মো. আব্দুল মান্নান :
৩ মে অবসরে গেলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের চরনিয়ামত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এসকান্দার হোসেন। ১৯৯১ সনের ১ জানুয়ারি এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে উনার চাকরি জীবন শুরু হয়েছিল। এরপর আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে চলতি ২০২৫ সনের ৩ মে সর্বশেষ কর্মদিবস সম্পন্ন করে অবসরে যান তিনি।
জানা যায়, মো. এসকান্দার হোসেন উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের চরনিয়ামত গ্রামের মৃত আব্দুল কদ্দুছ ও মৃত ফজিলাতুন নেছার পুত্র। ১৯৬৫ সনের ৪ মে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। ফুলপুর পৌরসভার বালিয়া মোড়ে উনার নিজস্ব বহুতল বাসভবন রয়েছে।
উনার হাতে খড়ি হয় বাড়ি সংলগ্ন রামনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রামনাথপুর স্কুল থেকেই গৌরবের সাথে তিনি পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন। এরপর ১৯৮১ সনে তিনি প্রথম বিভাগে তারাকান্দার বকশীমুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তারপর ভর্তি হন ফুলপুর ডিগ্রী কলেজে। সেখান থেকে ১৯৮৫ সনে এইচ এস সি ও ১৯৮৭ সনে ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজ থেকে তিনি বিএসসি পাস করেন। তারপর ২০০২-২০০৩ শিক্ষা বর্ষে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ময়মনসিংহ টিটি কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করেন।
এর আগে ১৯৯১ সনের ১ জানুয়ারি তিনি চরনিয়ামত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে উনার কর্মজীবন শুরু হয়। অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রিয় শিক্ষকে পরিণত হন তিনি। পরবর্তীতে উনার কর্মতৎপরতায় মুগ্ধ হয়ে দায়িত্বশীলরা ২০০৯ সনে উনাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেন এবং এ পদে কর্মরত থাকাবস্থায়ই চলতি বছর ২০২৫ সনের ৩ মে সর্বশেষ কর্মদিবস সম্পন্ন করে শিক্ষকতা থেকে অবসরে যান এসকান্দার স্যার।
অবসর গ্রহণের এক মাস পর আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকালে স্যারের সাথে সাক্ষাৎ হয়। পরে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আপাততঃ বই পুস্তক পড়ে ও নামাজ কালাম করেই সময় কাটছে। উনার সহধর্মিণী মাহমিনা বেগম আমুয়াকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। ছেলে মাহমুদ উল হাসান বড় আর মেয়ে তাবাসসুম-এ মারিয়াম ছোট। মাহমুদ উল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে চাকরি বিষয়ক পড়াশোনায় ব্যাপৃত আছেন। আর মারিয়াম জামিয়াতুল হুমাইরা (রা.) লিল বানাত, ফুলপুর থেকে গত বছর হিফজুল কুরআন সম্পন্ন করে বেফাক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বেফাক পরীক্ষায় তিনি মুমতাজ হন এবং একই মাদরাসার কিতাবখানায় বিশেষ জামাতে বর্তমানে অধ্যয়নরত আছেন।
কয়েক বছর আগে ছেলেমেয়ে ও বিবি সাহেবকে সাথে নিয়ে তিনি উমরাহ পালন করেছেন। অবসরভাতা পেলে তিনি পবিত্র হজ্ব পালন করবেন বলেও জানান। এছাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মনমত দোকানের জায়গা পেলে অবসর সময় কাটানোর জন্য ভবিষ্যতে তিনি লাইব্রেরি ব্যবসার সাথে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ আল্লাহ তায়ালা যেন শেষ নিঃশ্বাস ঈমানের হালাতে নেন এ ব্যাপারে তিনি সকলের দোয়া চেয়েছেন।