আজ
|| ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
এবারের ঈদ ছিল আমার সেরা ঈদ
প্রকাশের তারিখঃ ১৯ এপ্রিল, ২০২৫
মো. আব্দুল মান্নান :
যতটুকু মনে পড়ে এবারের ঈদই আমার সেরা ঈদ। অনেক আনন্দ পেয়েছি এ ঈদে। রমজান মাসে যতটুকু আমল করা হয়েছে তুলনামূলক অন্যবারের চেয়ে বেশি বলে মনে হয়েছে। এ আনন্দ লিখে প্রকাশ করা যাবে না। ঈদের দিন যখন বলা হয়েছে যে, আজকের এই ঈদ তাদের জন্য যারা রোজা রেখেছেন, তারাবীহ পড়েছেন। আজ তাদের কোন ঈদ নেই যারা রোজা রাখেনি, তারাবীহ পড়েনি। এই হাদীস পড়ে কী যে আনন্দ পেয়েছি তা বুঝাবো কেমন করে!

আলহামদুলিল্লাহ, এবার রোজা রাখতে আমাদের কারো কোন সমস্যা হয়নি, কষ্ট হয়নি। অসুখ বিসুখ ছিল না। বাজারদর ছিল নিয়ন্ত্রণে। হাদীসে আছে, রমজানে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। এর প্রমাণও পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, একজন আমাকে হাদিয়া দিয়েছেন ৫০০০ টাকা। আরেকজন দিয়েছেন সাড়ে ৬০০০ টাকা। আরেক জায়গা থেকে পেয়েছি ৪০০০ টাকা। ইফতারের জন্য এক ভাগ্নি পাঠিয়েছিলেন ২০০০ টাকা। এছাড়াও ছোট দাগে বেশ কিছু হাদিয়া পেয়েছি।
সুস্থ ছিলাম। অসুখ বিসুখ হয়নি। ওষুধপত্র কিনতে হয়নি। বাজারে বা যেখানে গেলে গুনাহ হয়ে যায় ওইসব জায়গায় যাওয়া হয়নি বললেই চলে। আর ঈদের আগে ঈদকে কেন্দ্র করে যে বয়ান দিতে হয় মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, তা যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে। অনেকসময় বয়ান ভাল হয় না, মনমত হয় না। আলহামদুলিল্লাহ, এবার তা মনমত হয়েছে। মুনাজাত করার পর মনে হয়েছে যেন কবুল হয়ে গেছে। এতে মনে বাড়তি আনন্দ পেয়েছি।

এবার আরেকটি খুশির সংবাদ হলো- বরিশাল থেকে প্রায় ২৩ বছর পর আমার আপা এসেছিলেন। সাথে এসেছিলেন দুই ভাগ্নি, দুই নাতি ও ছোট ভাগ্নির জামাই ইমরান সাহেব। উনারা ৩ শাওয়াল সন্ধ্যায় আমাদের বাসায় এসে পৌঁছেন। ওইদিন আমাদের হালুয়াঘাটের ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের হাফেজ-আলেমদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। ওখানে আমার কিছু দায়িত্ব ছিল। যে কারণে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম যে, আপা ও ভাগ্নিরা যেন সন্ধ্যার দিকে এসে পৌঁছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ঘটনাক্রমে তাই হয়ে গেছে। প্রায় সারাদিন হালুয়াঘাটের কাওয়ালীজানে ছিলাম। উদ্বোধনী বক্তব্য রেখেছি। উপস্থাপনা করেছি।

অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর হয়েছিল। মনে হয়েছিল সার্থক হয়েছে। সবাই এটিকে খুব appreciate করেছেন। এর জন্য প্রধান উদ্যোক্তা হালুয়াঘাট গরুহাটা কাচারি বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব আমার বড়ভাইয়ের ছেলে হাফেজ মাওলানা সাজ্জাদুর রহমান ও কাওয়ালীজান এলাকার হারুনুর রশীদ সমাজসেবক হারুন ভাইকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না। তারাই কাওয়ালীজানের রয়েল স্টার ক্লাব ও তাদের কিছু বন্ধুদের নিয়ে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আর্থিক সহায়তাসহ এটিকে বাস্তবে রূপদান করেছেন। নড়াইলের বহু হাফেজ-আলেমের সাথে এ অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে; কথা হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ভাই এতে উপস্থিত ছিলেন। বলতে গেলে জন্মের পর ইউনিয়নভিত্তিক এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু নড়াইলে নয় অন্য কোথাও হতে দেখিনি। এ অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফেরার পর বরিশাল থেকে আমার প্রিয় মানুষগুলোর আগমন ঘটে।

এসেছিলেন আমার আপা একজন রত্নগর্ভা মহীয়সী মানবিক ও অতিথি পরায়ণ নারী নিলুফার ইয়াসমিন যিনি ছারছীনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদরাসায় অধ্যায়নকালে আমার অভিভাবক ছিলেন। আমার ভরণপোষণসহ প্রায় সবকিছুরই খোঁজ খবর রাখতেন। উনার বড় মেয়ে আমার ভাগ্নি ফাতিমা যিনি স্বরূপকাঠির একটি কলেজের ইংলিশ টিচার। ফাতিমার একমাত্র সন্তান আমার নানাভাই আব্দুল্লাহ। ছোট ভাগ্নি আমিনা এসেছিলেন যিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির টিচার। উনার হাসব্যান্ড আমাদের ভাগ্নি জামাই এসেছিলেন যিনি মহাখালীতে একটি প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্বরত। উনাদের একমাত্র সন্তান আমার আদরের নানাভাই ইজহানও এসেছিল। এর প্রায় ২৩ বছর আগে আমার আপা এই দুই ভাগ্নি ও ভাগ্নে হাবিবুল্লাহ প্রিন্সকে নিয়ে আমাদের গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। প্রিন্স আর নেই। ভাইজান আব্দুর রবও নেই। আল্লাহ তায়ালা উনাদেরকে জান্নাতে আলা মাক্বাম দান করুক।
এবার উনারা দুইদিন ছিলেন। এর মধ্যে আমাদের গ্রামের বাড়িতে ও আমার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আমার আম্মা, আমার মেয়েরা, মেয়ের জামাইরা, ভাইবোন, ভাবী, ভাতিজা, ভাতিজি ও ভাতিজার বউসহ গ্রাম থেকে অনেকেই বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। কী যে আনন্দ হয়েছিল তা লিখে বুঝানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির টিচার আমার স্নেহের ভাগ্নি আমিনা এ উপলক্ষে প্রচুর খরচ করেছেন। আমার ছেলেমেয়ে, নাতি, ঝি জামাই, আম্মা, দুই শ্বাশুড়ি, ছোট ভাইয়ের বউ ও বাড়িতে ভাতিজা বউ, শ্যালকের বউসহ প্রায় ২০ জনকে উন্নত মানের পোশাক হাদিয়া দিয়েছেন। এছাড়া ১০০-২০০ টাকা করে ২৩ জনকে টাকা হাদিয়া দিয়েছেন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল, যে মানুষগুলো অনেক কাছে থাকার পরও আমরা একত্রিত হতে পারি না তারা সবাই কিন্তু আপা ও ভাগ্নিদের আগমন উপলক্ষে একত্রিত হয়েছিলেন। বিয়ে সাদি উপলক্ষে ঘরে যেরকম মেহমানের উপস্থিতি থাকে ঠিক সেরকম অবস্থা হয়েছিল। অনেক মজা হয়েছে! অনেক মজা!! আলহামদুলিল্লাহ। সকলের জন্য শুভ কামনা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ. All rights reserved.