মো. আব্দুল মান্নান
যারা নামাজ পড়ে না তারা অবুঝ। যদি বুঝতো তাহলে সব কাজ ফেলে আগে নামাজ পারতো। কেননা, হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, عن النبي ﷺ أنه قال: العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة، فمن تركها فقد كفر، وثبت عنه عليه الصلاة والسلام أيضاً أنه قال: بين الرجل وبين الكفر والشرك ترك الصلاة، أخرجه مسلم
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল সে কুফরি করলো। এক হাদীসের মধ্যে হুজুর (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তির কাজ একেবারে জুলুম, কুফর ও মুনাফেকি যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর অর্থাৎ মুয়াজ্জিনের ডাক শুনেও মসজিদে হাজির হয় না। (তারগীব : আহমদ, তাবারানী)
কাজেই বিনা ওজরে যারা নামাজ পড়ে না ওরা সুস্থ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের মধ্যে পড়ে না। ওরা পাগল বা তার চেয়েও অধম। ওদের কথা ভিন্ন। আজ আমরা কথা বলছি তাদের জন্য যারা নামাজ পড়েন, শুধু আজ বা কাল ধরে নয় বরং যুগ যুগ ধরে পড়ছেন অথচ তাদের নামাজ হচ্ছে না; নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী বা কৃষকরা অনেক সময় দেরি করে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়; বড় গুনাহ। আফসোস তাদের জন্য। বেচারারা কষ্ট করছে, এ কাজে সময় দিচ্ছে অথচ তাদের কাজটা হচ্ছে না অর্থাৎ নামাজটা হচ্ছে না; নিজেই নিজের নামাজটা নষ্ট করে ফেললো কিন্তু কিভাবে?
সূরা মারইয়ামের ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, فخلف من بعد هم خلف اضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات فسوف يلقون غيا- অর্থাৎ তাদের পরে এলো অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নামাজ নষ্ট করলো এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হলো। সুতরাং তারা অচীরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, নামাজ অসময়ে অথবা জামাআত ছাড়া পড়া নামাজ নষ্ট করার শামিল এবং বড় গুনাহ। এটা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, নখয়ী, কাসেম, মুজাহিদ, ইবরাহীম, উমর ইবনে আব্দুল আযীয প্রমুখ বিশিষ্ট তাফসীরবিদদের মত।
কেউ কেউ বলেছেন, সময়সহ নামাজের আদব ও শর্তসমূহের মধ্যে কোনটিতে ত্রুটি করা নামাজ নষ্ট করার শামিল। আবার কারো কারো মতে, ‘নামাজ নষ্ট করা’ বলে জামাআত ছাড়া নিজ গৃহে নামাজ পড়া বুঝানো হয়েছে। (কুরতুবী, বাহরে মুহীত)
জানা যায়, খলীফা হজরত উমর রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু সকল সরকারি কর্মচারীদের নিকট এ নির্দেশনা লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, ‘আমার নিকট তোমাদের সকল কাজের মধ্যে নামাজ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, যে ব্যক্তি নামাজ নষ্ট করে, সে দীনের অন্যান্য বিধি বিধান আরও বেশি নষ্ট করবে। (মুয়াত্তা মালেক)
হজরত হুজায়ফা (রা.) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে নামাজের আদব ও রোকন ঠিকমত পালন করছে না। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কবে থেকে এভাবে নামাজ পড়ছো? লোকটি বললো, ৪০ বছর ধরে। হুজায়ফা বললেন, তুমি একটি নামাজও পড়নি। যদি এ ধরনের নামাজ পড়েই তুমি মারা যাও, তবে মনে রেখো, মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত আদর্শের বিপরীতে তোমার মৃত্যু হবে।
তিরমিজিতে হজরত আবু মাসউদ আনসারী থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ওই ব্যক্তির নামাজ হয় না, যে নামাজে ‘একামত’ করে না। অর্থাৎ যে ব্যক্তি রুকু ও সিজদায়, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে অথবা দুই সিজদার মধ্যস্থলে সোজা দাঁড়ানো অথবা সোজা হয়ে বসাকে গুরুত্ব দেয় না, তার নামাজ হয় না।
কাজেই ভাই দোস্ত ও বুজুর্গ, আমরা যারা কষ্ট করে নামাজ পড়ি তারা যেন এর প্রতি যত্নশীল হই; এ কষ্টটাকে সার্থক করি। অর্থাৎ নামাজটা যেন সুন্দর ও আল্লাহ তায়ালার পছন্দমত করে আদায় করি, নষ্ট না করি। তাহলেই এ নামাজ আমার কবরে নূর হবে, হিসাবের সময় দলীল হবে ও নাজাতের উসীলা হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে প্রতিটি নামাজ সুন্দর করে আদায় করার তাওফীক দান করুক।