আজ
|| ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
সিলেটের পথে রওনা হয়ে ফুলপুর গোলচত্বরে ট্রাকচাপায় পড়ে নাজিমুল এখন হাসপাতালে
প্রকাশের তারিখঃ ২০ মে, ২০২৫
মো. আব্দুল মান্নান :
সিলেট যেতে চেয়েছিল নাজিমুল (১৪)। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। দুর্ভাগ্যক্রমে ময়মনসিংহের ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোল চত্বরে ট্রাকচাপায় আহত হয়ে তাকে এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২০ মে) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কিশোর নাজিমুলের বাবা জমির উদ্দিন একজন সাধারণ মানুষ, দিনমজুর। নূন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তাই ছেলেকে কাজ কাম করার জন্য এক বছর আগে ফুফা আব্দুল মতিনের সাথে দিয়ে দেয়। আব্দুল মতিনের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আসর আলীর পুত্র।

তিনিও হতদরিদ্র ও একজন দিনমজুর। মানুষের ক্ষেত খামারে বা ইটখলায় কাজকাম করেন। তার শ্যালকের ছেলেকে দিয়ে কাজকাম করিয়ে যা পেতেন তার বাবার নিকট পাঠিয়ে দিতেন। এক বছর পর আজ শ্যালকপুত্র নাজিমুলকে নিয়ে তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা হয়ে ফুলপুর পর্যন্ত এসেছিলেন।

শেরপুর রোড মোড়ে রানার দোকানে গিয়েছিলেন সিলেটের গাড়ির খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য। রানাকে না পেয়ে রোড পার হয়ে বাসস্ট্যান্ডে যেতে চেয়েছিলেন। পরে হাজী রোডের মাথায় আসার সময় গোল চত্বরে থাকতেই (NDE EICHER ঢাকা মেট্রো -উ ১২-৩৫৫৩) একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। গোল চত্বরের ওয়াল ও ট্রাকের সাথে নাজিমুল আটকে গেলে পথচারীরা ট্রাকের চালককে সামনে দিয়ে বেরিগেড দেয় থামার জন্য।

পরে হুঁশ ফেরে চালকের এবং ট্রাকটি একটু পিছিয়ে দিলে ছেলেটি চাপ থেকে বের হয়। এসময় কেউ কেউ চালককে দায়ী করে কথা বললেও ছেলেটির সাথে সচেতন লোক না থাকায় ছেড়ে দেয় গাড়িওয়ালাকে। পরে সবাই ছেলেটিকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে পাঠাতে তৎপর হয়ে ওঠে। এসময় ছেলের ফুফা আব্দুল মতিন এ প্রতিবেদককে হাসপাতালে ভর্তির জন্য সাথে যেতে অনুরোধ করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে একটি টেস্ট দেওয়া হয়। রায়প্যাথ ক্লিনিকে সাড়ে তিনশ টাকা দিয়ে এক্স-রে করানো হয়।

এক্স-রে দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাব্বির হোসেন বলেন, ওর ডান পাশের পা কোমড়ের সাথে যেখানে জোড়া লেগেছে সেখানে ভেঙে গেছে। এখানে এটা প্লাস্টার করাও সম্ভব নয়। তাই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে বুড়া মুরুব্বি নাজিমুলের ফুফা আব্দুল মতিন ময়মনসিংহে নিয়ে যেতে সাহস না করায় তাদের বাড়িতে ফোন দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে উনার ছেলে আবু বকর এসে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। নাজিমুলের অভিভাবক ট্রাকচালককে আইনের আওতায় আনতে ও এর ক্ষতিপূরণ দাবি করে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.