মো. আব্দুল মান্নান :
রমজানুল মুবারক মাস চলতেছে। আমরা অনেকেই জানি, কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়। তারপরও নতুন করে আবারও মুজাকারা করছি। অধিক আলোচনার দ্বারা ইলম বাড়ে। পরিবারের সদস্যদের সাথে বিষয়গুলো আলোচনা করবো। তাহলে সবারই জানা ও শেখা হয়ে যাবে।
প্রথমত: কানে বা নাকে ওষুধ দিলে রোজা ভেঙে যায়। এর জন্য শুধু কাজা ওয়াজিব হয়। দ্বিতীয়ত: ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করলে বা অল্প বমি আসার পর তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যায়।
৩. কুলি করার সময় অনিচ্ছাবশত: কণ্ঠনালীতে পানি চলে গেলে। ৪. স্ত্রী বা কোন নারীকে শুধু স্পর্শ প্রভৃতি করার কারণেই বীর্যপাত হয়ে গেলে। ৫. এমন কোন জিনিস খেলে যা সাধারণত: খাওয়া হয় না। যেমন- কাঠ, লোহা, কাগজ,পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি। ৬. বিড়ি সিগারেট বা হুক্কা সেবন করলে রোজা ভেঙে যাবে। ৭. আগরবাতি বা এ ধরনের ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে বা হলকে পৌঁছালে। ৮. ভুলে পানাহার করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কিছু পানাহার করলে। ৯. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদেকের পর সাহরী খেলে। ১০. ইফতারের সময় হওয়ার আগেই সময় হয়ে গেছে মনে করে ইফতার করে ফেললে। ১১. দুপুরের পর রোজার নিয়ত করলে। ১২. দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে তা যদি থুথুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালীর নিচে চলে যায়। ১৩. কেউ জোরপূর্বক রোজাদারের মুখে কিছু দিলে এবং তা কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গেলে। ১৪. দাঁতে কোন খাদ্য টুকরা আটকেছিল এবং সুবহে সাদেকের পর তা যদি পেটে চলে যায় তবে সে টুকরা ছোলা বুটের চেয়ে ছোট হলে রোজা ভেঙে যায় না। তবে এরূপ করা মাকরূহ। কিন্তু মুখ থেকে বের করার পর গিলে ফেললে তা যতই ছোট হোক না কেন রোজা কাজা করতে হবে। ১৫. হস্তমৈথুন করলে যদি বীর্যপাত হয়। ১৬. পেশাবের রাস্তায় বা স্ত্রীর যোনিতে কোন ওষুধ প্রবেশ করালে। ১৭. পানি বা তেল দ্বারা ভিজা আঙুল যোনিতে বা পায়খানার রাস্তায় প্রবেশ করালে। ১৮. শুকনো আঙুল প্রবেশ করিয়ে পুরোটা বা কিছুটা বের করে আবার প্রবেশ করালে। আর যদি শুকনো আঙুল একবার প্রবেশ করিয়ে একবারেই পুরোটা বের করে নেয় আবার প্রবেশ না করায় তাহলে রোজার অসুবিধা হয় না। ১৯. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে গেলে এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদেক হয়ে গেলে। ২০. নস্যি গ্রহণ করলে বা কানে তেল ঢাললে। ২১. কেহ রোজার নিয়তই যদি না করে তাহলেও শুধু কাজা ওয়াজিব হয়। ২২. স্ত্রীর বেহুশ থাকা অবস্থায় কিংবা বেখবর ঘুমন্ত অবস্থায় তার সাথে সহবাস করা হলে ওই স্ত্রীর উপর শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। ২৩. রমজান ব্যতীত অন্য নফল রোজা ভঙ্গ হলে শুধু কাজা ওয়াজিব হয়। ২৪. এক দেশে রোজা শুরু করার পর অন্য দেশে চলে গেলে সেখানে যদি নিজের দেশের তুলনায় আগে ঈদ হয়ে যায় তাহলে নিজের দেশের হিসেবে যে কয়টা রোজা বাদ গেছে তার কাজা করতে হবে। আর যদি সেখানে যাওয়ার পর রোজা এক দুইটা বেড়ে যায় তাহলে তা রাখতে হবে। এসব অবস্থায় শুধু কাজা করলেই হবে।
আর কিছু অবস্থা আছে যে কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং কাজা কাফফারা উভয়টাই ওয়াজিব হয়। যেমন- ১. রোজার নিয়ত রাতে করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে। ২. রোজার নিয়ত করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সম্ভোগ করলে। স্ত্রীর উপরও কাজা কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব হবে। স্ত্রীর যোনির মধ্যে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করালেই কাজা কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব হবে। এতে বীর্যপাত হোক বা না হোক। ৩. রোজার নিয়ত করার পর যদি পুরুষ তার পুরুষাঙ্গ স্ত্রীর পায়খানার রাস্তায় প্রবেশ করায় এবং অগ্রভাগ ভিতরে প্রবেশ করে তাহলেও পুরুষ স্ত্রী উভয়ের উপর কাজা ও কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব হবে। ৪. রোজা অবস্থায় কোন বৈধ কাজ করলে যেমন- স্ত্রীকে চুম্বন দিল কিংবা মাথায় তেল দিল তা সত্ত্বেও সে মনে করলো যে, রোজা নষ্ট হয়ে গেছে। এরকম মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার ইত্যাদি করলো তাহলেও কাজা কাফফারা উভয়টা ওয়াজিব হবে।
বিষয়গুলো আমরা আরও ভালভাবে স্টাডি করবো এবং এসব কাজ থেকে বিরত থাকবো। যদি কেহ এসব অবস্থার কোন একটিতে নিপতিত হয় তাহলে তাকে এ মাসআলা অনুযায়ী আমল করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে বুঝার ও আমল করার তাওফীক দান করুক।