মো. আব্দুল মান্নান :
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র সাংবাদিক সাবেক মফস্বল এডিটর ক্র্যাব মেম্বার আমাদের দরদী অভিভাবক আলহাজ্ব মোস্তফা কাজল ভাই আর নেই। তিনি আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টায় ঢাকা মীরপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মোস্তফা ভাই দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যাসহ নানা সমস্যায় ভোগছিলেন।
তিনি আমার অত্যন্ত কাছের একজন মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে যে অমায়িক ব্যবহার উপহার দিয়ে গেছেন তা কোনদিন ভুলতে পারবো না। বার বার তাকে মনে পড়ছে।
মোস্তফা ভাই একজন হাজী সাহেব ছিলেন। অন্তত ১০ বারের বেশি তিনি উমরাহ করেছেন। নামাজী মানুষ ছিলেন। সিম্পল জীবন যাপন করতেন। ঢাকা মীরপুর মাজার রোড এলাকায় উনার নিজস্ব বাড়ি। সৎ মানুষ ছিলেন। কর্মঠ ছিলেন। সহকর্মীদের মূল্যায়ন করতেন।
২০১৭ সনের ৩ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমার প্রথম লেখা ছাপা হয়। এরপর বহুবার এই প্রিয় পত্রিকাটি থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। লক্ষ টাকা ঘুষের অফার দিয়েও চেষ্টা করা হয়েছে যেন আমাকে বাদ দিয়ে ওই ঘুষদাতাকে নেওয়া হয়। তবু তারা আমাকে বাদ দেননি। এজন্য ধন্যবাদ জানাই প্রিয় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদকসহ শ্রদ্ধাভাজন সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরকে। তারা কোন ঘুষের বশবর্তী বা কোন কান কথায় বা আত্মীয়ের পক্ষ নিয়ে কাজ করেন না।
আজ যিনি মারা গেলেন এই ভাইটি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। উনার উসীলায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের অফিসে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। তিনি এমন একজন অভিভাবক ছিলেন যিনি মোবাইলেও অ্যাডভাইজ করতেন। বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন কিভাবে বা কেমন নিউজ করতে হবে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও মোবাইল রিসিভ করতেন। যারা বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমাকে ধরে রেখেছেন মোস্তফা কাজল ভাই তাদের মধ্যে অন্যতম একজন।
আমি তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা যেন উনাকে জান্নাতে সর্বোচ্চ মাক্বাম দান করেন। আর তার পরিবারের সদস্যদের যেন সবরে জামিল এখতিয়ার করার শক্তি দেন। উনাকে বাদ ইশা জানাজাশেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। ভাইজানের জন্য আমার শুভাকাঙ্ক্ষী যারা আছেন তাদের সকলের নিকট দোয়া কামনা করছি।