• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই জামিয়াতুল হুমাইরা লিল বানাত, ফুলপুর-এর ১৭তম খতমে বুখারী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ৬ জানুয়ারি

কওমি মাদ্রাসায় চাকরির অনিশ্চয়তা : শিক্ষকদের নীরব কান্না

Reporter Name / ৮৭ Time View
Update : সোমবার, ৫ মে, ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক :

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা একটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পথ চলা। এখানে নেই কোনো নির্দিষ্ট চাকরিবিধি, নেই সুনির্দিষ্ট জব সিকিউরিটি। মুহতামিম (প্রধান) যদি কোনো শিক্ষককে অপছন্দ করেন, তিনি যেকোনো মুহূর্তে তাকে বিদায় জানিয়ে দিতে পারেন—শিক্ষাবর্ষ শেষে, বছরের মাঝপথে, এমনকি শিক্ষাবর্ষের শুরুতেও।

অনেক সময় মুহতামিম সাহেব শিক্ষককে অনুগত না হলে বা মুরিদ না হলে, তাকে বিদায় দেওয়ার কৌশল খুঁজে নেন। সম্মানজনক কিতাব কাটা, বেতন হ্রাস, দুর্ব্যবহার—এসবই ব্যবহৃত হয় একজন অভিজ্ঞ ও আত্মমর্যাদাশীল শিক্ষককে বিদায় জানানোর পথ তৈরিতে। কখনও সরাসরি কিছু না বলে ছাত্রদের বা কমিটির সদস্যদের লেলিয়ে দেওয়া হয়, আর শিক্ষক বাধ্য হন নীরবে বিদায় নিতে।

এই প্রক্রিয়াটি শুধু ক্ষুদ্র শহর কিংবা মফস্বলে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার বহু নামী মাদ্রাসায়ও এমন ঘটনার প্রমাণ মেলে। অভিজ্ঞ আলেমদের এক মাদ্রাসা থেকে অন্য মাদ্রাসায় ছুটে বেড়াতে দেখা যায়—ফরিদাবাদ থেকে মালিবাগ, মালিবাগ থেকে বারিধারা, আবার সেখান থেকে অন্যত্র। লালবাগ বা মালিবাগের মতো ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাগুলোতেও চলছে দখল-পাল্টা দখল, শিক্ষক বহিষ্কার, নতুন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

আরও দুঃখজনক হলো, অনেক সময় মুহতামিম সাহেব নিজ সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বা তার জন্য জায়গা খালি করতে প্রবীণ শিক্ষকদের বিদায় দেন। কমিটির সদস্যরাও অনেক সময় মুহতামিমের অনুগত হয়ে শিক্ষকদলকে উপেক্ষা করেন। এতে মেধাবী শিক্ষকরা জুলুমের শিকার হন। যারা কেবল পড়ালেখা ও কিতাবের সাথে থাকেন, তারা গুরুত্ব পান না। বরং চাঁদা সংগ্রহে দক্ষ কিংবা মোতামিমকে খুশি রাখতে পারা ব্যক্তিরাই সফল বিবেচিত হন।

মহিলা মাদ্রাসার চিত্র আরও ভয়াবহ। সেখানে অনেক সময় অল্প বেতনে অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগ করা হয়, কারণ তারা কম খরচে কাজ করেন। কোন সুনির্দিষ্ট সিলেবাস নেই, নেই প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো। কখনও শিক্ষিত স্ত্রীরা বা আত্মীয়স্বজন কর্তৃত্ব গ্রহণ করে, যাদের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজ অপমানিত ও নিয়ন্ত্রিত হন। তারা অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং শিক্ষকদের একঘরে করে তোলেন।

এই পরিস্থিতির জন্য শিক্ষকরা একা দায়ী নন। দায়ী হচ্ছে সেই ব্যবস্থা, যেখানে কেউ কারও জবাবদিহি করে না। মাদ্রাসার মালিকানা ও কর্তৃত্ব একচেটিয়া কিছু ব্যক্তির হাতে, ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং দ্বীনি শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিক্ষকদের প্রতি সম্মান, চাকরির সুরক্ষা, এবং একটি ন্যায়সংগত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই সংকটের সমাধান নেই। একটি আদর্শ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে—

নিয়োগ ও বরখাস্তের একটি স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে,

কমিটিকে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল করতে হবে,

মুহতামিমদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করতে হবে,

এবং মাদ্রাসার ভিতরে নারী কর্তৃত্বের অপব্যবহার রোধ করতে হবে।

কওমি মাদ্রাসা একটি মহান দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটিকে কলুষমুক্ত করতে হলে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য। আল্লাহ যেন আমাদের কওমি মাদ্রাসাগুলোকে সত্যিকারের দ্বীনের বাতিঘরে পরিণত করেন—এই দোয়া করি।

* লেখক :

লাবীব আব্দুল্লাহ
ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা