অনলাইন ডেস্ক :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ভাইটকান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু রায়হান নেহাল (১৭) হত্যার প্রতিবাদে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৮ জুন) বিকাল ৩টায় ভাইটকান্দি সখল্যা মোড় এলাকায় ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ভাইটকান্দি স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দসহ এলাকাবাসী এর আয়োজন করে।

জানা যায়, আবু রায়হান নেহালকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী সুবহানের বাসার পেছনে টয়লেটের সেফটিক ট্যাংকির ভেতর লুকিয়ে রাখে। পরে ওখান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পথচারীরা তা টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সব দেখে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং লাশ থানায় নিয়ে যায়। পরে থানা থেকে ময়না তদন্তের জন্য নেহালের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওখান থেকে এনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নেহালের গ্রামের বাড়ি হরিণাদী তারাকান্দায় নিয়ে যায় ও জানাজাশেষে তাকে হরিণাদী তারাকান্দা কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবু রায়হান নেহাল উপজেলার ছনধরা ইউনিয়নের হরিণাদী তারাকান্দা গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট পুত্র। তারা গত ৮-১০ বছর ধরে ভাইটকান্দি সখল্যা মোড়ে হজরত মেকারের বাসায় ভাড়ায় থাকতো। তাদের ভাড়া বাসা থেকে আনুমানিক ৩-৪শ গজ দূরে শান্তাদের বাড়ি। শান্তা (১৫) একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই স্কুলের শিক্ষার্থী ও পাশাপাশি বাসায় থাকার সুবাদে ওদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ওরা পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসতো। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে শান্তার বাবা ইটভাটার নাইট গার্ড শেখ ফরিদ ফালান ও তার পরিবার মেনে নিতে পারেনি। যে কারণে গত জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে নেহালকে ধরে নিয়ে শান্তার বাবা ফালান, বড়ভাই সাগর ও হাতেম আলীর ছেলে মঞ্জু মারধর করে।
ওই ঘটনার পর সম্প্রতি ১৩ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নেহাল নিখোঁজ হয়ে যায়। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। না পেয়ে নেহালের বড় ভাই মামুন ফুলপুর থানায় একটি জিডি (নং ৫৯৫) করেন। পরে ১৬ জুন আনুমানিক রাত ১০টার দিকে সুবহানের বাসার পেছনে নেহালের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে ফুলপুর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাদি সঙ্গীয় ফোর্স ও সেনাবাহিনীসহ উপস্থিত হন। জানা যায়, এ ঘটনার পর থেকে শান্তা ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল হাদি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের খুঁজছে পুলিশ।