সাইদুর রহমান রিমন :
পাসওয়ার্ড জটিলতায় লক হয়ে যাওয়া আমার মেইল বহু কষ্টে ওপেন করাতে সক্ষম হলাম। খুঁজে খুঁজে পেয়ে গেলাম সেন্ড করা মেইলটি। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের নির্ধারিত ফরমের বাইরে বিশেষভাবে নির্দেশিত হয়ে গণমাধ্যম বিষয়ক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার মেইলটি পাঠিয়েছিলাম সরাসরি শ্রদ্ধাভাজন কামাল ভাইয়ের হট মেইলে। তিনি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান।
১২ ফেব্রুয়ারি লেখা প্রস্তাবনাগুলো বারবার দেখে শুনে আমি ১৭ ফেব্রুয়ারি সেন্ড করেছিলাম। দুই পাতা জুড়ে লেখা প্রস্তাবনা সমূহে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় বিদ্যমান সমস্যা-অসঙ্গতির নানা বিষয় তুলে ধরে সেগুলো সমাধানের পথও বাতলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
গতকাল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মফস্বলে কর্মরত অনেক সাংবাদিক বন্ধু ফোনে, ম্যাসেজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, তাদের ব্যাপারে কেউ কোনো প্রস্তাব পর্যন্ত দেয়নি বলে কমিশন বরাবরের মতোই মফস্বল সাংবাদিকদের অবজ্ঞা অবহেলা করেছেন, পুরোপুরি বঞ্চিত রেখেছেন হাজারও সংবাদকর্মী।
প্রস্তাবনার মেইলটি ওপেন করতে না পারায় প্রমাণ ছাড়া কাউকে বলে বুঝাতে পারিনি যে, একজন সাঈদুর রহমান রিমন ঠিকই মফস্বল সাংবাদিকদের দুর্দশা লাঘবে চার-পাঁচটি প্রস্তাব ঠিকই কমিশনে দাখিল করেছিলাম। হয়তো কমিশনের অভিজাত সদস্যদের কাছে সবগুলো প্রস্তাব পাত্তা পায়নি। তবে কমিশন সূত্রে এটাও জেনেছি যে, তাদের বিশদ বিবরণীতে আমার সবগুলো প্রস্তাবনাই ঠাঁই পেয়েছে। কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নকালে রেফারেন্স আকারে এ প্রস্তাবগুলোও উঠে আসবে। সেক্ষেত্রে প্রস্তাবনায় উত্থাপিত বিষয়সমূহেও কম বেশি পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগতেই পারে।
বাকি যে-সব প্রস্তাবনা দিয়েছি সেগুলোর সরাসরি বিপরীতে কমিশন সুপারিশ করেছে কি না- সেটাই ভাবছি আমি। এমন কিছু হয়ে থাকলে হয়তো নিজে নিজেই লজ্জা পেয়ে যাবো। বুঝতে পারবো- দেশে গণমাধ্যম সেক্টরে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করার মতো যোগ্যতাই অর্জন করতে পারিনি অথচ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা নিয়ে লম্বা লম্বা বুলি আওড়িয়ে থাকি।
প্রিয়ভাজন সাংবাদিক বন্ধুরা, আমার প্রস্তাবনার সাথে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালার বৈপরীত্যগুলো খুঁজে দেখতে থাকি আর শিখতে থাকি।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনে দাখিলকৃত সুপারিশ/প্রস্তাবনা :
প্রেরক
সাঈদুর রহমান রিমন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
দৈনিক দেশবাংলা, ঢাকা
পত্রিকাগুলোর ব্যাপারে ডিএফপি কর্তৃক নিয়মিত যে ভৌতিক প্রচার সংখ্যা প্রকাশ করা হয়- সেই অনৈতিক কাজটি প্রথমেই কঠোর হস্তে বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে।
* এই প্রচার সংখ্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই দেশের মিডিয়া সেক্টরে সিংহভাগ অনিয়ম, দুর্নীতি, অপকর্ম ঘটে থাকে।
* ৫০০ থেকে ১০০০ কপি পত্রিকা ছাপানো অন্তত ১৫টি পত্রিকার সার্কুলেশন দেখানো হয় দেড় লক্ষাধিক কপি।
* এ পত্রিকাগুলো ১৫/২০ হাজার টাকার বেশি কাউকে বেতন দেয় না অথচ ডিএফপির প্রতিবেদনে সাক্ষ্য দেয়া হয় তারা নাকি ৮ম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করছে!
