মো. আব্দুল মান্নান :
আমাদের গর্ব করার মত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একজন প্রতিভাবান মানুষ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর কৃতি সন্তান মো. মুখলেছুর রহমান মুখলেছ ভাই। এই মানুষটি আমাদের ফুলপুর এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসার উপদেষ্টা পদ গ্রহণ করেছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির সূচনালগ্নে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করে তিনি আমাদেরকে ধন্য করেছিলেন। তখন তিনি আমাদেরকে উৎসাহিত করে অনেক মূল্যবান নসীহত পেশ করেছিলেন; যা কখনো ভুলার নয়। যে জন্য আমরা ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব সবসময়।
উনার সম্বন্ধে একটি চমৎকার লেখা আজ ফেইসবুক থেকে পেয়েছি। উনার খেদমতকে আরও ব্যাপক, বিস্তৃত ও বেগবান করার লক্ষ্যে উনাকে আমরা নালিতাবাড়ীর এমপি হিসেবে দেখতে চাই। মুখলেছ ভাই সম্বন্ধে ফেইসবুক থেকে পাওয়া লেখাটি আমার সম্মানিত পাঠকদের জন্য শেয়ার করা হলো।
মো. মুখলেছুর রহমানের জন্ম শেরপুর জেলার অন্তর্গত নালিতাবাড়ী উপজেলার গোবিন্দ নগর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী মাস্টার পরিবারে ১৯৭৫ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। উনার আব্বার নাম মরহুম মাওলানা আমজাদ হোসেন।
জানা যায়, উনার শিক্ষা জীবনের শুরুর দিকে তিনি নালিতাবাড়ীর মধ্য বাজার রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে পবিত্র কুরআনুল কারীম হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে দাখিল ও আলিম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পাস থেকে প্রথম বিভাগে ফাজিল (ডিগ্রি) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) পাস করেন।
এরপর ১৯৯৮ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স, আরাবী ভাষায় ডিপ্লোমা, হাইয়ার ডিপ্লোমা এবং জুনিয়র ও সিনিয়র সমরবিজ্ঞান ডিগ্রি লাভ করেন।
এছাড়া সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি দাওয়া ডিগ্রি অর্জন করেন।
জানা যায়, টংগী জামেয়া দ্বীনিয়ার প্রিন্সিপাল হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে এ প্রতিষ্ঠানটি তা’মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসা টংগী শাখায় রূপ নিলে এরও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি।
১৯৯৮ সালে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে অফিসার হিসেবে জয়েন করে বিভিন্ন শাখা, প্রধান কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পাবলিক লাইব্রেরি ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভুমিকা পালন এবং লাইব্রেরি ইনচার্জ ও স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেন্ট্রাল শারী’আহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ -এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দু টার্ম দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড -এর শারী’আহ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন -এর পরিচালনা পর্ষদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ রাজশাহীর গভর্ণিং বডি, ইসলামী ব্যাংক নার্সিং কলেজ রাজশাহীর গভর্ণিং বডি এবং ইসলামী ব্যাংক ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ময়মনসিংহ লিমিটেড -এর পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল সাতক্ষীরা, মানিকগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, নওগাঁ, এবং মাদারীপুরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো অপারেশন (OIC) ‘র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান’ ‘ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ড’ -এর বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ক ফোকাস গ্রুপের সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে রিসোর্স পার্সন হিসেবে তিনি ক্লাস নিয়ে থাকেন।
বর্তমানে তিনি HFAML Shariah Unit Fund -এর শারী’আহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং Strategic Equity Management Ltd -এর শারী’আহ বোর্ডের সদস্য, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার গোবিন্দ নগর গ্রামের মাসজিদের সভাপতি এবং বাংলাদেশ সীড এসোসিয়েশনের এসোসিয়েট মেম্বার ও আল হাদারা ইসলামিক স্কুলের নির্বাহী কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তিনি বাহরাইন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান Accounting and Auditing Organization for Islamic Financial Institutions (AAOIFI) -এর কমিটি এবং সৌদি আরবে অবস্থিত ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক্স এন্ড ফাইন্যান্স -এর সদস্য।
রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রবাহ বৃদ্ধি ও সহজীকরণের প্রক্রিয়া ও পন্থা বিষয়ে গবেষণার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন।
এ ছাড়াও তিনি প্রফেশনাল ও ব্যবসায়িক কাজে ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, ওমান, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইটালী, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেন সফর করেছেন।
ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও অন্যান্য বিষয়ে তিনি ১৫টি বই রচনা করেন এবং পত্র পত্রিকায় তার অর্ধ শতাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় তিনি সরকারি-বেসরকারি একাধিক টিভি চ্যানেলে ইসলামিক স্কলার হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- বিটিভি, চ্যানেল 24, Rtv, Jamuna Television, বৈশাখী টেলিভিশন, নাগরিক টিভি, Wisdom tv ইত্যাদি। তিনি বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, আরাবী, উর্দু, হিন্দি ও ফার্সি ভাষায় পারদর্শী।
তিনি ‘সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার’ কর্তৃক ‘সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পদক এবং ‘ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আঞ্জুমান বাইতুশ শরফ কর্তৃক স্বর্ণ পদক ও সম্মাননা লাভ করেন।
ব্যবসায়িক জীবনে তিনি জাওয়াদ এন্টারপ্রাইজ, জেনুইন পোলট্রি ফার্ম, জেনুইন ফিশারি, জেনুইন ডেইরি ফার্ম তা’মীর সীড, তা’মীর এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ -এর স্বত্বাধিকারী এবং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানি STRATOSPHERE AVIATION এবং হংকং ভিত্তিক কোম্পানি Five Continents Financial Services Co Ltd -এর বাংলাদেশের প্রতিনিধি।
বিশিষ্ট ইসলামিক অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার মো. মুখলেছুর রহমান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর তত্বাবধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বিগত দিনে নকলা-নালিতাবাড়ী ও হালুয়াঘাট এলাকায় বহু মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সনে ভয়াবহ বন্যার সময় তিনি শেরপুরের নকলা-নালিতাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ও ক্ষতিগ্রস্ত আট শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করেন।
বন্যা পরবর্তী সময়ে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শেরপুরের নকলা, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতির শতাধিক পরিবারের মাঝে মো. মুখলেছ ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এই মানুষটি আমাদের এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসায় অনেক দামি কিতাব ও কার্পেট দান করেছিলেন। উনার দানের হাত অনেক প্রশস্ত।
ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এমপি নির্বাচিত হতে পারলে শেরপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একটি আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিক্ষার উন্নয়নে শেরপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কাজ করতে চান এই প্রতিভাবান মুখলেছুর রহমান। এ ব্যাপারে সর্বোতভাবে তার সহযোগিতায় এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।