মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, মাসূম একজন সৎ রিকশাওয়ালা। সৎ রিকশাওয়ালা এখনো আছে। আমি মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে ফুলপুর উপজেলা পরিষদ হতে রিক্সাযোগে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে যাই। সেখানে গিয়ে নামার সময় ভুলক্রমে আমার হাত ব্যাগটি রিক্সায় রেখে একটি দোকানে প্রবেশ করি।

হঠাৎ ব্যাগের কথা মনে পড়ে। পরে দ্রুত গিয়ে দেখি রিকশাওয়ালা নেই। চলে গেছে। ব্যাগে ছিল ২টি দামী মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন সনদ, বাইকের চাবি, বাসা ও অফিসিয়াল চাবিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল।
পরে ব্যাগে থাকা মোবাইলে বার বার ফোন দিচ্ছিলাম। কিন্তু ফোন দিলেও রিসিভ হয়নি। মনে করেছিলাম যে, হারা গেছে। আর পাব না। কিন্তু এরপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সারা শহর হন্যে হয়ে খুঁজছিলাম তাকে কিন্তু দেখা মেলেনি কোথাও।

আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে হঠাৎ সে আমার ফোন রিসিভ করে এবং ব্যাগটি আমাকে ফিরিয়ে দেয়। রিকশাওয়ালা মাসূমের বাবা হারুন বেঁচে নেই। সে আমাদের ময়মনসিংহেরই ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের সঞ্চুর গ্রামের বাসিন্দা। ব্যাগটি পেয়ে কী যে খুশি হয়েছি তা বুঝাতে পারবো না। রিকশাওয়ালা ভাইটির প্রতি আমার আস্থা ভালোবাসা বেড়ে গেলো। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। সে সত্যিই একজন সৎ, মহৎ ও ভালো মনের মানুষ। তার জন্য মনখোলা দোয়া রইলো। আল্লাহ তায়ালা তাকে এর উত্তম বদলা দান করুক। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি।
* চশমা পরিহিত সিরাজুল ইসলাম খান।