মো. আব্দুল মান্নান :
কুল্লু নাফসিন জায়িক্বাতুল মাওত। সবাইকেই মরতে হবে। এ থেকে কারো রক্ষা হবে না। আইনামা তাকূনূ ইউদরিককুমুল মাওত। ওয়া লাও কুনতুম ফী বুরূজিম মুশাইয়্যাদাহ। তুমি যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাকে পাকড়াও করবেই। যদি সুকঠিন লৌহ নির্মিত খাঁচার মধ্যেও থাক, তবু।
বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েল নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও পৃথিবীর কারো কাছে মৃত্যু নিয়ে কোন মতবিরোধ নেই। সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে নেয় যে, তাকে মরতে হবে। তবে কথা হলো, কিছু কিছু মৃত্যুর আলামত বলে দেয় সে জান্নাতী নাকি জাহান্নামী?
ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা রোডের বাসিন্দা ফুলপুর ফারিয়ার সাবেক সভাপতি ও ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির সিনিয়র এমপিও মতিউর রহমান মতি (৫০)’র মৃত্যুটাও তেমনই সুন্দর একটা মৃত্যু। যা বলে দেয় যে, তিনি একজন জান্নাতী। কারণ, তিনি নামাজী ছিলেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। নিজ বাসায় তিনি স্ট্রোক করেন। পরে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রাত সাড়ে ১০টায় ফুলপুর আদর্শ মাদরাসার মক্তব শাখা চৌকস প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। এতে ইমামতি করেন মরহুমের ছোট বোন জামাই মাওলানা আবুল বাশার। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আবুল বাসার আকন্দ, ছনকান্দা বাজার জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ফুলপুর শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান সিদ্দিকী, মরহুমের বড়ভাই মোস্তফা, একমাত্র পুত্র নরসিংদী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ইফফাজুর রহমান মাহি, ফুলপুর থানা মসজিদের ইমাম ও খতীব মুফতী খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ। জানাজাশেষে তাকে থানা সংলগ্ন তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানা যায়, মতিউর রহমান মতির গ্রামের বাড়ি উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের কুটুরাকান্দা কান্দাপাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মরহুম মুখলেসুর রহমানের পুত্র। তবে তারা বহু বছর ধরে ফুলপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় নিজস্ব বাসায় বসবাস করেন। সম্প্রতি তিনি ফুলপুর মহিলা কামিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা আনিসুর রহমান পরিচালিত বয়স্কদের জন্য কুরআন শিক্ষা ক্লাসে ভর্তি হন ও কোর্স সম্পন্ন করেন। এমনকি কুরআনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরবর্তী ব্যাচের জন্য তিনি বেশ কয়েকজন বয়স্ক ছাত্রকেও উদ্বুদ্ধকরণ করে গেছেন। তার মৃত্যুটা ভালো হয়েছে এটা এর একটা প্রমাণ। এছাড়া তিনি রমজান মাসে ইন্তেকাল করেছেন। এটা আরেকটা ভালো লক্ষণ। এছাড়াও তিনি শুক্রবারে ইন্তেকাল করেছেন। শুধু তাই নয়, আসরের সময়। সময়টাও ভালো। এসব লক্ষ্মণে বুঝা যায়, তার মরণ খুবই চমৎকার হয়েছে। এত ভালো যে, আমরা আমাদের নিজেদের জন্যেও এমন মৃত্যু প্রত্যাশা করি। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে এরকম উত্তম ও ঈমানী মৃত্যু নসীব করুক।