মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার ওসি আবুল খায়ের সোহেল বাল্যবিবাহের কুফল বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস নিলেন একটি কলেজে।
আজ রবিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে হালুয়াঘাট আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে তিনি এ ক্লাস নেন। ক্লাসে অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ওসি বলেন, তোমাদের অভিভাবকরা চান না যে তার ছেলেমেয়ে কুপথে চলে যাক। কি বল, চায়? শিক্ষার্থীরা ওসির কথায় সাড়া দিয়ে বলেন, জি না, স্যার।

ওসি বলেন, তারা সবাই চান তাদের ছেলেমেয়ে ভাল পথে চলুক, সুপথে চলুক। প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু যখন তারা ভাল পথে চলে না, মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, বুঝ বা বয়স না হওয়ার কারণে সুপথে থাকে না, অভিভাবকদের কথা শুনে না তখন তারা তাদের বিবাহ দিয়ে দেওয়ার চিন্তা করেন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী মেয়েদের ১৮ বছর আর ছেলেদের বয়স ২১ বছরের আগে বিয়ে দিলে বা করালে এটাকে বাল্যবিবাহ বলা হয়। সরকার মনে করে যে, এর আগে ছেলেমেয়েদের বুঝ পাকা হয় না, শরীর গঠিত হয় না, নানা সমস্যা হয়। এজন্য এই বয়সটাকে বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ধরা হয়েছে। এর আগে বিয়ে দিলে এটা আইনত: দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, কেউ কেউ অবৈধ সম্পর্ক করে ১৪/১৫ বছরের সময়ই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। কিন্তু এ বয়সে ছেলেমেয়ের বিবাহ কোন অভিভাবকই মেনে নিবেন না। নিবেন? শিক্ষার্থীরা বলেন যে, ‘না’ স্যার। তারপর তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে গিয়েও বিয়ে তারা করতে পারে না। কেননা, নাবালকের বিয়ে কেউ পড়াবেও না, রেজিষ্ট্রেশনও করা যায় না। এদিকে, অভিভাবকরা নিরুপায় হয়ে থানায় জিডি করেন। পরে পুলিশ তাদের খুঁজে বের করে নিয়ে আসে। এতে তাদের বা তাদের পরিবারের যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নেওয়ার মত না। সামাজিকভাবে মা-বাবা ছোট হয়ে যান, লজ্জিত হন। নিজেরাও সমাজে মুখ দেখাতে পারে না। কাজেই তোমরা এ ধরনের কাজ করবে না। ১৮ বা ২১-এর আগে কেউ বিয়ের চিন্তা করবে না। করলে তোমাদের শারীরিক সমস্যাসহ নানা সমস্যা হতে পারে। এছাড়া শ্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে বিয়ের পর যেসব দায়িত্ব অর্পিত হয় তা পালন করা তোমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। এজন্যই সরকার প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বাল্য বিয়েতে নিরুৎসাহিত করছে।

এসময় ওসির সাথে শিক্ষার্থীরা সবাই একমত পোষণ করেন এবং বাল্যবিবাহে জড়াবে না বলে ওসির সাথে ঐক্যমত পোষণ করেন।
এসময় ওসি আবুল খায়েরের সাথে হালুয়াঘাট থানার এএসআই আশেক আলী, হালুয়াঘাট আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) স্নিগ্ধা হালদার ও অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।