মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে পয়ারী ইউনিয়নের মনকান্দা টু মামুদপুর ভায়া নারিকেলতলা কাঁচা সড়কে ৩০ বছরেও কোন মাটি পড়েনি। আজ শনিবার (১৭ মে) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে ওই রাস্তায় প্রচুর ভাঙন চোখে পড়ে। সাহাপুর খান মেমোরিয়াল এতিমখানার পাশ দিয়ে দুর্গা মন্দির হয়ে মতির বাড়ি সংলগ্ন কালভার্ট পর্যন্ত পাকা সড়ক। এরপর থেকে শুরু হয় কাঁচা রাস্তার দুর্ভোগ। মনকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগে সড়কটি এমন ভাঙন ভাঙছে জোয়ান মানুষকেও আস্তে আস্তে অতি সাবধানে অতিক্রম করতে হয়। বৃদ্ধ, মহিলা বা শিশুদের জন্য উহা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় পিছলিয়ে পড়ে কাপড় চোপড় লেপটে উঠা লাগতে পারে বাড়িতে। হাত-পা বা কোমড় ভাঙারও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মনকান্দা স্কুল থেকে নারিকেলতলা রাস্তায় যেতে রাস্তার সাথে বেশ কিছু পুকুর বা ফিশারী নজরে পড়ে। রাস্তার সাইডে এসব ফিশাীর পাড় না রাখায় ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূল সড়ক।
আরেকটু সামনে দক্ষিণ সাহাপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল হামিদ মেম্বারের বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, উনার ছেলে গৌরীপুর মহিলা কলেজের সিনিয়র লেকচারার ফয়জুর রহমান নিজ উদ্যোগে তাদের বাড়ির সামনে মাটি ভরাটের মাধ্যমে সড়ক সংস্কার করছেন। এসময় তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, সাহাপুর গ্রামটি একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। ওখানে বহু উচ্চ শিক্ষিত ও সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ওই গ্রামে বাস করেন। অফিসে তারা গাড়ি দিয়ে চলাচল করলেও সাহাপুর থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে রিকশা, ভ্যান যেতে চায় না। তখন পায়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্ট। লেকচারার ফয়জুর আরও বলেন, গত ৩০ বছরেও এই রাস্তায় মাটি ফেলানো হয়নি। একই কথা বলেন, জ্ঞানেন্দ্র চন্দ্র সরকার। শেরপুর রোড মোড়ে হোটেল ব্যবসায়ী নারিকেলতলা গ্রাম নিবাসী আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের এ সড়কটি পাকাকরণের আশ্বাস দিয়ে ভোট নিয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এমনকি তিনি পাস করার পর কাজ করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন। পরে হঠাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ায় আর হয়নি সড়কটি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে মাটি ভরাটসহ পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।