মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে অবৈধভাবে রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের কারখানা গড়ে উঠেছে। ঢাকা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সাহাপুর পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশনের বিপরীতে হাতেম মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন এ কারখানা গড়ে উঠে।

এতে দ্বীন ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, ইলিয়াস, সাখাওয়াত, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর বাড়ির লোকজনসহ আশপাশ এলাকার লোকজন পরিবেশগতভাবে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছেন। এমনকি ঢাকা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হওয়ায় যানবাহনের যাত্রীসহ পথচারীরাও এর কুফল থেকে মুক্ত নয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, এসব রাসায়নিক দ্রব্য বাতাসের সাথে উড়ে গিয়ে আশপাশের বাড়িঘর ও গাছপালা হলুদের মত কালার ধারণ করেছে। কারখানার শ্রমিকরা রাতব্যাপী কাজ করে সকালে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে ইটের সুরকি জাতীয় জিনিস বা এক ধরনের পদার্থ দিয়ে কবুতরের খাবার, লাল সার ইত্যাদি তৈরি করা হয়। ইট জাতীয় জিনিস গুঁড়ো বা অত্যন্ত মিহিন করে চালুন দিয়ে ছেঁকে বস্তাবন্দি বা প্যাকেট করা হয়। এরপর এসব প্যাকেট তাদের কোম্পানিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এগুলো গুঁড়ো বা মিহিন করার সময় ধুলার মত হয়ে বাতাসের সাথে উড়তে থাকে। ভেসে বেড়ায় বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন বাড়িঘরে গিয়ে পড়ে। যা পরিবেশের জন্য খুবই মারাত্মক ও হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে আশপাশের বাড়িঘরওয়ালারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা খাবার খেতে পারছেন না। কাপড় চোপড়, ঘরের আসবাবপত্র ঠিকঠাক রাখতে পারছেন না। প্রতিনিয়ত দরজা জানালা দিয়ে তাদের ঘরদুয়ারে এসব গুঁড়ো বা ইটের খোয়া জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য উড়ে গিয়ে পরিবেশকে চরমভাবে দূষিত করছে।
জানা যায়, প্রায় ৪-৫ মাস ধরে এরকম অবস্থা চলছে। অবৈধ এ কোম্পানিটি সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন ছাড়পত্র নেয়নি। এর নাম দেওয়া হয়েছে খান ট্রেডার্স। খান ট্রেডার্সের ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান আপেল জানান, এখনো আমরা এর অনুমোদন পাইনি। তবে কাগজপত্র ঠিকঠাক করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পরিবেশ দূষণের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এটা আমরা বুঝি। এইন্দাও আমরার আত্মীয়, হেইন্দাও আমরার আত্মীয়। আত্মীয়তার খাতিরে আপাততঃ চালিয়ে যাচ্ছি। তারা এখনো এ বিষয়ে কোন মুখ খুলছেন না বা কোন প্রতিবাদ করছেন না। তবে এখানে জিনিসটা চালাতে হলে তাদের সম্মতি নিয়েই চালাতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, বে আইনী এবং পরিবেশ দূষণকারী এসব অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।