মো. আব্দুল মান্নান :
নাটোরের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধতাকে স্যালুট দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটি (বিএসসি)’র প্রধান উপদেষ্টা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বহুবার মেডেল বিজয়ী সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন। তিনি বলেন, নাটোরের সাংবাদিকদের অভিনন্দন, তাদের ঐক্যবদ্ধতাকে স্যালুট!!

নানা মত, পথে বিভক্ত, ক্লাব – সংগঠনে পৃথক থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা পেশাদারিত্ব আর সাংবাদিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে মুহূর্তেই এক কাতারে দাঁড়িয়ে গোটা দেশকে দেখিয়ে দিলেন। প্রতিবাদী কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে গগণবিদারী আওয়াজ তুলে জানিয়ে দিলেন, তারা দল মত, ব্যক্তি স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে, অস্তিত্বের প্রশ্নে আপোষহীন।

সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফসল ”বিজয়” ছিনিয়ে তবেই ঘরে ফিরেছেন। সমকালের সাংবাদিক আব্দুর রশিদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে জেলা সাংবাদিকদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাত উপজেলার সাংবাদিকরা যেভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল করে তুলেছেন, সাংবাদিক রশিদকে মুক্ত না করা পর্যন্ত ঠাঁয় অবস্থান নিয়েছেন – তা নজিরবিহীন। উপজেলা সাংবাদিকদের এহেন আন্তরিকতায় জেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকরা মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারাও অঙ্গীকার করেন নাটোরের সাত উপজেলার সকল সাংবাদিকের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে। দিনভর অভাবনীয় দৃশ্যপটের সূচনা ঘটে নাটোরে।
যা কিছু ঘটে
————-
নাটোর আদালত চত্বরে গণমাধ্যম -কর্মীদের ওপর সাবেক এসপি এস.এম ফজলুল হকের হামলা এবং সিংড়ায় তথ্য চাওয়ায় ডেভিল হান্টের নামে সমকালের সাংবাদিক আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নাটোরের ৭টি উপজেলার গণমাধ্যমকর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সচেতন মহল।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে নাটোর জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় তারা। সেখানে বিক্ষোভ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে সমবেত হয়। প্রায় তিনঘন্টাব্যাপী সেখানে অবস্থান করে সাংবাদিকরা।
এসময় সাংবাদিকরা সিংড়া থানার ওসি, ইউএনও ও উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেই সাথে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী বরখাস্তকৃত পুলিশ সুপার ফজলুল হকের শাস্তি দাবি করেন। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।
এসপি কারাগারে, সাংবাদিক গ্রেফতার
—————————————–
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে বরখাস্তকৃত পুলিশ সুপার ফজলুল হক স্ত্রী নির্যাতন মামলায় আদালতে হাজির হলে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বিচারক। পরে তাকে কারাগারে নেবার সময় পুলিশের কাছ থেকে ছুটে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ক্যামেরা ভাংচুরের চেষ্টা চালায় ফজলুল হক।
অপরদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় সমকালের সিংড়া প্রতিনিধি আব্দুর রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিংড়া ইউএনও অফিসে খাস পুকুরের তথ্য চেয়ে আবেদন করায় তাকে ডেভিল হান্টে গ্রেফতারের নাটক সাজায় বলে অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক রশিদকে আদালতে হাজির করলে তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
অবস্থান কর্মসূচিতে নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র করেসপনডেন্ট নাজমুল হাসান জানান, সিংড়ার ইউএনওর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদ আলী মোল্লার অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে বুধবার সন্ধ্যায় সমকালের সিংড়া প্রতিনিধি আব্দুর রশিদকে আটক করে সিংড়া থানা পুলিশ। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়াটাই কি তার অপরাধ? সারাদেশব্যাপী সাংবাদিকদের প্রতি যে দমন পীড়ন তারই অংশ হিসাবে সাংবাদিক রশিদকে আটক করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে একজন বরখাস্তকৃত এসপি ফজলুল হক আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে তার শাস্তি দাবি করছি।
ইউনিক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি বুলবুল আহমেদ বলেন, তথ্য চাওয়ায় একজন মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীকে প্রশাসন কৌশল করে গ্রেপ্তার করিয়েছে। একজন সাংবাদিককে ডেভিল আখ্যায়িত করেছে এই পুলিশ। তাদের ঔদ্ধত্য কতটুকু একবার চিন্তা করেন। অথচ সবচেয়ে বড় ডেভিল হচ্ছে সিংড়ার ওসি এবং ইউএনও। সকল সেক্টরে অনিয়ম দুর্নীতি সয়লাব হয়ে গিয়েছে। তারা সেগুলো নির্মূল না করে নিজেরাই দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়ে সকল অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। আমরা হুশিয়ার করে বলে দিতে চাই, আপনারা নাটোরে পুলিশ- প্রশাসন কি সাংবাদিকদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন? যদি তাই করেন, আমরাও তা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছি।
সমকালের নাটোর প্রতিনিধি নবীউর রহমান পিপলু বলেন, সাংবাদিকের উপর দমন পীড়নের চেষ্টা করা হলে তা এভাবেই প্রতিহত করা হবে।
সাংবাদিকদের এভাবেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে উৎসাহিত করেন সাইদুর রহমান রিমন। তিনি তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও স্যালুট জানান।