এ দুটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক তথ্য সম্পৃক্ত প্রতিবেদনের কারণে (যা মিডিয়াপাড়ায় ডিএফপি‘র ভৌতিক প্রতিবেদন হিসেবে পরিচিত) সংশ্লিষ্ট পত্রিকার ব্যবসায়ী মালিকেরা সর্বোচ্চ স্বার্থসিদ্ধি করে থাকে।
* তারা সরকার থেকে ৯০০ টাকা কলাম ইঞ্চি দরে বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নেয় এবং সারাদেশ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিজ্ঞাপন কুক্ষিগত করতে সক্ষম হয়। একইসঙ্গে লাখ লাখ কপি পত্রিকা ছাপানোর হিসেব কষে বিনা শুল্কে শত শত টন কাগজ আমদানির ছাড়পত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করে থাকে।
* একইভাবে আরো অর্ধ শতাধিক পত্রিকা রয়েছে যেগুলো প্রতি মাসে বড়জোর ৫/৬টি সংখ্যা প্রিন্ট করে থাকে (সেটিও বিজ্ঞাপন পাওয়ার উপর নির্ভর করে) – তাদেরও ৮ম ওয়েজবোর্ডে বেতন ভাতা প্রদানকারী এবং এক লাখ ৪১ হাজার কপি পর্যন্ত প্রচার সংখ্যা থাকার ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান করেছে ডিএফপি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোও ৫৮৮ টাকা থেকে ৮৯৮ টাকা পর্যন্ত কলাম ইঞ্চি দরে সরকারি বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নিয়ে থাকে।
* ডিএফপি‘র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু শুধু মনগড়া এ ভৌতিক প্রতিবেদন দেন তা কিন্তু নয়। যে কোনো পত্রিকার ক্ষেত্রে প্রতি ১০,০০০ কপি বাড়তি প্রচার সংখ্যা দেখানোর বিপরীতে তারাও পত্রিকা মালিকদের থেকে ২৫ হাজার টাকা হারে ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে থাকেন। আর নিয়মিত পত্রিকা না ছাপিয়েও ডিএফপি‘র মিডিয়া তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয় আলাদা আলাদা রেটে ঘুষ দেয়ার মাধ্যমে।
* ধাপে ধাপে মাত্রাতিরিক্ত ঘুষ লেনদেনের কারণে ব্যাপক সংখ্যক সার্কুলেশন দেখানো পত্রিকাগুলোর ব্যাপারেও ডিএফপি তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রাখতে ব্যর্থ হয়। যেমন প্রতি বছর সরকারিভাবে প্রদানকৃত বিশটিরও বেশি ক্রোড়পত্র (যা এক-দুই পাতা জুড়ে ছাপানো হয়) নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকাকে প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে মোট বিজ্ঞাপন মূল্যের অর্ধেক টাকা অগ্রিম হারে ডিএফপির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার হাতে পৌঁছে দেয়ার রেওয়াজ চালু রয়েছে।
১) অতিরিক্ত সার্কুলেশন সংখ্যা দেখানো জালিয়াতির ব্যাপারে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন যদি অনির্ধারিতভাবে প্রেসে প্রেসে পত্রিকা ছাপানো অবস্থায় ‘প্রিন্ট কপি‘র সংখ্যা গণনার অভিযান চালাতে পারে তাহলে হাতেনাতে জাল-জালিয়াতি ধরা পড়তে বাধ্য।
২) অনুমোদনহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, আইপি টিভি বন্ধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান এবং তা নিশ্চিত করা।
৩) সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সংক্রান্ত সকল সংগঠনের যাবতীয় বিষয় যাচাই বাছাইপূর্বক সেসবের অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা কেবল মাত্র তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা। কারণ, নিয়ন্ত্রণহীন নিবন্ধনের সুযোগে ভুয়া আর প্রতারকরা দেশজুড়ে ‘সাংবাদিক সংগঠনের’ দোকান খুলে বসেছে। সীমাহীন বিশৃঙ্খলাপূর্ণ এ বেহাল অবস্থার অবসান ঘটাতে দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন দেওয়াসহ তদারকির আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
জয়েন্ট স্টক, সমাজে সেবা অধিদপ্তর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম দপ্তর কিংবা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে সাংবাদিক সংগঠন সংক্রান্ত কোনো অনুমোদন প্রদান বন্ধ ঘোষণা করা। এসব দপ্তর থেকে আগে অনুমোদন দেওয়া সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ব্যাপারে পুনরায় পর্যবেক্ষণ, সেসব সংগঠনে প্রকৃত সাংবাদিকরা যুক্ত থাকা না থাকার বিষয়টি তদারকির প্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
