আজ
|| ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
যাত্রী বাগিয়ে নেওয়ার জন্য গাড়িগুলোর বেসামাল আচরণ, যাত্রী ভোগান্তি
প্রকাশের তারিখঃ ২৯ মে, ২০২৫
মো. আব্দুল মান্নান :
যাত্রী বাগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের (ফুলপুর-ঢাকা, হালুয়াঘাট-ঢাকা, শেরপুর-ঢাকা) রোডের গাড়িগুলোর যে আচরণ আমরা লক্ষ্য করছি তা খুবই বিপজ্জনক, কষ্টদায়ক ও আশংকাজনক। এতে যাত্রী ভোগান্তি তো হচ্ছেই এমনকি দুর্ঘটনা ঘটারও সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। হয়তো ভাগ্যক্রমে আমরা বেঁচে যাচ্ছি। পরিস্থিতি এমন দেখা দেয় যে, বাঁচার কথা না।
দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢোকার সময় গাড়িগুলো ফুল স্পীডে এসে ঢোকে। এমন একটা ভাব দেখায়, মনে হয় যেন এটা দাঁড়াবে না। দাঁড়ালেও মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য। কাজেই তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। তা নাহলে ভালো গাড়িটা মিস হয়ে যাবে। এমন একটা ভাব পরিলক্ষিত হয়। যাত্রীদের মধ্যে এ ধরনের একটা আগ্রহ তৈরি করার জন্য তারা এমন ভাব দেখায়। মূলতঃ সেই রকম কোন নন স্টপ সার্ভিসের গাড়ি নয় এগুলো। ছোট বড় সব স্টেশন ধরতে ধরতে তারা যায়। যাত্রীরা তখন ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে যান ঘাটে অঘাটে বা যত্রতত্র তাদের থামার কারণে।
এসব গাড়ির আরেকটি বদ অভ্যাস হলো, এরা সামনে গিয়ে গাড়ির পিছা বাঁকা করে দাঁড়িয়ে থাকে। পেছনের গাড়িকে সামনে যেতে দেয় না। কারণ, এ স্টেশনের সব যাত্রী উঠিয়ে সবার আগে সে সামনের স্টেশনে যাবে এবং সেখানের সব যাত্রীও তার লাগবে। সীট ফিলআপ হয়ে গেলে দাঁড় করিয়ে হলেও নিয়ে যাবে তবু পেছনের গাড়িওয়ালাকে কোন চান্স বা ছাড় দেবে না। কায়দা কৌশল করে ওকে আটকে রাখবে। যাতে সে আগে যেতে না পারে এবং বিভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী যাতে উঠিয়ে নিতে না পারে। এতে যাত্রী ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে। এক তো হলো, গাড়ির যাত্রীরা সময়মত গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে না; দ্বিতীয়ত পেছনের গাড়ির যাত্রীদেরকেও দুর্ভোগে ফেলে। এছাড়া জ্যামের সৃষ্টি হয়। পথচারীরা জ্যামের কারণে হেঁটে যেতেও কষ্টের শিকার হয়ে থাকেন। আর পরের স্টেশনের সব যাত্রী বাগিয়ে নেওয়ার জন্য গাড়ি যেভাবে দ্রুত ছাড়া হয় বা লাফিয়ে যেতে থাকে তা সকলের জন্যই হুমকিস্বরূপ।
আমাদের ময়মনসিংহের ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোল চত্বর এলাকায় মাঝে মাঝে পেছনের গাড়ি আগে যাওয়ার জন্য যে পাল্লা দেয় বা দৌড় প্রতিযোগিতা করে তা সচক্ষে দেখলে যে কেউ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বেন। এটা শুধু মারাত্মক বললে কম হবে বরং কোন কোন সময় এটা প্রাণহানির পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলে। শেরপুর থেকে দুটি গাড়ি প্রতিযোগিতামূলকভাবে গোল চত্বরে এসে প্রথমটি তার সুনির্দিষ্ট পথ দিয়েই যাচ্ছিল; কিন্তু পেছনের গাড়িটি আগেরটিকে ওভারটেক করে সামনে যাওয়ার জন্য অনিয়মভাবে ডানদিক দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে এমন জোরে টান দেয় যে, তখন হালুয়াঘাট থেকে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে আসতে থাকা বা ফুলপুর থেকে শেরপুরের দিকে যেতে থাকা কোন গাড়ি যদি সামনে পড়ে, তাহলে ১০-২০ জন জায়গায় মরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হয় যে, গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ করার মত পাওয়ারে থাকে না। এত স্পীড বাড়ানো হয় গাড়ির। এগুলো দেখার মত কাউকে দেখা যায় না রোডে।
দীর্ঘদিন ধরে ফুলপুরে কোন ট্রাফিক পুলিশ নেই। নেই ডিউটিতে কোন স্বেচ্ছাসেবকও। ফলে রোড কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত। ঈদুল ফিতরের কদিন কিছু ডিউটি করা হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ কোন সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এটাই প্রশাসনের বড় সফলতা। এখন আবার ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ চলে এসেছে। হয়তো ঈদের সামনে কয়েকদিন ডিউটি করা হবে। এতেই কি শেষ? সব সমাধান হয়ে যায়? যায় না। যাত্রী ও পথচারীরা ঈদ ছাড়াও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হন। হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনার চিত্র আমাদের চোখে পড়ছে না। ওই রকম চিত্র চোখে পড়ার আগেই তো সতর্ক হতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটার পর সতর্ক হয়ে তো লাভ নেই। পরে দুর্ঘটনা এড়াতে নানামুখী প্ল্যান নিলে লাভ নেই। নিতে হবে আগেই। এজন্য এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.