মো. আব্দুল মান্নান :
সৌদির সাথে মিল রেখে শুধু ঈদ কেন? শুধু ঈদের নামাজের অনুকরণ করলে হবে না, সকল কাজেই তাদের অনুকরণ করতে হবে।
আজ রবিবার (৩০ মার্চ) যারা সৌদির সাথে মিল রেখে ঈদ করে ফেললেন উনারা কি সৌদির সাথে মিল রেখে সাহরী খেয়েছিলেন? উনারা কি সৌদির সাথে মিল রেখে সব কাজ করেন বা প্রতিদিন ইফতার করেছিলেন? করেননি। তাহলে শুধু ঈদ করার সময় এত মিল কেন? আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী বানাইছেন এমন গোল করে যে, সূর্য বা চাঁদ যখন এর উপর দিয়ে ঘুরে তখন উহার উপর নির্ভর করে পৃথিবীতে রাত দিন হয়। কোন জায়গায় যখন রাত তখন অন্য জায়গায় দিন হয়। আবার কোন জায়গায় তিন ঘন্টা আগে সূর্য ডুবে গেলে সেখানে রাত হয়ে যাবে কিন্তু তখন যেখানে সূর্য ডুবেনি সেখানে তো রাত হবে না। তাহলে সেখানের মানুষের উপর সূর্য ডোবার পরে যে আমল আছে কেন তা আগেই প্রয়োগ হবে? এটা হতে পারে না। কেননা, সূর্য ডোবার পরে যেসব আমল আছে সেগুলো সূর্য ডোবার পরই করতে হবে। আগে করলে হবে না। এক মিনিট আগে যদি কেউ ইফতার খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙে যায়। অতএব, এক মিনিট সময় যদি এত গুরুত্ব রাখে যে, এক মিনিট আগে ইফতার করলে রোজা ভেঙে যায় তাহলে সৌদির সাথে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান প্রায় তিন ঘন্টা। এই তিন ঘন্টা সময়ের ব্যবধান কেন গুরুত্ব থাকবে না? তিন ঘন্টা ব্যবধানে রমজান মাস থেকে যেতে পারে। রমজান থাকা অবস্থায় যদি কেউ রমজানকে শাওয়াল ধরে ঈদ করে ফেলেন বা রমজান মাস আসার আগেই শাবানকে রমজান হিসেবে গণ্য করে রমজানের রোজা রাখেন তাহলে এটা কতবড় অপরাধ অনুভব করেছেন কি? এসব মাসকে ত্রুটিযুক্ত করা হলো। অথচ সূরা মূলকের ৩ ও ৪নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, (৩) ‘তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টি ফিরাও। কোন ফাটল দেখতে পাও কি? (৪) অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ। তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।’ (তবু আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির মধ্যে কোন ত্রুটি খুঁজে পাবে না।) তাহলে যারা মনে করছেন যে, আমি যদি আগেই অর্থাৎ শাবান মাসের একদিন থাকতে রমজানের রোজা শুরু না করি তাহলে রোজা একটা কম হয়ে যাবে। অথবা রমজানের দিন একটা থাকতেই ঈদ করে ফেললেন। এটা কি এরকম নয় যে, একজনের সন্তানকে যদি আরেকজনের সন্তান গণ্য করা হয় তাহলে যেমন অপরাধ, এক মাসের দিনকে আরেক মাসে নিয়ে জুড়ে দেওয়া তেমনই অপরাধ? অতএব, আমাদের বাংলাদেশে সূর্য না ডুবলেও চাঁদ দেখা না গেলেও আমরা রোজা ভেঙে ফেলবো, এটা হয় না। দীনী বিষয়কে যারা মনগড়া বিবেচনায় নিয়ে আমল করবে বা এ নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করবে, মানুষের ফরজ রোজা ভেঙে ফেলার পাঁয়তারা করবে, মুসলমানের আমলকে নষ্ট করবে তাদেরকে অবশ্যই এর জন্য দুনিয়াবাসীর নিকট জওয়াবদিহি না করলেও আল্লাহ তায়ালার নিকট জওয়াবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুক।