রেখেছেন, ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী -এর সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুফতী মাওলানা হাবিব আহাম্মদ শিহাব, নাসিরাবাদ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, ময়মনসিংহ সমাজকল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মঞ্জুরুল হকের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখবেন, খানকায়ে হোসাইনিয়া ময়মনসিংহ -এর মুতাওয়াল্লী মাওলানা মুফতী মাহবূবুল্লাহ কাসেমী, কমিউনিটি বেজড্ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বাংলাদেশ -এর অর্থোপেডিক্স সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন, রিসোর্স মবিলাইজেশন ও কমিউনিকেশন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট -এর এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ওয়েস খান নূর সোহেল, বিশিষ্ট ইসলামী অর্থনীতিবিদ মুফতী আব্দুল্লাহ মাসূম, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রশিদ আহমদ ফেরদৌস, জামালপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আ ফ ম নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শফিকুল ইসলাম বেলালী, শেরপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতী ইযহারুল হক, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কাজী হাবীবুল্লাহ, চান্দেরনগর মাদরাসার মুফতী শফিকুল ইসলাম হামিদী, ফুলপুর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দীন, গফরগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতী আব্দুর রহমান, মেলান্দহ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুখলেসুর রহমান, মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ নূরুল ইসলাম, ঝিনাইগাতি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওয়াজি উল্লাহ, শেরপুর সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফুর রহমান, ধোবাউড়া উপজেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা ফজলুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে হুসাইন মো. সাদেকের তিলাওয়াত ও আব্দুল ওয়াহিদ সাকিবের হামদ বারী তায়ালা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সম্মেলনের কার্যক্রম।
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা নূরুল আমীন ও স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আমীনুল হক।
সম্মেলনের প্রধান আলোচক মাওলানা কাজী আবু হুরাইরা বলেন, ইমামরা সরকারের কমপক্ষে ১০টা দপ্তরের কাজ আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। যৌতুক, শিশু ও নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নির্মূলে কাজ করে থাকেন ইমামরা। তিনি বলেন, উলামায়ে কেরাম আগেও দেশের জন্য কাজ করেছে, এখনো করবে। কাজ করেও তারা ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। প্রধান আলোচক মাওলানা কাজী আবু হুরাইরা বলেন, আমরা বহু বঞ্চিত হয়েছি আর বঞ্চিত হতে চাই না। এরপর তিনি সরকারের নিকট বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশের সকল মসজিদের জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এই সরকারের আমলেই ঘোষণা করে বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল মসজিদে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা চালু করতে হবে। ইমামদের জন্য ইমামকল্যাণ ট্রাস্ট চালু করতে হবে। যেভাবে সেনাকল্যাণ ট্রাস্ট ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট করা হয়েছে। এরকম করে ইমামদের জন্যেও ইমামকল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। বিনা নোটিশে কোন ইমামকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। ইমামদেরকে আইন শৃঙ্খলা কমিটি, চাঁদদেখা কমিটি ও বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এর আগে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মঞ্জুরুল হক তার সঞ্চালনার এক ফাঁকে বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় আসলে আমরা আমাদের দাবিগুলো আরও সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারতাম। তিনি আমাদের বেদনাটা বুঝতে পারতেন। শুনলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকরা নাকি ৫-৬ মাস ধরে বেতন পান না। কষ্ট করবে অথচ বেতন পাবে না এটা কেমন কথা? আশা করি, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচিত হবে। যাতে দ্রুত এর সমাধান হয়। বিষয়টি দেখার জন্য ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। সবশেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আমিনুল হক।