* সরকার অনুমোদিত প্রিন্ট মিডিয়া, টিভি চ্যানেল, বার্তা সংস্থা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরাই কেবল সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন এবং সরকারিভাবে প্রণীত সাংবাদিক তালিকায় তাদের নাম-পরিচয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। কন্টেইন ক্রিয়েটর, টিকটকের ভিডিও নির্মাতা, ফেসবুকে লাইভ ভিডিও নির্মাতা কিংবা পেইজ চালানো ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয় প্রদান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
* সাংবাদিকতা করতে হলে কমপক্ষে এইচ.এস.সি পাস হতে হবে। তবে দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান পেশাগত দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিবর্গকে এ বাধ্যবাধকতার আওতামুক্ত রাখতে হবে।
* শুধু ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই মিডিয়া সংক্রান্ত ৮০ ভাগ সংকট সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করি। মিডিয়াগুলো ওয়েজবোর্ড মানছেন কি না সেটি নিশ্চিত করতে কর্মীদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেতন ভাতা পরিশোধের ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি প্রতি মাসে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।
* বিগত সময়ে যাকে তাকে দেওয়া অনলাইন নিউজপোর্টালের অনুমোদন পুনরায় নির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সেখানে অযোগ্যদের নামে প্রদানকৃত অনলাইন পোর্টালের লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা সবচেয়ে জরুরি।
* সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেকে সংবাদ সংক্রান্ত কোনো ধরনের পোর্টাল, ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব চ্যানেল এক মুহূর্তের জন্য পরিচালনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। অননুমোদিতভাবে অনলাইনে সংবাদ সংক্রান্ত কোনরকম তৎপরতা চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
* অনুমোদিত অনলাইন পোর্টালগুলোতে পত্রিকার আদলেই সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দ প্রদানের নীতিমালা থাকতে হবে।
* সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; রাষ্ট্রীয়ভাবেই সে ঘোষণা থাকতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য পৃথক আইন থাকা উচিত। তাদের নিরাপত্তা বিধান করাটা রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে পরিগণিত হওয়া উচিত। সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের তল্লাশিমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
* জেলা প্রশাসক কর্তৃক পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করার ক্ষমতা রহিত করতে হবে।
* একই গণমাধ্যমে টানা দশ বছর যাবত পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের মালিকানার অংশীদারিত্ব প্রদান করতে হবে।
* মফস্বলে স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার পদ পদবিতে নিয়োগ প্রদান করা হলেও তাদের বেতন ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে খণ্ডকালীন কর্মী হিসেবে ধরা হয়। তাদেরকে স্কুলের নাইট গার্ড কিংবা মুদি দোকানের কর্মচারীর চেয়েও কম টাকা বেতন প্রদানের নজির রয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়েজ বোর্ডে স্টাফ রিপোর্টার-মফস্বল ক্যাটাগরি নামে বিশেষ গ্রেডে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা বেতন ধার্য করা উচিত।
* পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা-দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক সরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্নত চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ততাজনিত কারণে যে কোনো মামলা হলে তা পরিচালনার যাবতীয় ব্যয়ভার তার নিয়োগদাতা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বহনে বাধ্য থাকতে হবে।
* মফস্বলে একই ব্যক্তি কর্তৃক ৫/৬টি মিডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার নজির দেখতে পাওয়া যায়। এই অনৈতিক কাজটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সরকারি ঘোষণা থাকতে হবে। অন্য পেশায় নিয়োজিত কাউকে সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করাও নিষিদ্ধ করতে হবে।
* কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে, আঞ্চলিক/ব্যুরো অফিসে অথবা মফস্বলে সাংবাদিক নিয়োগ ক্ষেত্রে পিআইবি/প্রেস কাউন্সিল প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকতে হবে। তেমনই কোনো সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুত করার ক্ষেত্রেও সরকারি প্রতিনিধির উপস্থিতিসহ যৌক্তিকতা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন থাকতে হবে। মালিকপক্ষের খেয়ালখুশি মোতাবেক যখন তখন সাংবাদিক ছাঁটাই বন্ধে সরকার নিযুক্ত প্রতিনিধিকে ভ্যানগার্ডের মতো দায়িত্ব পালনকারী হতে হবে।
* ফকিরাপুল আরামবাগের একেকটি কম্পিউটার-গ্রাফিক্সের প্রতিষ্ঠানের সাধারণ টাইপিস্ট/মেকআপম্যান প্রতিদিন চুক্তিভিত্তিক ৫/৬টি করে দৈনিক পত্রিকা তৈরি করে থাকে। তাদের কাছে নিউজের মান, গুজব নির্ণয়ের অভিজ্ঞতা-সক্ষমতা বলতে কিছুই নেই। হাতুড়ে ডাক্তার স্টাইলে একটার পর একটা পত্রিকা প্রসব করে থাকে। মিডিয়া সেক্টরে এমন ফকিরাপুল মার্কার পত্রিকা প্রকাশের ব্যবস্থাপনাকে আন্ডারগ্রাউন্ড বলে অভিহিত করা হয়। যাদের পত্রিকা তৈরির পুরোপুরি সেটআপ নেই (ফকিরাপুলের কম্পিউটার গ্রাফিক্স দোকানের উপর নির্ভরশীল) তাদের পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন এ মুহূর্তেই বাতিল করা হোক। মূলত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকাগুলোই গণমাধ্যমের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
* অনেক ব্যক্তি আছেন যারা সাদাকালো প্রিন্টে একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশে মোটেও সক্ষম নন অথচ তারাই তিন চারটি করে পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন নিয়ে ঘৃণ্য বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা একেকটি পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন নিয়েই মোটা অঙ্কের বিনিময়ে শিল্পপতি-ব্যবসায়িদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ কারণে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত লোক, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, মানবপাচারকারী, গোল্ড স্মাগলারসহ রাষ্ট্রদ্রোহী ব্যক্তিবর্গও টাকা দিয়ে কিনে মিডিয়ার মালিক বনে যাচ্ছে রাতারাতি। এ কারণে মিডিয়া কেনা-বেচা, হস্তান্তর, পার্টনার গ্রহণের মতো যাবতীয় ব্যবসায়িক চুক্তি, দলিলপত্রাদি সম্পাদন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। একইসাথে এক ব্যক্তির নামে একাধিক মিডিয়ার লাইসেন্স/ডিক্লিয়ারেশন প্রদান নিষিদ্ধ করতে হবে।
* গণমাধ্যম থেকে রিপোর্টারের আইডি কার্ড বিতরণের বাণিজ্যকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। যেকোনো মিডিয়া তার কর্মীদের আইডি কার্ড প্রদান করতে হলে তার বায়োডাটাসহ যাবতীয় বিবরণ তথ্য অধিদপ্তরে পৌঁছে দিতে হবে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তা পর্যবেক্ষণপূর্বক সরকারিভাবে নির্ধারিত সাংবাদিক তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ করে ক্রমিক নম্বর পাঠিয়ে দিবেন মিডিয়া দপ্তরে। তারপর সেই ক্রমিক নম্বর যুক্ত করে মিডিয়া কর্তৃপক্ষ তার কর্মীকে আইডি কার্ড প্রদান করতে পারবেন।
তথ্য অধিদপ্তরের ক্রমিক নম্বরযুক্ত সাংবাদিক তালিকা যে কেউ অনলাইনে সার্চ দিয়েই যেন দেখতে পারেন-আসল নকল যেন সহজেই যাচাই করতে পারেন। সরকার প্রদত্ত ক্রমিক নম্বর ব্যতীত কোনো আইডি কার্ড ব্যবহারকারীকে পাওয়া গেলে সাথে সাথে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নির্ধারিত মেয়াদের কারাদণ্ডসহ জরিমানার বিধানও করতে হবে। তথাকথিত আইডিকার্ড বেচাকেনার বাণিজ্যে সাংবাদিকদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। এ কারণেই-এসব বিষয়ে সরকারের আপোষহীন ভূমিকা থাকা একান্তই প্রয়োজন।
(প্রস্তাবকারী দেশের দলবাজমুক্ত সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটি (BSC)-এর প্রধান উপদেষ্টা)
* লেখাটি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনে পাঠানোর
তারিখ- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
——সমাপ্ত——
বিশেষ দ্রষ্টব্য : সম্প্রতি এ বিষয়ে কাজ করছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।